শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেটে পরতে পরতে চমক। শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যে কল্পতরু রাজ্য সরকার। কৃষি বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সেকথা মাথায় কৃষকদের জন্যও রয়েছে একগুচ্ছ ঘোষণা। তার ফলে ‘আচ্ছে দিনে’র আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন কৃষকরা।
এই বিষয়ে আরও খবর
আলুচাষিদের জন্য:
রাজ্য সরকার আলু সংগ্রহের জন্য প্রতি কুইন্টালে অতিরিক্ত ২০০ টাকা দেবে। ২৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন স্টোরেজে মিশন ফর ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ হর্টিকালচার চালু রয়েছে। ১০০ মেট্রিক টন ক্ষমতাসম্পন্ন বহুমুখী কোল্ড স্টোরেজ ও প্যাকিং সেন্টার তৈরিতে উৎসাহ দিতে রাজ্যের তরফে ৩৫ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়ার জন্য ১০০ কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে। আলুচাষিদের হাতে উচ্চ গুণমানসমৃদ্ধ বীজ পৌঁছে দিতে রাজ্য বাজেটে (West Bengal Budget 2026) আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
ধানচাষিদের জন্য:
ধান চাষিরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে সরাসরি ক্রয়ের ব্যবস্থা রাজ্যে চালু করা হবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আরও সহায়তা দিয়ে খারিফ মরশুমে প্রতি কুইন্টালে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের উপর অতিরিক্ত ২০০ টাকা ইন্সেটিভ দেওয়া হবে। তার ফলে কুইন্টাল প্রতি এবার ৩ হাজার ১০০ টাকা দামে ধান কিনবে রাজ্য সরকার।
ফসলবিমা:
জলবায়ু পরিবর্তনের সময় ফসলের ক্ষতি রুখতে ২০১৮ সাল থেকে ‘পিএম কিষান’ প্রকল্প চালু আছে। এই প্রকল্পে কৃষকরা প্রয়োজনে তিন কিস্তিতে বছরে ৬ হাজার টাকা পান। বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রতি কৃষক পরিবার পিছু বছরে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা আর্থিক ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এছাড়া কৃষকদের জন্য় প্রধানমন্ত্রী ফসলবিমা যোজনা চালু হয়েছে। ২০২৬ খারিফ মরশুম থেকে ১৬টি ফসল এই সুরক্ষার আওতাধীন।
বিদ্যুতে ভর্তুকি:
চাষের খরচ কমাতে এবং চাষিদের আয় বাড়াতে সাবমার্সিবল পাম্প ব্যবহারকারীদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ খরচে ২ টাকা করে ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার।
সেচব্যবস্থা:
সেচব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুরে ৩.৪২ লক্ষ হেক্টর এলাকায় সেচ ব্যবস্থার জন্য তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পকে ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অতিবর্ষণ ও বন্যায় জানে ফসলের ক্ষতি না হয় তাই নিকাশিব্যবস্থা উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের ড্রিপ, স্প্রিঙ্কলার ও অন্যান্য ব্যবস্থার খরচের ৫৫ শতাংশ বহন করে। কৃষকদের জন্য মোট ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বীজের দাম:
প্রধানমন্ত্রী অন্নদাতা আয় সংরক্ষণ অভিযানে আলু, টমেটো, পেঁয়াজ, ডাল এবং তৈলবীজের দাম ঠিক রাখতে ১০০ কোটি টাকার একটি স্টেট প্রাইস স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড তৈরি করা হবে।
ফুলচাষের ক্লাস্টার:
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা, হাওড়া, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বাণিজ্যিক ফুলচাষের ক্লাস্টার গড়়ে তুলতে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আমচাষিদের জন্য:
মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তের আমচাষিদের জন্য ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ইন্ট্রিগ্রেটেড প্যাক হাউস গড়ে আমের রপ্তানি বৃদ্ধিতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকদের জন্য:
পশ্চিমাঞ্চলে মুসাম্বির মতো লেবুজাতীয় ফলচাষ, কিউই, অর্কিড, অ্যাভোকাডো, ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট উৎপাদনের জন্য আরও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে ‘স্পাইস হাবে’ বরাদ্দ:
গোলমরিচ, আদা, হলুদ, তেজপাতা, এলাচ চাষের জন্য উত্তরবঙ্গে স্পাইস হাব গড়ে তোলা হবে। কৃষিপদ্ধতির আধুনিকীকরণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাছ চাষ, ডেয়ারি, পশুপালন, উদ্যানপালনে উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বন্যেরা বনে সুন্দর, কিন্তু সাপ এয়ার কুলারে! সোনালি বিষধরের ভিডিও দেখে আঁতকে উঠল নেটপাড়া
-
তৃণমূলের তহবিলে দুর্নীতি? এবার স্পেশাল অডিটর নিয়োগের দাবি ঋতব্রতদের
-
৭০ বছরের নজির ভেঙে ১০ দিনে গোলের সেঞ্চুরি! কেন এত গোল হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে?
-
২৭ লক্ষ টাকা তছরুপ! গ্রেপ্তার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ, উঠল ‘চোর’ স্লোগান
-
‘প্রতিরক্ষা-বন্ধু’ আমেরিকা! দিল্লিকে যুদ্ধকপ্টার, কামান-সহ ৪,৫৬৬ কোটির সমরাস্ত্র সাহায্যে অনুমোদন ওয়াশিংটনের



