হিমালয়ে হাহাকার
Nepal Flash Flood

মহাপ্রলয়ে মৃত ৯০৩, তিন মাস আগে হিমবাহের তথ্য চেয়েছিল নেপাল, চিনের গড়িমসিতেই বিপর্যয়!

নেপালে বিধ্বংসী বন্যার পর অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে চিতওয়ানের দেবঘাট জঙ্গলে শত শত কবর খুঁড়েছে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১৫:৩২

options
link
মহাপ্রলয়ে মৃত ৯০৩, তিন মাস আগে হিমবাহের তথ্য চেয়েছিল নেপাল, চিনের গড়িমসিতেই বিপর্যয়!
চিনের গড়িমসিতেই নেপালে বিপর্যয়!

নেপালে মহাপ্রলয়ের (Nepal Flash Flood) পর পেরিয়ে গিয়েছে ৫ দিন। সময় যত গড়াচ্ছে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শেষ পাওয়া খবরে, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৯০৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৪২০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ। এদিকে এই দুর্যোগের জেরে চিনের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগের আঙুল। তথ্য বলছে, ৩ মাস আগে চিনের কাছে হিমবাহের তথ্য চেয়েছিল নেপাল। তবে চিন কোনও তথ্য দেয়নি।

Advertisement

হিমবাহ ধসে ভয়াবহ হড়পা বানের ঠিক ৩ মাস আগে, অর্থাৎ গত মে মাসে কাঠমান্ডুতে এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে বৈঠক করেছিলেন নেপাল ও চিনের আধিকারিকরা। তবে রয়টর্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপালের অভিযোগ, হিমবাহের গতিবিধি, জলস্তর এবং চরম আবহাওয়ার তথ্য চিনের কাছ থেকে যতটা প্রয়োজন ছিল, ততটা পাওয়া যায়নি। ২৭ মে-র ওই বৈঠকে ছিলেন ১০ জন নেপালি আধিকারিক এবং তিব্বতের প্রতিনিধি-সহ প্রায় ১২ জন চিনা আধিকারিক। সেখানে বন্যা, আবহাওয়া এবং হিমবাহ-জনিত ঝুঁকি এড়াতে দু’পক্ষের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। হিমবাহ হ্রদের তালিকা এবং তার ঝুঁকি কতখানি সেই মানচিত্র তৈরির লক্ষ্যে যৌথ পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়। নেপালের ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশনের হাইড্রোলজিস্ট সৌহার্দ্র জোশী রয়টার্সকে বলেন, “আমরা ওদের কাছ থেকে যা চেয়েছিলাম, তা এখনও চাই। সেটা হল হিমবাহের প্রাথমিক রিপোর্ট, ওই এলাকার আশপাশে কোনও গতিবিধি হলে যেন আমরা একটু আগেভাগে জানতে পারি।”

Advertisement

নেপাল শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস নয়, প্রতি ১০ মিনিটে চিনের থেকে হিমবাহ সংক্রান্ত তথ্য চায়।

তবে নেপালের অভিযোগ উড়িয়ে চিনের দাবি, তাঁরা পর্যাপ্ত তথ্য নেপালকে দিয়েছে। নেপালের চিনা দূতাবাস জানিয়েছে, এই বিষয়ে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। দুর্গম হিমালয় সীমান্তে বিপদ পর্যবেক্ষণ এক বড় চ্যালেঞ্জ। পালটা নেপালের হাইড্রোলজিস্ট বিনোদ পরাজুলি বলেন, “তিব্বত এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে শুধু সেটাই চিনের তরফে জানানো হয়। তবে তুষারধস, জলস্তর, ভূমিধসের মতো কোনও তথ্য দেওয়া হয় না। যার জেরেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। নেপাল শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস নয়, প্রতি ১০ মিনিটে হিমবাহ সংক্রান্ত তথ্য চায়।”

Advertisement

এদিকে নেপালে বিধ্বংসী বন্যার পর অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে চিতওয়ানের দেবঘাট জঙ্গলে শত শত কবর খুঁড়েছে। পচতে থাকা দেহগুলিকে এখানে কবর দেওয়া হবে। গত ২ দিনে ১৯৬টি দেহ কবর দেওয়া হয়েছে। অনেক মৃতদেহ এতটাই পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গেছে যে সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন। তাই, প্রতিটি মৃতদেহের সঙ্গে শনাক্তকরণ নম্বর এবং প্রয়োজনীয় নথি রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা যায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.