Mbappe FIFA World Cup 2026

‘আপনার আরও সুন্দর বিদায় প্রাপ্য ছিল’, গুরু দেশঁর বিদায়বেলায় আবেগাক্রান্ত এমবাপে

দেশঁ যখন দীর্ঘদিন জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলানোর পর সরে দাঁড়াচ্ছেন, অধিনায়ক এমবাপে তাঁর বিদায়লগ্নে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়বেন এটাই স্বাভাবিক। কী বলেছেন তিনি?

দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১৬:৩২

options
link
‘আপনার আরও সুন্দর বিদায় প্রাপ্য ছিল’, গুরু দেশঁর বিদায়বেলায় আবেগাক্রান্ত এমবাপে
তৃতীয় স্থানের ম‌্যাচে হারের পর ফ্রান্সের বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশঁর সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপে। ছবি সংগৃহীত।

সম্পর্কটা শুধুই আর কোচ-ফুটবলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অথবা সাধারণ গুরু-শিষ্য। জাতীয় দলের পথ চলতে চলতে দিদিয়ের দেশঁ আর কিলিয়ান এমবাপের সম্পর্কটা হয়তো এই সব সাধারণ সম্পর্ক ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছিল বন্ধুত্বের। একে অপরের পরামর্শদাতারও। সেখানে বয়সের পার্থক্য এই বন্ধুত্বের সম্পর্কে কখনওই প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়নি। স্বাভাবিক কারণেই এহেন ‘বন্ধু’ দেশঁ যখন দীর্ঘদিন জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলানোর পর সরে দাঁড়াচ্ছেন, অধিনায়ক এমবাপে (Mbappe) তাঁর বিদায়লগ্নে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়বেন এটাই স্বাভাবিক।

Advertisement

জাতীয় দল থেকে বিদায়ের মুহূর্তে অন্তত শেষ ম্যাচটা যে দেশঁ জিতে বিদায় নেবেন, এমনটাই আশা করেছিলেন সবাই। কিন্তু পরিস্থিতি অন্যরকম ঘটায় এমবাপে তাঁর অন্যতম প্রিয় কোচের উদ্দেশ্যে ম্যাচ শেষে বলেন, “আপনি আমাদের এত ভালো ভালো সব মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। আমাদেরও উচিত ছিল, বিদায় মুহূর্তে আপনাকে একটা সুন্দর সমাপ্তি উপহার দেওয়া। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছি।”

Advertisement

২০১৭-তে এমবাপে যখন ফ্রান্সের জাতীয় দলে এলেন, কতই বা বয়স তাঁর? খুব বেশি হলে ১৭। শোনা যায়, সেই সময় পিতৃস্নেহে কম বয়সে তারকা হয়ে যাওয়া ফরাসি ফুটবলারকে সবদিক থেকেই আগলে রাখতেন দেশঁ। ছোট থেকে প্রচারের আলোয় থাকা এমবাপে সংবাদমাধ্যমের সামনে যাতে কোনও ভুল শব্দ চয়ন না করেন, প্রতিদিনের জীবনযাপনের রুটিনে যাতে গণ্ডগোল না হয়, সব দিকে নজর রাখতেন দেশঁ। কারণ, ফরাসি কোচ মনে করতেন, এমবাপে জন্মগতভাবে প্রতিভাবান। ফরাসি ফুটবলের স্বার্থে এই তরুণ ফুটবলার যাতে অন্যদিকে চলে না যান, তাই শুরু থেকেই অভিভাবকের স্নেহে পরামর্শদাতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

Advertisement

FIFA World Cup 2026: Deschamps and Mbappé’s bond went beyond coach and player — it became a friendship built through their journey with the national team

২০২১-এ ইউরো কাপে, সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে এমবাপে যখন পেনাল্টি মিস করলেন, ফরাসি মিডিয়া সমালোচনায় শেষ করে দিতে উদ্যোগী হয়েছিল এমবাপেকে। সেই সময়েও ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন দেশঁ। সমালোচনায় বিদ্ধ হতে-হতে একটা সময় এমবাপে ভেবেছিলেন খেলাই ছেড়ে দেবেন। দেশঁ তখন আলাদা করে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসে বোঝান, ফরাসি ফুটবলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাই তাঁর দিকেই তাকিয়ে। দেশের স্বার্থে এমবাপে জাতীয় দলের হয়ে খেলা ছাড়তে পারেন না।

হুগো লরিসের অবসরের পর এমবাপের হাতেই অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দিয়েছিলেন এই দেশঁ। স্বাভাবিকভাবে কোচের বিদায়লগ্নে দলের অধিনায়ক স্মৃতিমেদুর হয়ে উঠবেন। আমেরিকা বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানাধিকারী ম্যাচে হেরে যাওয়ার পরেও দেশঁ সম্পর্কে এমবাপে বলেন, “জাতীয় দলে চলার পথে আমরা দু’জনেই এমন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, যার স্মৃতি চিরকাল আমার হৃদয়ে থেকে যাবে। ফরাসি ফুটবলের উন্নতিতে দেশঁ যা করেছেন, বিদায়বেলায় হয়তো তার সঠিক মূল্যায়ন হল না।”

দেশঁর কোচিংয়ে একশোর বেশি ম্যাচ খেলেছেন এমবাপে। তারমধ্যে ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়। ২০২২ বিশ্বকাপে রানার্স। ২০২১ নেশনস লিগ জয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এসে ফরাসি জার্সিতে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক ২২টি ম্যাচ খেলার রেকর্ড সবই তাঁর পকেটে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফরাসি ফুটবলের সর্বাধিক ২৬টি ম্যাচে কোচিং করানোর রেকর্ডও দেশঁর পকেটে। সবমিলিয়ে এই দীর্ঘ সময়ে ‘গুরু-শিষ্য’ হাত ধরাধরি করে চলেছেন জাতীয় দলে। বিদায়লগ্নে কোচ দেশঁও যে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়বেন, সেটা খুব স্বাভাবিক। “সকলের সঙ্গে অনেকদিন ধরে অসাধারণ সময় কাটালাম। অনেক লড়াই করে এই দলকে বড় করে তুলেছি। সব কিছু রাতারাতি হয়নি। সময় দিতে হয়েছে। আমি ছেড়ে দেওয়ার পরেও ফ্রান্সের সাফল্যের মুকুটে আরও অনেক কিছুই যুক্ত হবে,” বলে দিয়েছেন তিনি।

বিদায়লগ্নে ইংল্যান্ডের কাছে হারটা সত্যিই মেনে নিতে পারেননি দেশঁ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলছিলেন, “প্রথমার্ধটা সত্যিই আমাদের জন্য ভয়াবহ ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ফরাসি ফুটবলের সঠিক রূপ আমরা দেখাতে পেরেছি। আসলে বেশ কিছু ফুটবলার বিশ্বকাপে খুব কম খেলার সুযোগ পেয়েছে। তাই মাঠে নেমেই যে তারা অসাধারণ পারফর্ম করবে, ভাবা উচিত না।”

১৪ বছর ফ্রান্সের জাতীয় দলের কোচ থাকার পর বিদায় নিলেন দেশঁ। আর তাঁর ছেড়ে যাওয়া কোচের আসনে যিনি বসছেন, ফরাসি ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা– জিনেদিন জিদান। কিন্তু রেখে যাচ্ছেন, এমন একজন অধিনায়ককে, যাঁকে গত আট বছর ধরে ধীরে-ধীরে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করেছেন। কিলিয়ান এমবাপে!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.