সমুদ্রে তেল মিশে বিপজ্জনক অবস্থা

সমুদ্রে মিশেছে হাজার টন তেল! মরিশাসে জাহাজ দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত জলজীবন

তেলের বিষাক্ত হাইড্রোকার্বনে ঝলসে যাচ্ছে প্রবাল প্রাচীর, বলছেন সমুদ্র বিজ্ঞানীরা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৩, ২০২০, ১৮:৪৭

options
link
সমুদ্রে মিশেছে হাজার টন তেল! মরিশাসে জাহাজ দুর্ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত জলজীবন

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সমুদ্রের নিচে ঘটে গিয়েছে বড়সড় দুর্ঘটনা। যার জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে জলজীবন (Marine Life) । পৃথিবীর অন্যতম বড় প্রবাল প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে উলটে গিয়েছে তেলভরতি জাপানি জাহাজ। তাতেই বিপত্তি। প্রায় হাজার টন তেল মিশে গিয়েছে সমুদ্রের জলে। বিপন্নতার মুখে সমুদ্রগর্ভের জীববৈচিত্র্য। দুশ্চিন্তায় সমুদ্রবিজ্ঞানীর দল।

Advertisement

Oil-Spill

Advertisement

জুলাইয়ের শেষদিকে জাপানের নাগাসাকি শিপইয়ার্ড থেকে তেল নিয়ে রওনা দিয়েছিল। গত ৭ তারিখ মরিশাসের কাছে একটি প্রবাল প্রাচীরে ধাক্কা খায় এমভি ওয়াকাশিও নামের জাহাজটি। তারপর থেকে জাহাজ ফুটো হয়ে তেল চুঁইয়ে (Oil Spill) পড়তে শুরু করে। এত দ্রুত তা সমুদ্রের জলে মিশতে থাকে যে জাহাজে থাকা চার হাজার টন তেলের মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যেই হাজার টন তেল মিশে যায়। দুর্ঘটনা খবর পেয়ে জাহাজে থাকা তেল হেলিকপ্টারে করে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। বলা হচ্ছে, সমুদ্রের তলদেশের জীববৈচিত্র্যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেলের প্রভাবে। জলের রং পালটে নীলচে হয়ে গিয়েছে। তা আপাতভাবে দেখতে অনেক মোহময়ী লাগলেও, শত বিপদ লুকিয়ে এর মধ্যেই।

Advertisement

[আরও পড়ুন: OMG! প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই ব্যাংক থেকে মিলবে মাস্ক, স্যানিটাইজার]

এই দুর্ঘটনা আর পাঁচটা দুর্ঘটনার চেয়ে আলাদা বলে মনে করছেন সমুদ্রবিজ্ঞানীরা। কারণ, সমুদ্রের যে অংশে জাহাজটি প্রবাল প্রাচীরে (Coral Reef) ধাক্কা খেয়েছে, তার দু’দিকে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জলজ জীবন। রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের মেরিন পার্ক – ব্লু বে সংরক্ষিত অঞ্চল। এমনিতেই মরিশাসের খ্যাতি সমুদ্রগর্ভের জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জলজ জীব দেখা যায় এখানে এবং তারা সমুদ্রের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু তেল মিশে এই ব্যাপক জীববৈচিত্র্য ক্ষতির মুখে পড়ায় সেই ভারসাম্যও টলে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

[আরও পড়ুন: তিন শাবকের জন্ম দিল বাঘিনী শীলা, খুশিতে ভাসছে বেঙ্গল সাফারি পার্ক]

আমেরিকান ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAAA) জানাচ্ছে, এই প্রবাল দ্বীপের অন্তত ২৫ শতাংশ মাছ রয়েছে। এগুলো সমুদ্রের ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে তীরবর্তী এলাকাকে নিরাপদ রাখে। মার্কিন জীববিজ্ঞানী রিচার্ড স্টেইনার বলছেন, “এই চুঁইয়ে পড়া তেল থেকে বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন প্রবাল প্রাচীরকে ঝলসে দিচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রবাল মরে যাবে। এত পরিমাণ তেল যে সমুদ্রের কত বড় ক্ষতি করল, এখনই বোঝা যাচ্ছে না।” মরিশাসের এই দুর্ঘটনায় বিশ্বের জলজ জীববৈচিত্র্য নিয়ে ঘনিয়ে উঠছে দুশ্চিন্তা।

Oil-Spill1

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.