Strait of Hormuz

আমেরিকার ‘সাহায্যে’ হরমুজ পার ভারতীয় জাহাজের? ইরানকে বোকা বানিয়ে প্রণালীতে চলছে কোন ‘খেলা’?

ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১, ২০২৬, ১৭:২৫

options
link
আমেরিকার ‘সাহায্যে’ হরমুজ পার ভারতীয় জাহাজের? ইরানকে বোকা বানিয়ে প্রণালীতে চলছে কোন ‘খেলা’?
যুদ্ধের আগুনে রুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। প্রতীকী ছবি।

যুদ্ধের আঁচে উত্তপ্ত গোটা মধ্যপ্রাচ্য। রুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। এই পরিস্থিতিতে রাতের অন্ধকারে মার্কিন সেনার সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পার করছে একের পর এক পণ্যবাহী জাহাজ। একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ভারতের পতাকাবাহীগুলিও হরমুজ পারে আমেরিকার সাহায্য নিচ্ছে? 

Advertisement

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে ইরানের নজর এড়িয়ে অন্তত ৭০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ পেরিয়েছে। সবকটিই আমেরিকার সাহায্যে। সূত্রের খবর, পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজে প্রবেশ এবং হরমুজ থেকে পারস্য উপসাগরে যাওয়ার জন্য বিশেষ কৌশলে এই জাহাজগুলিকে সাহায্য করেছিল মার্কিন সেনা। কিন্তু যুদ্ধে জর্জরিত প্রণালীতে কীভাবে ইরানকে ‘বোকা বানিয়ে’ চলছে এই ‘খেলা’? সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, হরমুজ পারের সময় বেশিরভাগ বাণিজ্যতরীই তাদের ‘ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ রেখেছিল। ‘ট্রান্সপন্ডার’ হল একরকম বৈদ্যুতিন যন্ত্র, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত গ্রহণ করে এবং তার জবাবে তাৎক্ষণিক সংকেত পাঠায়। ‘ট্রান্সপন্ডার’ বন্ধ থাকায় জাহাজগুলির ব্যাপারে কোনও তথ্যই জানতে পারেনি ইরানি সেনা।  

Advertisement

কিন্তু এই ৭০টি জাহাজ কোন কোন দেশের ছিল? সেগুলি কোথা থেকে কোথায় গিয়েছে? সে বিষয়ে আমেরিকার তরফে কিছু জানানো হয়নি। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গত তিন সপ্তাহে একাধিক ভারতের পতাকাবাহী জাহাজও হরমুজ পেরিয়েছে। তাহলে কি সেগুলিও মার্কিন সেনার শরণাপন্ন হয়েছিল? সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মুখ খোলেনি নয়াদিল্লিও। তবে কয়েকদিন আগে হরমুজে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজের অবাধ যাতায়াতে ‘গোপন কূটনীতি’র কথা ‘ফাঁস’ করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার।

Advertisement

জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রকের অন্তর্গত নৌপরিবহণ বিষয়ক পরিচালক ওপেশকুমার শর্মা জানান, হরমুজতে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে ভারত সমন্বয় করে চলছে। কিন্তু কীভাবে গোটা বিষয়টি পরিচালিত হচ্ছে, কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। শুধু এইটুকু বলতে চাই, আমাদের কাজ বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করা। এখানেই আমরা সীমাবদ্ধ।”

প্রসঙ্গত, ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়। ফলে হরমুজ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বলে পরিচিত। 

মার্কিন কর্তাদের বক্তব্য, তেহরানকে ‘বোকা বানিয়ে’ একের পর এক জাহাজকে হরমুজ পারে সাহায্য করা যথেষ্ট কঠিন কাজ। ইরানের সেনাবাহিনী টের পেলেই জাহাজগুলিতে গোলাবর্ষণ শুরু করে দেবে। কিন্তু তবুও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বিশেষ কৌশলে বাজিমাত করছে মার্কিন সেনা। মনে করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলি ওমানের কাছাকাছি কোনও রুট ব্যবহার করছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.