Gianni Infantino

‘ফুটবলকে ধ্বংস করছে ফিফা’, ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চেয়ে সরব লা লিগা প্রধান, তোপ ব্লাটারেরও

ফিফার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন লা লিগা প্রধান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও নিশানা করেছেন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২২, ২০২৬, ২১:১২

options
link
‘ফুটবলকে ধ্বংস করছে ফিফা’, ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চেয়ে সরব লা লিগা প্রধান, তোপ ব্লাটারেরও
জিয়ানি ইনফান্তিনো। ফাইল ছবি।

ফের তোপের মুখে ফিফা সভাপতি। জিয়ানি ইনফান্তিনোর (Gianni Infantino) বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর স্প্যানিশ লা লিগার সভাপতি জাভিয়ের তেবাস। পরের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বেড়ে ৬৪ করার পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার। এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে তিনি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি করেছেন। পাশাপাশি সুর চড়িয়েছেন ফিফার প্রাক্তন সভাপতি শেপ ব্লাটারও।

Advertisement

আগামী বছরের মার্চে চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা রয়েছে ইনফান্তিনো। তেবাস মনে করেন, ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থ থেকে বিচ্যুত হয়েছে ফিফা। ইটালির এক প্রথম শ্রেণির দৈনিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬৩ বছর বয়সি তেবাস বলেন, আগামী বছরের বিশ্বকাপে আরও দল বাড়ানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই। তাঁর দাবি, এমন সিদ্ধান্ত কেবল বিশ্ব ফুটবল নয়, পুরো ফুটবল শিল্পের জন্যই ক্ষতিকর।

Advertisement

৬৩ বছর বয়সি তেবাস বলেন, আগামী বছরের বিশ্বকাপে আরও দল বাড়ানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই। তাঁর দাবি, এমন সিদ্ধান্ত কেবল বিশ্ব ফুটবল নয়, পুরো ফুটবল শিল্পের জন্যই ক্ষতিকর।

তেবাস বলেন, “জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়ানোর কোনও মানে হয় না। ফুটবল শিল্প শুধু বিশ্বকাপকে ঘিরে নয়, যদিও এটি সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। কিন্তু সবকিছু বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চলতে পারে না।” তিনি অভিযোগ করেন, মাত্র ৪০ দিনের কোনও টুর্নামেন্টের জন্য ফুটবল ক্যালেন্ডারের বদল হচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশীয় লিগগুলোর। তেবাসের সংযোজন, “ফুটবলকে তো টিকিয়ে রাখে জাতীয় লিগগুলো। ওরা ফুটবল শিল্পকে ধ্বংস করছে। যে শিল্প লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে, তাকেই এখন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।”

Advertisement

তেবাসের মতে, বিশ্বকাপে খেলেন খুব কম সংখ্যক ফুটবলার। তাই বারবার পুরো মরশুমের সূচি বা দেশীয় লিগের সময়সূচি বদলানোর কোনও যুক্তি নেই। তিনি বলেন, “আরও বেশি করে জাতীয় লিগকে সুরক্ষা দিতে হবে। তাই মনে হলেই জাতীয় দলের সংখ্যা বাড়াব, এমন ভাবলে হবে না। কিন্তু দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ওরা।” ফিফা সভাপতি হিসাবে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “ওর পদত্যাগ করা উচিত। আমার মনে হয়, ওর সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ওর যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ কোনও বিরোধী প্রার্থীও নেই। কেউ তো হারার জন্য নির্বাচনে দাঁড়াবে না!”

তেবাসের মতে, বিশ্বকাপে খেলেন খুব কম সংখ্যক ফুটবলার। তাই বারবার পুরো মরশুমের সূচি বা দেশীয় লিগের সময়সূচি বদলানোর কোনও যুক্তি নেই।

লা লিগা প্রধান মনে করেন, ফিফা সভাপতির একনায়কতন্ত্র নিয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ। তাঁর কথায়, “অনেকেই হয়তো ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে। ওর কাজের সঙ্গে তাঁরা একমত নন।” অন্যদিকে, বিশ্বকাপ জেতার জন্য স্পেনের প্রশংসা করলেও ব্লাটার টুর্নামেন্টের সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘতম বিশ্বকাপ যোগ্য চ্যাম্পিয়নদের নিয়েই শেষ হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। রাজনীতিকে খেলার উপর ছায়া ফেলতে দেওয়া উচিত নয়।’

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে ফিফাকে লেখা এক খোলা চিঠিতে ইউরোপের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা কাউন্সিল অফ ইউরোপের মহাসচিব অ্যালাঁ বেরসে বলেছিলেন, ‘পরবর্তী সংকট ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এর দু’টি নাম– অর্থ ও ক্ষমতা।’ ফিফার নতুন প্রেডিকশন মার্কেট স্পনসর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি। গত এপ্রিলে ফিফা ‘এডিআই প্রেডিক্টস্ট্রিট’-কে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল প্রেডিকশন পার্টনার হিসাবে ঘোষণা করে। যার তীব্র সমালোচনা করেন বারসেট। তাঁর দাবি, এ ধরনের বাজির ব্যবস্থা ম্যাচে অনিয়ম ও জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গত এপ্রিলে ফিফা ‘এডিআই প্রেডিক্টস্ট্রিট’-কে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল প্রেডিকশন পার্টনার হিসাবে ঘোষণা করে। যার তীব্র সমালোচনা করেন বারসেট।

এবার ফিফার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন লা লিগা প্রধান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, “মার্কিন ফুটবলারের (ফোলারিন বালোগান) নির্বাসন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত খুবই গুরুতর। ওরা ভাগ্যবান যে আমেরিকা বেলজিয়ামের কাছে হেরে ছিটকে গিয়েছে। তা না হলে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারত, যাতে ইনফান্তিনোর চাকরি চলে যেত।” 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.