বিশেষ উদ্দেশ্যেই পাকিস্তানকে ব্যবহার করেছে আমেরিকা। তারপর কাজ মিটলে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। ঠিক টয়লেট পেপারের মতো। এমন মন্তব্য ভারত বা অন্য কোনও দেশের নয়। খোদ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের (Khawaja Asif)! এবং সেটাও নিজের দেশের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে! আপাতত তাই কূটনৈতিক বিশ্বের চর্চায় খাজার বিস্ফোরক মন্তব্য।
আরও পড়ুন:
ঠিক কী বলেছেন খাজা? তাঁর মতে, ১৯৯৯ সালের পর নতুন করে আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্ক হয় পাকিস্তানের। বিশেষ করে আফগানিস্তান ইস্যুতে। আর এতে আখেরে ক্ষতিই হয়েছে পাকিস্তানের। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তে চরম ভুল হয়ে গিয়েছিল ইসলামাবাদের। যার মূল্য এখন চোকাতে হচ্ছে।
খাজা দাবি করেন, আটের দশকে আফগানিস্তানের সোভিয়েত-বিরোধী লড়াই কোনও ধর্মীয় কারণে হয়নি। এর পিছনে আসলে ছিল আমেরিকার কূটনীতি। তাঁর মতে, রাশিয়া এমন কোনও কাজ আফগানিস্তানে আদৌ করেনি যে কারণে জেহাদ ঘোষণা করা যায়।
দশকের পর দশক ধরে যা বলে এসেছে পাকিস্তান, কার্যত সেটাকেই যেন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন খাজা। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, ইসলামকে বাঁচাতেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে পাকিস্তান- এই কথাটা ঠিক নয়। জেহাদের নামে এই লড়াই ছিল ভ্রান্তিকর ও ধ্বংসাত্মক।
সেই সঙ্গেই খাজা দাবি করেন, আটের দশকে আফগানিস্তানের সোভিয়েত-বিরোধী লড়াই কোনও ধর্মীয় কারণে হয়নি। এর পিছনে আসলে ছিল আমেরিকার কূটনীতি। তাঁর মতে, রাশিয়া এমন কোনও কাজ আফগানিস্তানে আদৌ করেনি যে কারণে জেহাদ ঘোষণা করা যায়। এরই পাশাপাশি তিনি পরিষ্কার করে দেন, ১৯৯৯ থেকে, বিশেষত ২০০১ সালে ৯/১১-র পরে আমেরিকার হাত ধরে চলার মাশুল গুনতে হয়েছে পাকিস্তানকে। আর এর জন্য সেদেশের সেনা শাসক জিয়া-উল-হক ও পারভেজ মুশারফকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। আর এই প্রসঙ্গেই তিনি ওয়াশিংটনকেও তোপ দেগে দাবি করেছেন, টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করে আমেরিকা তাঁদের ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।
২০০১-পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে খাজা বলেন, আমেরিকার সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধকে সমর্থন করতে পাকিস্তান তালিবানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু যখন পাকিস্তান মৌলবাদ ও অর্থনৈতিক চাপের ভিতরে ডুবে গেল, তখন ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান থেকে সরে গেল। তাঁর কথায়, “আমরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা কখনওই পূরণ হবে না।” সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকার ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ আচরণের মধ্যেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীলএহেন মন্তব্যে হোয়াইট হাউস কী মন্তব্য করে সেটাই এখন দেখার।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ