সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির গোপন তথ্য ফাঁস করে বিপদে পড়েছিলেন এডওয়ার্ড স্নোডেন৷ বিপদ এখনও কাটেনি৷ আপাতত রাশিয়ার আশ্রয় থাকলেও, সিআইএ তাঁর উপর থেকে নজর সরায়নি৷ তবে এই প্রতিবেদনের মুখ্য চরিত্র স্নোডেন নন, বরং আমেরিকা থেকে পালানোর পর তাঁর প্রথম আশ্রয়দাত্রীর খবর৷ সেই আশ্রয়দাত্রী নিজে এবার নিরাপদ আশ্রয় পেলেন কানাডায়৷ সপরিবারে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেন৷
[ আরও পড়ুন: ৩০ বছরেই জলশূন্য হবে ব্রিটেন! উষ্ণায়ন নিয়ে সতর্কবার্তা ব্রিটিশ গবেষকদের]
নাম ভানেসা রডেল৷ বছর বিয়াল্লিশের হংকং নিবাসী মহিলা৷ ২০১৩ সালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তাড়া খেয়ে যখন আমেরিকা থেকে পালিয়ে যান স্নোডেন, সেসময় প্রথম আশ্রয় পেয়েছিলেই এই ভানেসার কাছেই৷ সঙ্গে ছিলেন ভানেসার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব৷ তারপর থেকে মার্কিন গোয়েন্দাদের নজরে ছিলেন ভানেসা ও তাঁর বন্ধুরা৷ ছোট মেয়ে কিয়ানাকে নিয়ে দিন কাটত আতঙ্কে৷ ফিলিপিন্সের নাগরিক ভানেসা বুঝতে পারছিলেন, হংকং তাঁর জন্য আর নিরাপদ নেই৷ বোঝামাত্রই নিরাপদ জায়গা খুঁজতে শুরু করেছিলেন৷ আবেদন করছিলেন বিভিন্ন দেশে৷ ততদিনে স্নোডেন রাশিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকতে শুরু করেছেন৷ তবে প্রথম আশ্রয়দাত্রীকে ভোলেননি৷
জানুয়ারিতে কানাডায় শরণার্থীর পরিচয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করেন ভানেসা রডেল৷ এই কাজে তাঁর পাশে ছিলে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যাঁরা উদ্বাস্তুদের নিয়ে কাজ করে৷ তাতেই রাস্তা অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে৷ সেই আরজি মঞ্জুর করে ফিলিপিন্সের নাগরিক ভানেসাকে নিজেদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে কানাডা প্রশাসন৷ সোমবার হংকং থেকে বিমানে টরেন্টো পৌঁছান ভানেসা এবং মেয়ে কিয়ানা৷ বিমানবন্দরে পা রেখেই ভানেসার প্রথম প্রতিক্রিয়া, ‘এবার আমি মুক্ত, নিরাপদ৷ মেয়েটাকে নিয়ে শান্তিতে জীবন কাটাব৷ কানাডা প্রশাসনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ৷’ তাঁর ছোট মেয়ে কিয়ানার ভবিষ্যতের কথা ভেবেই জলদি এই সিদ্ধান্ত বলে কানাডার সরকারি সূত্রে খবর৷ যদিও প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবিষয়ে মুখ খোলেননি৷
[ আরও পড়ুন: ভেস্তে গেল বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠক, ব্রেক্সিট নিয়ে বিপাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ]
সম্প্রতি শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কানাডা প্রশাসন বেশ সহানভূতিশীল৷ মাস দুই আগে সৌদি আরবে পরিবারের অনুশাসন ভেঙে পালিয়ে আসা তরুণীকে আশ্রয় দিয়েছে কানাডা৷ এবার শরণার্থীর মর্যাদায় স্থায়ী আশ্রয় প্রদান ফিলিপিন্সের বাসিন্দা ভানেসা রডেলকে৷ আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মত, জাস্টিন ট্রুডো প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার পর এধরনের বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে৷ কানাডার এমন ভূমিকা বিশ্বের দরবারে বেশ প্রশংসিত হয়েছে৷
সর্বশেষ খবর
-
সার্কিট হাউসে মহুয়াকে ঘর ছাড়তে ‘চাপ’, বাইরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান! উত্তেজনা কৃষ্ণনগরে
-
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্রে ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশের কারুকাজ, মাওবাদীমুক্ত রাজ্যের শিল্পচর্চায় জোর
-
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ৭টি গাড়িতে মাংস পাচার! পুলিশি অভিযানে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ১৮
-
এই প্রথম! স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গী কেন্দ্রীয় বাহিনী
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা