Iran War

কিনেছে ভারত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে হরমুজে ধ্বংস সেই মার্কিন ড্রোন! দিল্লির চিন্তা বাড়াল ‘রিপার’

বহুমূল্য এই এমকিউ-৯ ড্রোনেরই একটি সংস্করণ কিনেছে ভারত। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ড্রোন কেনার বিষয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা হয়েছে। এর মধ্যেই ওই মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র ইরানি সেনার গুলিতে ধ্বংস হওয়ায় চিন্তায় পড়ল দিল্লি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১৫:৩১

options
link
কিনেছে ভারত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে হরমুজে ধ্বংস সেই মার্কিন ড্রোন! দিল্লির চিন্তা বাড়াল ‘রিপার’
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি।

একদিকে শান্তি আলোচনা, অন্যদিকে হরমুজের দখলদারি নিয়ে ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্ব অব্যাহত। সোমবার হরমুজের আকাশে উড়ছিল অত্যাধুনিক মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। নাগালের মধ্যে পেয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটিকে ধ্বংস করেছে ইরানি সেনা। বিবৃতি দিয়ে এই দাবি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। গুলিবিদ্ধ ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পারস্য উপসাগরে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, বহুমূল্য এই এমকিউ-৯ ড্রোনেরই একটি সংস্করণ কিনেছে ভারত। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ড্রোন কেনার বিষয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা হয়েছে। এর মধ্যেই ওই মার্কিন যুদ্ধাস্ত্রকে ইরান ধ্বংস করায় চিন্তায় পড়ল দিল্লি।

Advertisement

সাধারণত দুই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে যে কোনও দেশের সেনা। নজরদারি চালানো ড্রোন ও হামলাকারী ড্রোন। অত্যাধুনিক এমকিউ ৯ মার্কিন ড্রোন দুই কাজেই পারঙ্গম। শত্রুর উপর নজরদারি চালিয়ে লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে হামলা চালাতে পারে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রযুক্তির কারণে এই ড্রোনের দাম আকাশছোঁয়া। জানা গিয়েছে, ইরান যে ড্রোনটিকে ধ্বংস করেছে সেটির দাম ৫০ মিলিয়ান ডলার। অন্যদিকে আমেরিকার কাছে রয়েছে এরচেয়েও বেশি দামি এফ-৩৫ লাইটনিং ড্রোন। যার একটি দাম ৮২.৫ মিলিয়ান ডলার থেকে ১০৯ মিলিয়ান ডলার। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিমানগুলির থেকেও বেশি মূল্যের এই ড্রোনগুলি। যেমন, পাকিস্তানের কাছে থাকা জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের মূল্য ২৫ মিলিয়ান। অন্যদিকে, ভারত ব্যবহার করে এইচএএল তেজাস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান। সেটির দাম ৪০ মিলিয়ান ডলার থেকে ৪৫ মিলিয়ান ডলার।

Advertisement

এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, সোমবার ভোরে আইআরজিসির আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘সতর্ক যোদ্ধারা’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দূরপাল্লার মার্কিন ড্রোন এমকিউ-৯-এ  আঘাত হানে। পরে ওই ড্রোনটি পারস্য উপসাগরে ভেঙে পড়ে। প্রশ্ন হল, এই ঘটনা দিল্লির জন্য কতটা উদ্বেগজনক? ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত আগস্ট মাসেই ১,৯৪৩ কোটি টাকা খরচ করে দু’টি ‘এমকিউ-৯বি সি গার্ডিয়ান’ কিনেছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ওই ড্রোনগুলির সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে ‘এমকিউ-৯ রিপার’-এর।

Advertisement

অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন নির্মাণকারী সংস্থা জেনারেল অ্যাটমিক্সেরের তথ্য অনুযায়ী, স্থলভূমি ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য তৈরি ‘রিপার’। অপরপক্ষে ভারতের হাতে আসা ‘সি গার্ডিয়ান’-কে মূলত সমুদ্র-নজরদারির জন্য তৈরি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রিপারের তুলনায় সি গার্ডিয়ানের ডানার বিস্তার বেশি (৭৯ ফুট), উড়ানকালীন ওজন বেশি (৫,৬৭০ কেজি)। আকাশে একটানা ওড়ার সক্ষমতা বা ‘এন্ডুরেন্স’ও বেশি (রিপারের ২৭ ঘণ্টার তুলনায় ৩০ ঘণ্টা)। এর পরেও ইরানের ধ্বংসযজ্ঞের পর মার্কিন ড্রোন কেনা নিয়ে নতুন করে ভাবছে দিল্লি। এমনটাই সূত্রের খবর।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.