১৯৮৯ সালের জুন মাস। চিনের বাতাসে বসন্তের রঙ লাগলেও সে দেশের সামাজিক- রাজনৈতিক পরিস্থিতি একেবারেই উজ্জ্বল ছিল না। দুর্নীতির প্রতিবাদে ও গণতন্ত্র, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে তখন উত্তাল বেজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ার। বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার ছাত্র-যুব। আন্দোলনকারীদের উপর চিনা সেনার রক্তাক্ষয়ী দমন-পীড়ন আজও বিশ্বের ইতিহাসে এক অন্ধকারময় অধ্যায়। সেই ঘটনার কয়েক দশক কেটে গেলেও আজও চিনা কমিউনিস্ট পার্টি সেই পদক্ষেপকে ‘ভুল’ বলে স্বীকার করেনি। বরং বারবার ‘রক্তপিপাসু’ কমিউনিস্ট সরকার তার সাফাই গেয়েছে। এবার চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের মন্তব্যে ফের উসকে গেল বিতর্ক।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ ভাষণ দিতে গিয়ে জিনপিং বলেন, “অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা ও অভূতপূর্ব ক্ষমতা নিয়ে আমরা বড় বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করব, তা উত্তাল সমুদ্রই হোক কিংবা প্রচণ্ড ঝড়। আমাদের অবশ্যই দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে। এর মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে হবে।” ৪৫ মিনিটের সেই বক্তৃতায় জিংপিং প্রাক্তন চিনা প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের দীর্ঘ কর্মজীবনেরও নানা সাফল্যের প্রশংসা করেন। তার মধ্যে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের আন্দোলনের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। বিক্ষোভ দমাতে করে চিনা সেনার বলপ্রয়োগের সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন জিনপিং। বলেন, “১৯৮৯ সালে চিন এক গুরুতর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। সে সময় কমরেড জিয়াং জেমিন কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যে সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছিলেন সেগুলি সমর্থনযোগ্য। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সিদ্ধান্তগুলি ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।” ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে জিনপিং আসলে তিয়েনআনমেন গণহত্যার প্রতি সমর্থন জুগিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের জুনে বেজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের সরাতে চিনা সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে। নির্বিচারে চালানো হয় গুলিও। চিনা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ২৪১ জনের। কিন্তু বাস্তবে সংখ্যাটা প্রায় ৩ হাজার।
সর্বশেষ খবর
-
সময় বদলালেও টিকে থাকবে বন্ধুত্ব, সম্পর্ক অটুট রাখতে মেনে চলুন এই ৫ উপায়
-
উইপ্রো, টাটা গ্রুপে হাজার হাজার চাকরির সুযোগ! রাজ্যে প্রথমবার ‘কৌশল মহোৎসব’
-
জাতীয় পুরস্কার পেয়েই প্রযোজকের ভূমিকায় কার্তিক আরিয়ান, কার বায়োপিক দিয়ে হাতেখড়ি?
-
স্বাধীনতা দিবসে ধর্মীয় স্লোগান সংখ্যালঘু ছাত্রীদের! ভিডিও ভাইরাল হতে সাফাই, ‘লাড্ডু খেতে এসেছিলাম’
-
জাদেজার উত্তরসূরি পেয়ে গেল ভারত! শ্রীলঙ্কার কোমর ভেঙে সুথার কৃতিত্ব দিলেন জাড্ডুকেই