‘ঘুষিতে মুখ ভেঙে দিতে ইচ্ছে করছে’, সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে ফের বিতর্কে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্টের এই আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাংবাদিক মহল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০২০, ১২:৪৫

options
link
‘ঘুষিতে মুখ ভেঙে দিতে ইচ্ছে করছে’, সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে ফের বিতর্কে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ট্রাম্পের পর খামখেয়ালি আচরণ আরেক রাষ্ট্রনেতার। ঘুষি মেরে সাংবাদিকের মুখ ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিতর্কে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো (Jair Bolsonaro)। জানা গিয়েছে, দেশের করোনা পরিস্থিতি সংক্রান্ত সাংবাদিক সম্মেলনে নাকি ওই সাংবাদিক তাল কেটে প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আর তাতেই তাঁকে রাষ্ট্রনেতার রোষানলে পড়ে হুমকি শুনতে হল। দেশের প্রেসিডেন্টের এই আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাংবাদিক মহল।

Advertisement

করোনা ভাইরাসকে (Coronavirus) ‘লিটল ফ্লু’ বলে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন ব্রাজিলের চরম দক্ষিণপন্থী প্রেসিডেন্ট। তার ফলও তাঁকে ভুগতে হয়েছে। ‘লিটল ফ্লু’র কামড় খেয়ে প্রায় সপ্তাহ তিনেক গৃহবন্দি ছিলেন। বারবার করোনা পরীক্ষাও করাতে হয়েছে। শেষমেশ সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন এবং স্বমহিমায় ফের যে অসংযত আচরণ শুরু করেছেন, রবিবার সাংবাদিককে ঘুষি মারার হুমকিই তার প্রমাণ।

Advertisement

[আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করল পাকিস্তান]

এদিন তিনি রাজধানী ব্রাসিলিয়ার এক ক্যাথিড্রালে গিয়েছিলেন প্রার্থনা করতে। সেখান থেকে বেরনোর পর সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করতে থাকেন। মূলত এই মুহূর্তে বিশ্বের করোনা মানচিত্রে দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশের পরিস্থিতি নিয়েই প্রশ্নোত্তর চলছিল। কিন্তু মাঝে তাল কেটে যায় জনৈক সাংবাদিকের সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গে তোলা এক প্রশ্নে। ব্রাজিলের ফার্স্ট লেডি মিশেল বলসোনারোর এক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করে বসেন। আর তাতেই উত্তেজিত হয়ে বলসোনারো বলে ফেলেন, ”ইচ্ছে করছে, এক ঘুষিতে তোমার মুখ ভেঙে দিতে।”

Advertisement

[আরও পড়ুন: কোমায় আচ্ছন্ন একনায়ক কিম, উত্তর কোরিয়ার রাশ ধরতে চলেছেন বোন ইয়ো]

ব্রাজিলের এক পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, ফার্স্ট লেডি মিশেল এবং তাঁর দুই সহকারী নাকি এক প্রকল্প চালানোর নাম করে সরকারি আধিকারিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়েছেন। সেই অর্থ গত কয়েকবছর ধরে জমা পড়েছে মিশেল বলসোনারোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ফার্স্ট লেডির ওই দুই সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সেই প্রসঙ্গেই রবিবার প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেছিলেন ওই সাংবাদিক। তাতেই তাঁকে ঘুষির হুমকি শুনতে হয়েছে। ঘটনাস্থলেই সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ করেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে চলে যান জাইর বলসোনারো। প্রেসিডেন্টের এই আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাংবাদিকরা। তাঁদের মতে, সাংবাদিক নিজের পেশার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বসেছেন। এর জবাব মানুষই দেবে, এমনই মত সাংবাদিক মহলের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.