‘বোঝাপড়ায় আসুন, না-হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে!’ যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানকে ১০-১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পালটা তেহরান রাষ্ট্রসংঘকে জানিয়ে দিল, তাদের উপর সামরিক হামলা হলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। সম্প্রতি দু’টি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা (US-Iran Conflict)। উভয়পক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পরে বিষয়টি সেদিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে গাজা পুনর্গঠনে তৈরি বোর্ড অফ পিস-এর সদস্যদের প্রথম বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকের শুরুতে ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি ইরানকে বার্তা দেন, “আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ বোঝাপড়ায় আসতে হবে। না হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে।” ইরানকে বোঝাপড়ায় আসার জন্য ১০-১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে লাগাতার মার্কিন হুঁশিয়ারির পালটা রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে একটি চিঠি লিখেছে তেহরান। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরানের পার্শ্ববর্তী “শত্রু বাহিনীর” সমস্ত ঘাঁটি, সুযোগ-সুবিধা এবং সম্পদকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে তার। প্রয়োজনে সেখানে হামলা চালাবে তারা। রাষ্ট্রসংঘকে দেওয়য়া বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইরান উত্তেজনা চায় না এবং হামাল না হলে যুদ্ধও শুরু করবে না। উল্লেখ্য, সময় বেঁধে দেওয়ার পরেই এই চিঠি লেখেছে তেহরান।
আরও পড়ুন:
বিগত কয়েকমাস ধরেই দু’দেশের মধ্যে সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক অতীতে ইরানের কাছে সমুদ্রে রণতরী, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে আমেরিকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার সেনা হোয়াইট হাউসকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত। আপাতত ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষাতেই তারা রয়েছে। মার্কিন সরকারের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিকের কথায়, “চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি গোটা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন।” বর্তমানে পরমাণু চুক্তি নিয়েও ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা চলছে। ট্রাম্প কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, যদি ইরান চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে যুদ্ধ ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না।
ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে দু’টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে আমেরিকা। ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরী ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে বেরিয়ে মধ্য আটলান্টিকে পৌঁছেছে এবং দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে গন্তব্যের দিকে। এই রণতরীর সঙ্গে রয়েছে ৩টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ এবং ইউএসএস উইনস্টন চার্চিল। এছাড়া বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন ও একাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল। এবার চলতি সপ্তাহেই সামরিক সংঘাতে জড়াবে কি না দু’দেশ সেটাই এখন দেখার।
সর্বশেষ খবর
-
অমৃতার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সইফের জীবনে ‘ওগো বিদেশিনী’! ‘ঘর ভাঙানি’র ভূমিকায় করিনা?
-
গান্ধীর সঙ্গে হাজতবাস, ১০০ বছর বয়সেও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছেন কলকাতার বিপ্লবী সইফউদ্দিন
-
সূচি ঘোষণার পরেও বদলে যাচ্ছে দিনক্ষণ! গণেশ চতুর্থীতে ভারত-আফগানিস্তান লড়াই?
-
বিশ্ব অঙ্গদান দিবস: নিয়মিত ধূমপান-মদ্যপান, আপনার অঙ্গ বাঁচাতে পারে অন্যের প্রাণ?
-
ওঠার আগেই বাড়তি টাকা চাইছে অ্যাপ ক্যাব, ‘দৌরাত্ম্য’ বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ মোদি সরকারের