‘শূন্যের ভেতর এত ঢেউ’– সেই কবে লিখেছিলেন শঙ্খ ঘোষ। বামেরা আজ শূন্য। তবুও ঢেউ তুলেছেন মীনাক্ষী। জনস্রোত তৈরি করতে চান তিনি। তুখড় বামকর্মী। অল্প বয়সেই জায়গা করে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে, নজিরবিহীনভাবে। বিশ্বাস করেন, সিপিএম শূন্য থেকেই ফিরবে। বিশ্বাস করেন, ধুলোমাটির মানুষদের ভোটই ভবিষ্যতে দুর্গ ফিরিয়ে দেবে বামেদের। আমআদমি মানেই বামআদমি– এই তাঁর আশাভরসা।
আরও পড়ুন:
বিশ্বাস করেন, ধুলোমাটির মানুষদের ভোটই ভবিষ্যতে দুর্গ ফিরিয়ে দেবে বামেদের। আমআদমি মানেই বামআদমি– এই তাঁর আশাভরসা।
মীনাক্ষী (Minakshi Mukherjee) কীরকম বাগ্মী? তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর মতো শব্দচয়নে অর্জুনগোত্রীয় নন, এমনকী, শতরূপ ঘোষের মতো সোশ্যাল মিডিয়া স্মার্ট নন, কিন্তু তাঁর বলায় এক ধরনের মেঠো ফুরফুরেমি আছে। গড়গড় করে নিজের বক্তব্যটুকু বলে যান। তাতে তাঁর ভুরু কুঁচকে ওঠে, কপালে ভাঁজ পড়ে, ঢোঁক গিলে নেন দরকার হলে– হালের ইংরেজিতে যাকে বলে ‘প্রেজেন্টেবল’– সেই ধোঁয়াশাময় শব্দের আশপাশ দিয়ে মীনাক্ষী যান না। আর যান না বলেই, মীনাক্ষী আমজনতার স্রোতে হেঁটে বেড়ান। স্পর্শ করেন দুঃখ-দৈন্যের বাতাসবাড়িটিকে। গলার স্বর ওঠে-নামে। চিৎকারও করেন। আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারেন সমর্থকদের মনে। আক্রমণ করতে গিয়ে অপশব্দ ব্যবহারের ইতিহাস যদিও তাঁর আছে। ‘কীসের বাচ্চা বলব’– বলে তিনি আক্রমণ করেছিলেন বিরোধীদের। তা নিয়ে বিতর্কও কিছু কম হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক স্কিপারের তো এমন ভুলচুক হয়ই। নিজেকে শুধরে নিতে দ্বিধা করবেন কি মীনাক্ষী?
মীনাক্ষী স্পষ্টই জানিয়েছেন লড়াই হবে ময়দানে, তাঁর নিজস্ব নীতির লড়াইতেই তাঁরা জবাব দেবেন। মিডিয়ার প্রতি তাঁর খানিক অসন্তোষ আছে বইকি। মনে করেন, আসল ‘ইস্যু’ বাদ দিয়ে কেবলই ভাসা ভাসা খবর আর বিতর্কে মিডিয়া খাবি খাচ্ছে!
আশা করি, তিনি বজায় রাখবেন সৌজন্যের রাজনীতি। বিশেষ করে এমন এক দলের প্রতিনিধিত্ব তিনি করেন, যার সংশোধন জরুরি। যে-সংশোধন এখনও পরিস্ফুট নয় বলেই, মানুষের ভোট তাদের বাক্সে জমা পড়ছে না! সদ্যই প্রতীকউর রহমান বাম থেকে তৃণমূলে দলবদল করেছেন। মীনাক্ষী তাঁর দীর্ঘদিন কমরেড। মীনাক্ষী স্পষ্টই জানিয়েছেন লড়াই হবে ময়দানে, তাঁর নিজস্ব নীতির লড়াইতেই তাঁরা জবাব দেবেন। মিডিয়ার প্রতি তাঁর খানিক অসন্তোষ আছে বইকি। মনে করেন, আসল ‘ইস্যু’ বাদ দিয়ে কেবলই ভাসা ভাসা খবর আর বিতর্কে মিডিয়া খাবি খাচ্ছে!
মীনাক্ষী তাঁর দীর্ঘদিন কমরেড। মীনাক্ষী স্পষ্টই জানিয়েছেন লড়াই হবে ময়দানে, তাঁর নিজস্ব নীতির লড়াইতেই তাঁরা জবাব দেবেন।
কিন্তু বামেদের মধ্যেও কি বেঁধে নেই জট? বামেদের যুব সংগঠন আপত্তি তুলেছে কেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এত গুরুত্ব পাচ্ছেন! যেখানে বামেরা ব্যক্তিনির্ভরতায় বিশ্বাসী নয়। এই আপত্তির মূলে ডানকুনির সমাবেশে মীনাক্ষীর প্রমাণ সাইজের কাট আউট! বামেরা তরুণ মুখের উত্থান চায় বটে, কিন্তু ব্যক্তিনির্ভরতাই কি একমাত্র পথ? এদিকে গতবারের লোকসভা ভোটে মীনাক্ষীর ফলাফল তথৈবচ! ফলে এত আশাজাগানিয়া হলেও কার্যত ফলাফল সেই শূন্যই ঠেকছে!
বামেরা তরুণ মুখের উত্থান চায় বটে, কিন্তু ব্যক্তিনির্ভরতাই কি একমাত্র পথ? এদিকে গতবারের লোকসভা ভোটে মীনাক্ষীর ফলাফল তথৈবচ! ফলে এত আশাজাগানিয়া হলেও কার্যত ফলাফল সেই শূন্যই ঠেকছে!
মাঠে-ঘাটে ঘাম ঝরিয়ে প্রচার, মানুষের আপদে-বিপদে দৌড়ে যাওয়া, বিরোধীদের বাক্যের হুল ফোটানো, নিজের বক্তব্যে অটল-অনড় থাকার প্রবল জেদই মীনাক্ষীকে ভোটের দৌড়ে এগিয়ে দেবে। এই ভোটে বামের অন্যতম স্কিপার কদ্দুর কী করলেন, সে ব্যাপারে নজর থাকবেই বামমানুষের। কিন্তু এ ব্যাপারে সকলেই নিশ্চিত, ধুলো-মাটির লড়াকু মেয়েটি নিজের মাটির গন্ধ গা থেকে মুছে ফেলতে চাইবেন না কখনও!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জঙ্গলে লুকিয়ে ১০০০ বছরের প্রাচীন শহর, কেন হয়েছিল জনশূন্য? হতবাক গবেষকরা
-
পার্টনারের সঙ্গে কখনওই ঝগড়া হয় না বলে গর্ব করেন? নেপথ্যে থাকতে পারে ৪ জটিল মনস্তত্ব
-
চিরকালের জন্য বাকিংহাম প্যালেস ছাড়লেন রাজা চার্লস! হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত?
-
স্বাস্থ্যকর খাবার বানাতে সর্বক্ষণ এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহার, ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে না তো?
-
প্রাক্তন-বর্তমানের ‘ভয়ংকর পুনর্মিলন’ হবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে, সম্পর্কের জটিল ধাঁধায় জয়া-চূর্ণী