শুক্রবার অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাশিয়ায় শুরু হয়েছে সংসদীয় নির্বাচন। আগামী ৩ দিন ধরে গোটা দেশে চলছে ভোটগ্রহণ পর্ব। যুদ্ধে ইউক্রেনের যেসব অঞ্চলের দখল নিয়েছে রাশিয়া সেখানেও হচ্ছে ভোটগ্রহণ। জানা যাচ্ছে, এই নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিনের দল ইউনাইটেড রাশিয়ার জয় কার্যত নিশ্চিত। কারণ, রাশিয়ায় একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে পরিচিত ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধী ‘ইয়াবলোকো দল’কে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর এই প্রথম সংসদীয় নির্বাচন হচ্ছে রাশিয়ায়। ক্রেমলিনের কাছে এই নির্বাচন শুধু সাংসদ নির্বাচন নয়, বিশ্বকে বার্তা দেওয়ার মাধ্যম। পুতিন চান নির্বাচনে বিপুল সংখ্যায় ভোটারের উপস্থিতি এই বার্তা দিক যে যুদ্ধের মাঝেও দেশের জনগণ সরকার ও সেনার পাশে রয়েছে। শুক্রবার পুতিন নিজে অনলাইনে নিজের ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি বার্তা দেন, দেশের জনগণ নিজের ভোটাধিকার পেশ করেই প্রমাণ করবেন লক্ষ লক্ষ মানুষ রুশ সেনার পাশে রয়েছে এবং আমাদের দেশ ঐক্যবদ্ধ। রাশিয়ার সংসদে মোট আসন সংখ্যা ৪৫০টি। এরমধ্যে ২২৫টি আসন রুশ স্টেট ডুমারে। বাকি অঞ্চলগুলিতে ছড়িয়ে রয়েছে বাকি ২২৫টি আসন।
রাশিয়ায় একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে পরিচিত ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধী ‘ইয়াবলোকো দল’কে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এই নির্বাচনে শাসকদল ইউনাইটেড রাশিয়া ছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টি, এলডিপিআর, এ জাস্ট রাশিয়া এবং নিউ পিপল-এর মতো দলগুলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যদিও রাশিয়ায় এই দলগুলিকে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের পাশে দাঁড়ায়। এদের মাঝে একমাত্র প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইয়াবলোকো দলকে। যারা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রকাশ্য বিরধিত করেছিল। দলটি আলোচনার মাধ্যমের যুদ্ধের অবসানের পক্ষে সওয়াল করে। তবে আগস্ট মাসেই দলটিকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রুশ সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের তরফে বলা হয়, দলটি নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি অর্থায়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ ব্যবহার করেছে। এছাড়াও, অনুমতি ছাড়া ছবি ও প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করেছে। অনলাইন প্রচারের নিয়মও লঙ্ঘন করেছে দলটি। তবে ইয়াবলোকোর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করার জেরেই তাদের দলকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য দলের কিছু প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে যুদ্ধবিরোধী নেতাদের জেলবন্দি করা হয়েছে, কেউ আবার বাধ্য হয়েছেন রাশিয়া ছাড়তে।
এদিকে এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো রুশ অধিকৃত ইউক্রেনের অঞ্চলগুলিতে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া এলাকাগুলোতে চলছে এই ভোটগ্রহণ। তবে রাশিয়ার এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে আন্তর্জাতিক মহল। ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেখানকার এই ভোটকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক মহলকে এই নির্বাচনে আমন্ত্রক জানায়নি রাশিয়া। ফলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকেই এর প্রাথমিক ফলাফল সামনে আসতে পারে। আশা করা হচ্ছে, ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সম্পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে। তবে পুতিনের দল যে সংসদে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখবে তা কার্যত নিশ্চিত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মানুষ-বন্যপ্রাণ সহাবস্থানেই বাজিমাত! জঙ্গলমহলের প্রথম অভয়ারণ্য হচ্ছে পুরুলিয়ায়
-
বাড়ির থেকে ৪০০ মিটার দূরেই মৃত্যুফাঁদ! বিশ্বকর্মা পুজো থেকে ফেরার পথে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত যুবক
-
প্রতীক নিয়ে জটিলতা হুমায়ুনের দলেও! রেজিনগরে বিধায়কপুত্রের ‘বাঁশি’ চিহ্নে লড়াই নিয়ে চরমে অনিশ্চয়তা
-
জোড়াফুলের শ্রাদ্ধ! তৃণমূলের প্রতীক ‘মৃত্যু’তে পুরোহিত ডেকে অভিনব কর্মসূচি বিজেপির
-
নন্দীগ্রামের পর রেজিনগর! মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন মমতার ‘শেষ সৈনিক’ রবিউলও? জল্পনা তুঙ্গে