Athlete

মেনুতে ছত্রাক-যুক্ত পানীয় রেখেই বিপাকে! এশিয়ান গেমসের আগে নজরে ভারতীয় অ্যাথলিটরা

চা, স্যুপ বা শুধুমাত্র গরম জলে মিশিয়েও এই ছত্রাক পান করা যায়। গোটা পৃথিবীতে একমাত্র হিমালয়েই মেলে এটি। ইদানীং এই পানীয়কে কেন্দ্র করেই সরগরম ভারতীয় ক্রীড়া জগৎ। কারণ কী?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১৭:২৪

options
link
মেনুতে ছত্রাক-যুক্ত পানীয় রেখেই বিপাকে! এশিয়ান গেমসের আগে নজরে ভারতীয় অ্যাথলিটরা
ডোপ টেস্টে বিপদের ঝুঁকি কতটা?

হিমালয়ের বুকে হাজারো অমূল্য সম্পদ রয়েছে। তার মধ্যে এক রহস্যময় উপাদান হল কেড়া জড়ি। চা, স্যুপ বা শুধুমাত্র গরম জলে মিশিয়েও এই ভেষজ পান করা যায়। গোটা পৃথিবীতে একমাত্র হিমালয়েই এটি সহজলভ্য। ইদানীং এই কেড়া জড়িকে কেন্দ্র করেই সরগরম ভারতীয় ক্রীড়া জগৎ। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত অনেক ভারতীয় ক্রীড়াবিদই নাকি এই বিশেষ ভেষজ ব্যবহার করছেন। আর সেই ঘটনাকে ঘিরেই বিতর্ক। ব্যাপারটা কী?

Advertisement
ছবি: সংগৃহীত

কী এই কেড়া জড়ি?
সহজ কথায়, এটি একটি বিশেষ প্রজাতির পরজীবী ছত্রাক। যার বিজ্ঞানসম্মত নাম ওফিওকর্ডিসেপস সিনেনসিস। অতি উঁচুতে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে এটি মেলে। মাটির নিচে এক ধরনের মথের লার্ভা বা কীটের শরীরে থাবা বসায় এই ছত্রাক। পরে সেই লার্ভার দেহ ফুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। বিচিত্র এই গঠনের জন্যই এর নাম ‘কেড়া জড়ি’। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় কর্মক্ষমতা বাড়াতে বহু বছর ধরে এর চল রয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই ভেষজ নিচ্ছেন ক্রীড়াবিদরা?
আজকাল অ্যাথলিটদের মধ্যেও এই ভেষজ সেবনের প্রবণতা বাড়ছে। মূলত শরীরের অক্সিজেনের ব্যবহার বাড়াতে সাহায্য করে এই উপাদান। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত কর্ডিসেপস খেলে অ্যারোবিক পারফরম্যান্স বা স্ট্যামিনা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে স্প্রিন্ট, থ্রো বা দৌড়বিদদের মধ্যে মধু দিয়ে কেড়া জড়ি খাওয়ার চল বেড়েছে। কঠোর পরিশ্রমের পর শরীর ফিট রাখতেও নাকি জুড়ি নেই এর।

Advertisement

ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং-এ নিষেধাজ্ঞা? 
না, ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি (WADA)-র ২০২৬ সালের নিষিদ্ধ তালিকার মধ্যে কেড়া জড়ি স্থান পায়নি। অর্থাৎ এটি সরাসরি কোনও নিষিদ্ধ ড্রাগ নয়। কিন্তু বিতর্ক অন্য জায়গায়।

ছবি: সংগৃহীত

কোথায় লুকিয়ে বিপদ?
ভেষজ উপাদানটি সরাসরি নিষিদ্ধ না হলেও, আসল ঝুঁকি রয়েছে এর প্রক্রিয়াজাতকরণে। অনেক সময় স্থানীয় বাজার থেকে কেনা ভেষজ সম্পূরক বা প্রডাক্টের গায়ে সব উপাদানের সঠিক উল্লেখ থাকে না। ভেজালের কারণে সেখানে ঢুকে পড়তে পারে নিষিদ্ধ কোনও উপাদান।

ক্রীড়া জগতে একটি কঠোর নিয়ম মেনে চলা হয়— ‘স্ট্রিক্ট লায়াবিলিটি’। এর মানে হল, না জেনে বা অসাবধানবশত কোনও উপাদান শরীরে প্রবেশ করলেও দায় এড়াতে পারেন না অ্যাথলিট। তাই ভারতের জাতীয় অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (NADA) স্পষ্ট জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের দ্বারা পরীক্ষিত নয় এমন ভেষজ সেবন করলে শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে।

তাই ভাসা ভাসা ধারণায় ভরসা না রেখে, বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে তবেই কোনও সম্পূরক গ্রহণ করা উচিত।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.