পাকিস্তান

করাচি বিমান দুর্ঘটনার নয়া তথ্য, কন্ট্রোলারের ৩টি সতর্কবার্তাকে অগ্রাহ্য পাইলটের!

বিমান দূর্ঘটনার তদন্তে নেমে আরও একটু সময় চান তদন্তকারীরা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৫, ২০২০, ২২:৪৩

options
link
করাচি বিমান দুর্ঘটনার নয়া তথ্য, কন্ট্রোলারের ৩টি সতর্কবার্তাকে অগ্রাহ্য পাইলটের!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) বিমান দুর্ঘটনার পর সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার থেকে তিনবার সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছিল PK-৮৩০৩ বিমানের পাইলটকে। কিন্তু সেই বার্তায় ভ্রুক্ষেপ করেননি পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (PIA) পাইলট। ফলস্বরূপ প্রাণ হারান ৯৭ জন।

Advertisement

গত শুক্রবারই করাচি সাক্ষী থাকল ভয়ানক বিমান দুর্ঘটনার। যাত্রী-সহ বিমান কর্মী মিলিয়ে ৯৭ জন প্রাণ হারান এই দুর্ঘটনায়। তবে দুর্ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা বাদে অন্তর্তদন্তে উঠে এল নয়া তথ্য। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার থেকে তিনবার সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছিল পাইলটকে। বারবার তাঁকে বলা হয়েছিল উচ্চতার সঙ্গে বিমানের গতির সামঞ্জস্য রাখতে। তারপরেও নাকি পাত্তাই দেননি পাইলট। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের বার্তায় কান না দিয়ে তিনি জবাবে জানিয়েছিলেন যে, সব ঠিক আছে। আমি সামলে নেব। আর এই আত্মবিশ্বাসই ৯৭টি নিস্পাপ প্রাণ কেড়ে নিল। করাচি বিমানবন্দরে নামার আগেই আছড়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস এ-৩২০। বিমানে থাকা মোট ৯৯ জনের মধ্যে ভাগ্যের জোরে বাঁচলেন ২ জন। সোমবার তদন্তকারী আধিকারিকদের দেওয়া একটি রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

Advertisement

[আরও পড়ুন:ভূগর্ভেও করোনার থাবা! পৃথিবীর গভীরতম সোনার খনিতে কাজে নেমে আক্রান্ত শতাধিক শ্রমিক]

শুক্রবার লাহোর থেকে করাচির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল PK-৮৩০৩ বিমানটি। করাচির জিন্না আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই ঘটে বিপত্তি। জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে প্লেন যখন ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে তখন প্রথম ওয়ার্নিং বা সতর্কবার্তা পাঠায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার (ATC)। ৭ হাজার ফুটের বদলে তখন প্লেন উড়ছিল ১০ হাজার ফুট উচ্চতায়। দ্বিতীয়বার সতর্কবার্তা আসে যখন বিমানবন্দর থেকে প্লেনের দূরত্ব ১০ নটিক্যাল মাইল। সেসময় ৩ হাজার ফুটের বদলে বিমান উড়ছিল সাত হাজার ফুট উচ্চতায়। ATC-র পরপর দুটো সতর্কবার্তার পরেও পদক্ষেপ নেননি পাইলট। অবতরণের ঠিক আগের মুহূর্তেও ATC-র তরফ থেকে ওয়ার্নিং পাঠানো হয় পাইলটকে। তখন আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে পাইলট জানান যে, পরিস্থিতি নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। বরং সব সামলে ল্যান্ডিংয়ের জন্য প্রস্তুত তিনি। এরপরের ঘটনা সকলেরই জানা।

Advertisement

[আরও পড়ুন:ফের জনসমক্ষে কিম, আশঙ্কা বাড়িয়ে আণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতিতে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক]

এখনও করাচির বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত শেষ হয়নি। সেই তদন্তের প্রকাশিত একটি রিপোর্টে জানানো হয়, বিমানে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ওড়ার জন্য জ্বালানি ছিল। আর প্লেন উড়েছিল মাত্র দেড় ঘণ্টা। তবে পাইলটের ভুলকেই এখনি চূড়ান্ত বলে মেনে নিতে রাজি নন তদন্তকারী সংস্থা। পাইলটের ভুল নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ? ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়েছিল ওই বিমানটি তা জানতে আরও খতিয়ে দেখতে চান তদন্তকারী আধিকারিকরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.