Advertisement
Advertisement
Madan Mitra

ভোটের স্কিপার: মদন ভাইরাল ডায়লগ মিত্র

দলের যখন দরকার, যে-মুহূর্তে দরকার, তিনি হাজির। তাই তো স্রেফ সমাজ নয়, সমাজমাধ্যম পর্যন্ত থরহরিকম্প তাঁর বাতচিতে। নেতা হিসেবে এমন আন্তর্জাল-বান্ধব ‘ভাইরাল’ লোক আর আছেন-ই বা ক’জন?

Advertisement
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০২৬, ২০:১৮

link
নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০২৬, ২০:১৮

options
link
ভোটের স্কিপার: মদন ভাইরাল ডায়লগ মিত্র zoom
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

সকলেই মিত্র নয়, কেউ কেউ মিত্র। বাংলার রাজনীতির মিত্রের মধ্যে যিনি ‘ফেভারিট’, নিঃসন্দেহে সুপারহিট, একপলক ভুরুর ভাঁজ ফেলার আগেই সটান স্বনামধন্য– তিনি মদন মিত্র (Madan Mitra)।

বাংলা রাজনীতি নিয়ে যে বা যাঁরা খোঁজ-টোঁজ রাখেন, সকলেই জানেন, রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে-কামারহাটিতে– তিনি সদা উপস্থিত। দলের হয়ে যে কোনও নাম্বারে ব্যাটিং করতে রাজি। এক্কেবারে তিলক বর্মা। দলের যখন দরকার, যে-মুহূর্তে দরকার, তিনি হাজির। তাই তো স্রেফ সমাজ নয়, সমাজমাধ্যম পর্যন্ত থরহরিকম্প তাঁর বাতচিতে। নেতা হিসেবে এমন আন্তর্জাল-বান্ধব ‘ভাইরাল’ লোক আর আছেন-ই বা ক’জন। ‘ওহ লাভলি’ বলে তিনি কতটা লাভবান হয়েছেন কে জানে, তবে জনগণ দেদার লাভ ছড়িয়েছে লাইভে। সাতরঙা লোক, শুধু পোশাকে নয়, প্রেস মিটেও। সংবাদপত্রের অফিস ঠিকই জানে, মদন মিত্র (Madan Mitra) কিছু বললে জনগণের ক্লিক আশীর্বাদ হয়ে ঝরবে। সে ‘দমদম দাওয়াই’ প্রসঙ্গ হোক কিংবা ‘যতই নাড়ো কলকাঠি, কিচ্ছু হবে না কামারহাটি’! এমন কামাল করা দামাল ডায়লগ হরবখত তাঁর জিভের ডগায় লম্ফঝম্প।

Advertisement

‘ওহ লাভলি’ বলে তিনি কতটা লাভবান হয়েছেন কে জানে, তবে জনগণ দেদার লাভ ছড়িয়েছে লাইভে। সাতরঙা লোক, শুধু পোশাকে নয়, প্রেস মিটেও।

এমনকী, তিনিই সাম্প্রতিককালের সেই জাঁদরেল নেতা যাঁর ‘ওহ লাভলি’ (২০২৩) ডায়লগে আস্ত একটা ফিলিম নেমেছে। নিজেকে ড্রামাবাজ বলতেও জিভে আটকায়নি তাঁর। সাফ জানিয়েছেন, রাজনীতি আস্ত এক ড্রামা, ফলে তিনি ড্রামাবাজ হবেন না-ই বা কেন! এমন স্পষ্ট, রসিক, ধুরন্ধর মস্তিষ্কের লোক সব লোকসভা-বিধানসভা-পাড়াতুতো সভা– সব ফরম্যাটেই ওজনদার, ভোট পরিষেবায় ‘হেভিওয়েট’!

তিনিই সাম্প্রতিককালের সেই জাঁদরেল নেতা যাঁর ‘ওহ লাভলি’ (২০২৩) ডায়লগে আস্ত একটা ফিলিম নেমেছে। নিজেকে ড্রামাবাজ বলতেও জিভে আটকায়নি তাঁর। সাফ জানিয়েছেন, রাজনীতি আস্ত এক ড্রামা, ফলে তিনি ড্রামাবাজ হবেন না-ই বা কেন!

’২৪ সালের ভোটের আগে বেজায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু থোড়াই কেয়ার! ভোট বলে কথা। একবিন্দু জমি ছাড়বেন না, ওই যে বললাম, তিলক বর্মা– ফিল্ডিংয়েও উড়ন্ত হাত। একেবারে মুঠ্‌ঠি মে! ফলে, তড়াক করে নেমে পড়েছিলেন নির্বাচনের প্রচারে। দলের প্রতি তাঁর এমনই প্রেম, এমনই শ্রদ্ধাবোধ। পোড়খাওয়া রাজনৈতিক বলেই জানেন, কোন সময়ে কী করে টেনে নেবেন সমস্ত ক্যামেরা-মাইক-মানুষ। স্কিপার তো এমনই হবেন! তাই না?

এমন দুরন্ত, টেকসই বান্দা যে কোনও রাজনৈতিক দলেরই পরম পাওয়া। তায় মদন মিত্র তো নতুন কেউ নন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দু’বছরের মাথাতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতার প্রথম মন্ত্রিসভায়, ক্রীড়ামন্ত্রী এবং পরিবহণ মন্ত্রীও ছিলেন তিনিই।

ভগবানে বিশ্বাস করেন, বিশ্বাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। সগর্বে বলেন, ‘ওপরে ভগবান, নিচে মমতা।’ এমন দুরন্ত, টেকসই বান্দা যে কোনও রাজনৈতিক দলেরই পরম পাওয়া। তায় মদন মিত্র তো নতুন কেউ নন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দু’বছরের মাথাতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতার প্রথম মন্ত্রিসভায়, ক্রীড়ামন্ত্রী এবং পরিবহণ মন্ত্রীও ছিলেন তিনিই।

বিরোধী পক্ষের নজর, তাঁর প্রতি থাকবেই। তবে তার চেয়েও ঢের বেশি আমমানুষের নজর থাকবে মদন মিত্রের প্রতি।

তৃণমূলের গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে, ভালোমন্দে, বেঁচেবর্তে, রজতজয়ন্তী পার করে এখন এই বাহাত্তুরে মদন মিত্রও ভোটের (West Bengal Assembly Election) বাজারে ঝড় তুলতে পারেন। বিরোধী পক্ষের নজর, তাঁর প্রতি থাকবেই। তবে তার চেয়েও ঢের বেশি আমমানুষের নজর থাকবে মদন মিত্রের প্রতি। কোন কথার তীর কার গায়ে এসে বিঁধবে, পাল্টা সেই বিরোধী কী বলবেন– এই নিয়ে চলবে আগামী দিনে চর্চা, তরজা। যদিও বারবার করেই তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন ভোটের বাজারে বিরোধী পক্ষ যে-ই থাকুন না কেন, ভোট কাটলে তিনি মিত্র। সক্কলের। মদন মিত্রর কাছ থেকে এরপরও কি স্পোর্টসম্যানশিপ শিখে নেবে না বাকি রাজনীতিকেরা? এমনকী, আমমানুষও?

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.