দলীয় নির্বাচনী প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) (ISF)। প্রতীক ফিরে পাওয়ার জন্য কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছে আইএসএফ। কীভাবে একই প্রতীক দুটি রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হল? সেই প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্টও তলব করা হল। আজ, বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে ওই মামলার শুনানি হয়। আগামী কাল, বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি।
২০২১ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল আইএসএফ। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে সেটির নেতৃত্ব শুরু থেকে এখন দিয়ে আসছেন তাঁরই ছোটভাই নওশাদ সিদ্দিকী। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করে আইএসএফ। হাতে সময় থাকায় সেসময় কোনও প্রতীক নির্বাচন কমিশনের তরফে পাওয়া যায়নি। সেসময় খাম চিহ্নে লড়াই করেছিল আইএসএফ।
এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী প্রতীকের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছে আইএসএফ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে এই প্রতীক নিয়েই লড়াই করছিল আইএসএফ।
সেই বছর ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নওশাদ সিদ্দিকী ভোটে জিতেছিলেন। এবারও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খাম চিহ্নে আইএসএফ লড়াই করেছে। এবারও ওই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন নওশাদ। এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী প্রতীকের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছে আইএসএফ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে এই প্রতীক নিয়েই লড়াই করছিল আইএসএফ।
শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একই প্রতীক দুটি রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হল? কমিশনের পক্ষে আইনজীবী অমৃতা পাণ্ডে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু সেই আবহে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। আইএসএফ ও ঋতব্রত তৃণমূল কে এই চিহ্নে লড়বে? সেই নিয়ে জোর জল্পনা দেখা যায়। পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, এবার উপ নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য আলমারি প্রতীক চিহ্ন আইএসএফ-কে দেওয়া হল। কিন্তু খাম চিহ্নেই লড়তে চায় আইএসএফ। প্রতীক ফিরে পেতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন নওশাদরা। আইএসএফের হয়ে এই মামলার শুনানি করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ২০২১ সাল থেকে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করছে, যা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেই প্রতীকই অন্য একটি অননুমোদিত রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেন বিকাশ।
শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একই প্রতীক দুটি রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হল? কমিশনের পক্ষে আইনজীবী অমৃতা পাণ্ডে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রতীকের কোনও বিশেষত্ব নেই। কমিশন যে কাউকেই এই প্রতীক দিতে পারে। বিচারপতির পালটা প্রশ্ন, কীভাবে এটি সম্ভব? কমিশনের আইনজীবী জানান, এটি একটি ফ্রি সিম্বল। যদিও সেই বক্তব্য বিচারপতি খুব একটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেননি। কীভাবে দুটি রাজনৈতিক দল একই প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে? কমিশনকে জানাতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
‘বিগ বস বাংলা’র দূর্গে রহস্যময়ী! ‘স্পিটসভিলা’ কাঁপানো ‘ক্যুইন’ কি এবার কোণঠাসা করবেন নন্দিনীকে?
-
জোড়া ছোবলে বাংলাদেশে ‘মড়ক’, হামের ‘মৃত্যুবাণে’ নিহত ১০৭৬ শিশু, ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ২০০!
-
মনসা পুজোর বিসর্জনে নৌকা বাইচ, ৭০ বছরের ঐতিহ্যে মাতল কানমারী
-
ত্রিকোণ প্রেমের জেরে শপিং মলে বন্ধুর গলায় ছুরির কোপ! নিউটাউনে রক্তারক্তি
-
শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও পাবেন বকেয়া ডিএ, ‘তবে কিছুটা সময় লাগবে’, হাই কোর্টে জানাল রাজ্য