সালটা ২০২৪। হামাস-সহ তিন ফ্রন্টে যুদ্ধ চালাচ্ছে ইজরায়েল। হামাসের পাশাপাশি ইজরায়েলের নাভিশ্বাস তুলেছে হেজবোল্লা ও হাউথি। হঠাৎ বার্তা পাঠানোর ছোট্ট যন্ত্র পেজার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। মৃত্যু হয় হামাস ও হেজবোল্লার বহু ছোট বড় নেতার। পরে জানা যায়, এই সামান্য যন্ত্রকে বোমা বানিয়ে কীভাবে শত্রুকে নাকানি চোবানি খাইয়েছিল ইজরায়েল। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে সেই ‘পেজার বোমা’ হাতে হাজির হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে কড়া সুরে বিঁধলেন ইরানকে।
আরও পড়ুন:
গতবারের মতো এবারও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রসংঘে বক্তব্য রাখতে উঠলে বেশিরভাগ দেশের রাষ্ট্রনেতা সেই ভাষণ বয়কট করেন। তাতে অবশ্য বিন্দুমাত্র ভাবিত হতে দেখা যায়নি নেতানিয়াহুকে। বরং বক্তব্য রাখার সময় পেজার দেখিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হেজবোল্লার বিরুদ্ধে চালানো অভিযানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। বলেন, ”গত ৩ বছরে ইজরায়েলি সেনারা ৭টি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছে। আপনারা কি নিউ জার্সির আকারের এমন কোনও দেশের কথা জানেন, যারা ৩ বছরে ৭টি অঞ্চলে যুদ্ধ করতে পারে?”
নেতানিয়াহু বলেন, ”গত ৩ বছরে ইজরায়েলি সেনারা ৭টি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছে। আপনারা কি নিউ জার্সির আকারের এমন কোনও দেশের কথা জানেন, যারা ৩ বছরে ৭টি অঞ্চলে যুদ্ধ করতে পারে?”
এদিন মঞ্চে নেতানিয়াহুর বক্তব্য রাখার ঘোষণা হতেই সভাস্থলে শুরু হয় বিক্ষোভ। নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠলে তাঁর ভাষণ বয়কট করেন বহু রাষ্ট্রপ্রধান। একে একে বহু দেশের প্রতিনিধি এবং আধিকারিকরা বেরিয়ে যান। তাতেই আরও রেগে ওঠেন নেতানিয়াহু। বলে বসেন, যারা হল ছেড়ে বেরচ্ছেন তাঁরা আসলে নৈতিক কাপুরুষ। আরও বলেন, “যেসমস্ত কাপুরুষরা এখনও ঘর ছেড়ে বেরননি দয়া করে তাঁরাও সকলে বেরিয়ে যান।” যাঁরা বসেছিলেন, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে দুয়ো দিতে থাকেন। তার মধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে থাকেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি দল। সবমিলিয়ে দেখা দেয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। এরপরই ইরানকে তোপ দেগে তাঁদের স্বৈরাচারী বলে তোপ দাগেন নেতানিয়াহু। বলেন, “আমি ইরানের মতো একটি খুনি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে পারমাণবিক বোমা ও পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছি। ইজরায়েলকে ধ্বংস করার উদ্দেশে পরমাণু বোমা চায় ইরান। যা সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি।” এরপরই সভামঞ্চে ২০২৪ সালের অভিযানের কথা মনে করিয়ে পেজার তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ অপরাধী তকমা দিয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। বলেছিলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত নিউ ইয়র্কে পা রাখলেই। সেই মামদানিকে পালটা দিয়েই রাষ্ট্রসংঘে নিজের ভাষণ শুরু করেন নেতানিয়াহু। বলেন, “আপনি আমাকে আটকাতে চেয়েছিলেন। চুপ করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। সত্যকে কেউ চুপ করাতে পারে না। সত্যিটা খুব সহজ, ইজরায়েল মোটেই গণহত্যা করেনি। বরং ইজরায়েল সেটা আটকেছে। যারা এইভাবে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘শুধরে যাও, নাহলে…’, নাম না করে রাষ্ট্রসংঘে ফের ‘সন্ত্রাসী’ পাকিস্তানকে তুলোধোনা জয়শংকরের
-
পুরভোটের আগে ফের সাংগঠনিক রদবদল বঙ্গ বিজেপিতে, বড় দায়িত্বে সজল
-
ভিনিসিয়াস-নুনেজদের স্বাগত জানাতে সেজে উঠছে যুবভারতী
-
রাষ্ট্রসংঘে মহানাটক! ইরানের দূতকে রহস্যময় উপহার দিতে গেলেন ইজরায়েলের প্রতিনিধি, তারপর…
-
২৪ দিনে ৫৫ নবজাতকের মৃত্যু! বিতর্কে কী বলছে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল?