Gianni Infantino

প্রবল চাপে ফিফা প্রেসিডেন্ট, নির্বাচনের আগেই ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা, ইনফান্তিনোকে তোপ ফিগোর

সামনের বছর ১৭ মার্চ মরক্কোয় ফিফা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। অনেকে মনে করছেন ফিফা প্রেসিডেন্টের অপসারিত হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২৬, ২০:০৬

options
link
প্রবল চাপে ফিফা প্রেসিডেন্ট, নির্বাচনের আগেই ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা, ইনফান্তিনোকে তোপ ফিগোর
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফাইল ছবি।

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) আর ফিফা প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন কি না, সেটা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আসলে একের পর এক বিতর্ক যেভাবে ইনফান্তিনো নিজেই সৃষ্টি করেছেন, তাতে ফুটবল বিশ্বের অধিকাংশ দেশের আর সমর্থন পাচ্ছেন না ফিফা প্রেসিডেন্ট। সামনের বছর ১৭ মার্চ মরক্কোয় ফিফা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। অনেকে মনে করছেন ফিফা প্রেসিডেন্টের অপসারিত হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত। পতুর্গালের কিংবদন্তি লুই ফিগোও রীতিমতো তোপ দেগেছেন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফিফা কর্তার অপসারণ দাবি করেছেন।

Advertisement

এর আগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন জর্ডন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলি বিন হুসেইন। তাঁর দাবি, ফিফা সভাপতি বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থার প্রাপ্য প্রাইজমানি আটকে রেখে চাপ সৃষ্টি করেছেন। এমনকী ভোটে জিততে ‘ব্ল্যাকমেল’-ও করেছেন। এক বিবৃতিতে প্রিন্স আলি এই অভিযোগ করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে সভাপতির পদ আঁকড়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফিগোর তোপ।

Advertisement

ফিগো বলেছেন, “ফুটবল বিশ্বের অন‌্যদের মতোই ইনফান্তিনোর অপসারণ দাবি করছি। উনি মিথ্যে কথা বলেছেন। মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। ফুটবলকে সেবা করার জন‌্য ওঁকে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু সেটা না করে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন‌্য ফুটবলের ক্ষতি করছেন। শীর্ষকর্তাদের আস্থা হারিয়েছেন ইনফান্তিনো। ফুটবলে যাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের সমর্থন হারিয়েছেন। যত দূর জানি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ওঁকে আর সমর্থন করছেন না।”

Advertisement

২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচনে ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে ২০০টির সমর্থন পেয়েছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু এবার সেই সমীকরণ আর আগের মতো নেই। ইউরোপের ফুটবল সংস্থা উয়েফা (৫৫ দেশ), এশিয়ান ফুটবল সংস্থা এএফসি (৪৬ দেশ) এবং কনকাকাফ (৩৫ দেশ)– এই তিন মহাদেশীয় সংস্থার সমর্থন তাঁর পাশে থাকার সম্ভাবনা কম। সব মিলিয়ে ১৩৬টি সদস্য দেশের ভোট যদি তাঁর বিপক্ষে যায়, তা হলে ইনফান্তিনোর চতুর্থবার সভাপতি হওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠবে। 

তবে নির্বাচনের আগেই বড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে ইনফান্তিনোর। ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের সবাই তাঁর পক্ষে নেই। তাই জরুরি কংগ্রেস ডেকে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার জোর আলোচনা চলছে। আস্থা ভোটে হেরে গেলে নির্বাচনে লড়ার সুযোগই পাবেন না তিনি। ১০ বছর আগে এমনই এক কংগ্রেসের মাধ্যমে ফিফার সভাপতির আসনে বসেছিলেন ইনফান্তিনো। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দুই প্রার্থী থাকলে ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন পেলেই জয় নিশ্চিত। তবে তিন প্রার্থী হলে প্রয়োজন হবে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট। প্রতিটি সদস্য দেশের ভোটের মূল্য সমান হওয়ায় ছোট দেশগুলির সমর্থনও শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিতে পারে ফিফার মসনদের ভাগ্য।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.