Donald Trump

‘মোদির ভারতে হামলা হলে আমেরিকা পাশে’, চিনকে চিন্তায় ফেলে বড় প্রতিশ্রুতি ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের

১৫ জুন থেকে ফ্রান্সে বসেছে এবারের জি৭ সম্মেলন। চলবে ১৭ জুন পর্যন্ত। ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য না হলেও, বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসাবে নিয়মিতভাবে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। এই বছর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জি৭ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই সম্মলনেই মোদি-ট্রাম্পের আলাদা করে বৈঠক করার কথা ছিল। ভারতীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় বহু প্রতীক্ষিত সেই বৈঠক হয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৭, ২০২৬, ২১:৫২

options
link
‘মোদির ভারতে হামলা হলে আমেরিকা পাশে’, চিনকে চিন্তায় ফেলে বড় প্রতিশ্রুতি ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের
জি৭ মঞ্চে মোদির সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকে ট্রাম্প। ছবি: এএফপি।

নরেন্দ্র মোদির ভারতে যদি হামলা হয়। তাহলে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়াবে আমেরিকা। জি৭ পার্শ্ববৈঠকে ‘বন্ধু’কে বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ঘুরিয়ে চিনকে বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদিও ওমান প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন বলে সূত্রের খবর। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন অঞ্চলে যাতে অবাধে জাহাজ  চলাচল করতে পারে এবং সেখানে যাতে নাবিকরা নিরাপদে থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “মোদি অত্যন্ত সুপুরুষ। খুব ভালো মানুষ। একেবারে যেন দেবদূত।”

Advertisement

১৫ জুন থেকে ফ্রান্সে বসেছে এবারের জি৭ সম্মেলন। চলবে ১৭ জুন পর্যন্ত। ভারত জি৭-এর স্থায়ী সদস্য না হলেও, বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসাবে নিয়মিতভাবে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। এই বছর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জি৭ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এই সম্মলনেই মোদি-ট্রাম্পের আলাদা করে বৈঠক করার কথা ছিল। ভারতীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় বহু প্রতীক্ষিত সেই বৈঠক হয়। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে দেন একরাশ আশ্বাস। বলেন, “ভারত- আমেরিকার সম্পর্ক চমৎকার। আর ঘনিষ্ঠ হওয়ার কোনও জায়গা নেই।” এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারতের নেতা যদি মোদি হন, আর তাঁর নেতৃত্বে যদি সে দেশে হামলা হয়, তাহলে আমেরিকা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। দুই দেশের মধ্যে কোনও পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমেরিকা সাহায্য করতে পিছপা হবে না। তবে মোদি ছাড়া অন্য কেউ যদি নেতৃত্বে থাকেন, তাহলে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।” প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকটিকে তিনি ‘সদর্থক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

Advertisement

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন মোদি। এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হরমুজের গুরুত্ব উত্থাপন করেছেন মোদি। তিনি বলেন, “অর্থনীতির জন্য হরমুজ অবিলম্বে খুলে যাওয়া প্রয়োজন। ওই জলপথে যাতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নাবিকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।” মোদি বলেন, “সামুদ্রে বাণিজ্যের জন্য লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাবিক হরমুজ-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ব অর্থনীতির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই তাঁদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

Advertisement

শেষবার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প এবং মোদি। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে অপারেশন সিঁদুর, মার্কিন শুল্কবাণ, ইরান যুদ্ধ, হরমুজ অবরোধের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ‘সিঁদুরে’র সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব বারবার নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা নিয়ে চরমে ওঠে দু’দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন। এরপর মার্কিন ‘শুল্কবাণ’কে কেন্দ্র করেও বিবাদে জড়ায় ভারত-আমেরিকা। সম্প্রতি আবার ওমানে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘সংঘাত’ লিপ্ত হয়েছে দুই দেশ। এই পরিস্থিতিতে ১৬ মাস পর মোদি-ট্রাম্পের সাক্ষাৎ এবং বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এদিকে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বৈঠকের আগে এবং পরে ট্রাম্পের এমন আকস্মিক প্রশস্তি আসলে ‘ক্ষতে প্রলেপ’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.