নিঠারি হত্যাকাণ্ডে (Nithari Case) আদালতের নির্দেশে বেকসুর খালাস পাওয়া সুরেন্দ্র কোলির মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধের কারণেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অবশেষে নিশ্চিত হল আত্মহত্যার তথ্য। গত ১৮ সেপ্টেম্বর হরিদ্বারে এক চায়ের দোকানে ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গিয়েছিল সুরেন্দ্রর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বিষয়টি আত্মহত্যা বলে জানালেও, পরিবারের সন্দেহ ছিল খুন করা হয়েছে তাঁকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অবশেষে খারিজ হল সেই দাবি।
গত বছর নিঠারি হত্যাকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্ট বেকসুর খালাস করেছিল মামলার মূল অভিযুক্ত সুরেন্দ্র কোলিকে। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর হরিদ্বারে একটি চায়ের দোকান চালাচ্ছিলেন ৫৩ বছরের সুরেন্দ্র। গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে সেখানেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান ছিল আত্মহত্যা করেছেন সুরেন্দ্র (Surendra Koli)। তবে তা মানতে নারাজ ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সুরেন্দ্রর দাদা চন্দন বলেন, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে আমাদের সন্দেহ এটা আত্মহত্যা নয়। হরিদ্বারের সপ্তর্ষি পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করে তিনি বলেন, “শনিবার যখন আমরা সুরেন্দ্রকে দেখি তখন তাঁর শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। মুখে এবং নাকেও ছিল রক্তের দাগ।” তিনি বলেন, “গোটা পরিস্থিতি দেখে আমাদের মনে হয়েছে ভাই হয়ত আত্মহত্যা করেনি। এই মৃত্যুতে কেউ দোষী হলে তাঁর যেন কঠোর শাস্তি হয়।”
আরও পড়ুন:
গত ১৮ সেপ্টেম্বর হরিদ্বারে এক চায়ের দোকানে ঝুলন্ত দেহ পাওয়া গিয়েছিল সুরেন্দ্রর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বিষয়টি আত্মহত্যা বলে জানালেও, পরিবারের সন্দেহ ছিল খুন করা হয়েছে তাঁকে।
এই মামলায় তদন্তে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছিল পুলিশ। বুধবার সেই তথ্য সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়ে যায় আত্মহত্যাই করেছেন সুরেন্দ্র। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পরই সুরেন্দ্রের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর শনিবার হরিদ্বারের খড়খড়ি শ্মশানঘাটে পরিবারের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এই মৃত্যুতে পরিবারের তরফে একটি দাবি উঠেছিল, হয়ত খুন করা হয়েছে তাঁকে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন সুরেন্দ্র।
উল্লেখ্য, ২০০৫-২০০৬ সালে নয়ডায় নিঠারি হত্যাকাণ্ডের খবরে শিউরে উঠেছিল দেশ। এলাকার ধনী ব্যক্তি মণিন্দর সিং পান্ধের ও তার পরিচারক সুরেন্দ্রর নাম জড়ায় একের পর এক শিশু, কিশোরী নিখোঁজ এবং পরে নর্দমার পাড় থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায়। অসংখ্য যুবতী, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন, নরমাংস ভক্ষণ, শবদেহের সঙ্গে সঙ্গমের চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ ছিল কোলির বিরুদ্ধে। মামলায় ফাঁসির সাজা খারিজ হয়েছিল আগেই। কোলির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৩টি মামলার মধ্যে ১২টি মামলাতে আগেই খালাস পান তিনি। শেষ মামলা ছিল ১৫ বছরের এক কিশোরীকে খুনের অভিযোগ। সেই মামলাতেও গত বছর নভেম্বর মাসে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস পেয়ে যান। শীর্ষ আদালত প্রমাণের অভাবের জন্য তদন্ত প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তুলে জানিয়েছিল, পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার গলদেই প্রমাণ মিলছে না অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তিন বছর পর দেশে আইপিএল নিলাম, কোন শহরে, জানিয়ে দিল বিসিসিআই
-
হাঁটুর বয়সি নায়িকার সঙ্গে মামাশ্বশুর গোবিন্দার প্রেম! ‘ঘরভাঙানিদের তোল্লাই দেবেন না’, খোঁচা কাশ্মীরার
-
চাই গম্ভীরের উত্তরসূরি! এবার ঋষভদের কোচিং করাবেন লক্ষ্মীরতন, জাতীয় দলে ডাক আসবে?
-
এক ভাইপোকে সরিয়ে আরেক ভাইপোকে গুরুদায়িত্ব, মায়াবতী বলছেন, ‘এটা তো পরিবারতন্ত্র নয়’
-
টেস্টকে বাড়তি গুরুত্ব, বিশ্বকাপের আগে ‘অর্ধেক ফিট’ ক্রিকেটার চান না গম্ভীর