Lionel Messi

মেসিদের কটূক্তি করলে দেশে প্রবেশ নিষেধ! বিদেশিদের ভিসা বাতিলের হুঁশিয়ারি আর্জেন্টিনা সরকারের

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার বাড়ছে। এতে প্রভাবিত হয়েছে দেশবাসীও। তার জেরেই এবার কড়া পদক্ষেপের পথে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সরকার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১, ২০২৬, ১৬:৩৬

options
link
মেসিদের কটূক্তি করলে দেশে প্রবেশ নিষেধ! বিদেশিদের ভিসা বাতিলের হুঁশিয়ারি আর্জেন্টিনা সরকারের
কড়া পদক্ষেপের পথে আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সরকার। ফাইল ছবি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার বাড়ছে। এতে প্রভাবিত হয়েছে দেশবাসীও। তার জেরেই এবার কড়া পদক্ষেপের পথে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সরকার। এর জন্য জারি হয়েছে জরুরি নির্দেশও। আর্জেন্টিনা বা সেদেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ কিংবা বৈষম্যমূলক প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠলে বিদেশিদের সেদেশে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। এমনকী ভিসা বাতিল করে দেশ থেকে বহিষ্কারও করা হতে পারে।

Advertisement

ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ গোলে হারের পর থেকেই আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নেট দুনিয়ায় অনেকেই সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, ফিফা নাকি লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। সেই বিতর্কের আঁচ গড়ায় ‘লা আলবিসেলেস্তে’ ফুটবলার, সমর্থক থেকে সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে কটূক্তি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যে।

Advertisement

কোনও বিদেশি ব্যক্তি কথায়, লেখায় কিংবা অন্য কোনও মাধ্যমে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালে তাঁর ভিসা বাতিল করতে পারবে সরকার।

এই পরিস্থিতিতেই মিলেইয়ের সরকারের নতুন নির্দেশ। তাদের তরফে বলা হয়েছে, “আর্জেন্টিনা, দেশের মানুষ এবং জাতীয় প্রতীকগুলির সুরক্ষার বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না। যারা আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আগ্রাসী আচরণ করবে, তারা আমাদের দেশে স্বাগত নয়।” কোনও বিদেশি ব্যক্তি কথায়, লেখায় কিংবা অন্য কোনও মাধ্যমে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ালে তাঁর ভিসা বাতিল করতে পারবে সরকার। এমনকী দেশে ঢোকার অনুমতিও নাকচ করা হতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বহিষ্কারের ব্যবস্থাও করা যাবে। এমনই জানিয়েছে সরকার। তবে সমালোচনা করার অধিকার থাকবে বলেও জানিয়েছে সরকার। রাজনৈতিক মতামত, গবেষণার আলোচনা বা সাধারণ সমালোচনার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। সংবিধানে দেওয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতাতেও হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে জানিয়েছে সরকার।

Advertisement
আর্জেন্টিনা দল। ফাইল ছবি।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিতর্ক অবশ্য কমেনি। ফাইনালের পর ঘটনায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মারধর ও অসদাচরণের অভিযোগ এনেছে ফিফা। সেই ঘটনা নিয়ে তদন্ত করছে ফিফা। পাশাপাশি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারের ফকল্যান্ড নিয়ে ব্যানার দেখানোর ঘটনাও তদন্তের আওতায়।

তবে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, কোন মন্তব্যকে ‘ঘৃণামূলক’ বলা হবে, তার পরিষ্কার কোনও সংজ্ঞা নেই।

তবে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, কোন মন্তব্যকে ‘ঘৃণামূলক’ বলা হবে, তার পরিষ্কার কোনও সংজ্ঞা নেই। ফলে নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধী সাংসদ ম্যাক্সিমিলিয়ানো ফেরারো বলেন, “এই নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা পরিষ্কার নয়। কার মন্তব্যকে কোন ভিত্তিতে ঘৃণামূলক বলা হবে, সেটাও স্পষ্ট করা হয়নি।” ফলে বিশ্বকাপের মাঠে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনার রাজনীতির অন্দরেও। ফুটবলকে ঘিরে বিদ্বেষ ঠেকাতে গিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত থাকে, সেই প্রশ্নই এখন উঠছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.