সুকুমার সরকার, ঢাকা: সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে বেশ বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রার্থী বাছাই করল শাসকদল আওয়ামি লিগ। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেন আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। উত্তরে বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলামই মনোনয়ন পেয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী বদল হয়েছে। সেখানে বর্তমান মেয়র সইদ খোকনের বদলে ভোটে লড়বেন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
ঢাকা দক্ষিণ থেকে সইদ খোকন মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের যুক্তি, চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকবিলায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, যা মেয়রের ইমেজের পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ে অনেকেই মেয়রের ব্যর্থতার কথা বলেছেন। এর আগে ঢাকার রাস্তাঘাটের পাশে ডাস্টবিন বসানোর প্রজেক্টেও ব্যর্থ হয়েছিলেন খোকন। এ নিয়েও সমালোচিত হন। সব মিলিয়ে খোকনকে ফের প্রার্থীপদ দেওয়ার ঝুঁকি নেয়নি। খোকনও বুঝে গিয়েছিলেন যে তিনি মনোনয়ন পাবেন না। তাই শনিবার ফর্ম তুলতে গিয়ে তিনি জনসমক্ষে কান্নাকাটি করেন বলেও জানা গিয়েছে। যদিও সইদ খোকন আরও একবার সুযোগ চেয়েছিলেন।
[আরও পড়ুন: ভাঙা হচ্ছে ঋত্বিক ঘটকের বাড়ি, প্রতিবাদে সরব বাংলাদেশের সাহিত্যিক মহল]
এ নিয়ে আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যাঁরা বিতর্কিত, তাঁদের মনোনয়ন দেয়নি দল। বিতর্কের ঊর্ধ্বে যাঁরা, যাঁদের কোনও অপকর্মের রেকর্ড নেই – এ ধরনের প্রার্থীদেরই মনোনয়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে বিবেচনা করা হয়েছে। কোন প্রার্থী নির্বাচনে জেতার উপযোগী, সেটিও ভেবে নেওয়া হয়েছে।’ তাপস ছাড়াও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নৌকার মনোনয়ন সংগ্রহ করেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিম ও বঙ্গবন্ধু অ্যাকাডেমির সভাপতি মহম্মদ নাজমুল হক।
রাজধানী শহরের বাসিন্দাদের পরিষেবা প্রদানের মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর-দক্ষিণ দু’ভাগে ভাগ করা হয়। এর প্রায় চার বছর পর দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামি লিগ সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক ও মহম্মদ সইদ খোকন বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির উপ-নির্বাচনে আওয়ামি লিগ প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে বিজয়ী হন ব্যবসায়ী নেতা মহম্মদ আতিকুল ইসলাম। ৭ মার্চ শপথ নেন তিনি। তবে দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ একসঙ্গে আগামী বছরের মে মাসেই শেষ হবে। আসন্ন সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, স্ক্রুটিনি হবে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ১০ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি।
[আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আইইডি বিস্ফোরণ, ছড়াল চাঞ্চল্য]
সর্বশেষ খবর
-
‘বেইমান, অসততা ওদের রক্তে’, উদ্ধব শিবিরের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের তোপ সঞ্জয়ের
-
‘লজ্জা! এই মেসিকে মাসি-মেসোরা অপদস্থ করেছিল…’, অরূপ বিশ্বাসকে খোঁচা ঋদ্ধির
-
‘মা-বাবা, তোমাদের ভালোবাসি’, দেরাদুনে আত্মঘাতী নিট পরীক্ষার্থী! প্রশ্নফাঁসের জের?
-
সন্তান বেসরকারি স্কুলে পড়লে মিলবে না অন্নপূর্ণার ৩ হাজার টাকা? বিশদে ব্যাখ্যা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
‘নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছিল’, কলকাতা পুলিশকে পত্রবোমা মেসির নিজস্ব টিমের