Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Bangladesh News

এক দশকে বদলে গেল শাহবাগ! রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনের সেই ধাত্রীভূমি এখন ‘মৌলবাদীদের দখলে’

শাহবাগের 'আত্মা'র যে ভোলবদল ঘটছে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহেই তার আভাস মিলছিল।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১৬:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১৬:৫২

options
link
এক দশকে বদলে গেল শাহবাগ! রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনের সেই ধাত্রীভূমি এখন ‘মৌলবাদীদের দখলে’ zoom
বাংলাদেশে হিংসা। ছবি: সংগৃহীত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে রাজাকারদের (যুদ্ধাপরাধী) ফাঁসির দাবিতে ১২ বছর আগে গর্জে উঠেছিল ঢাকার শাহবাগ মোড়। তরুণ প্রজন্মের গণআন্দোলনের সেই ধাত্রীভূমি এক দশকের মধ্যে চলে গেল ‘মৌলবাদীদের দখলে’!

শাহবাগের ‘আত্মা’র যে ভোলবদল ঘটছে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহেই তার আভাস মিলছিল। চলতি বছরের গত জুলাইয়ে ফেলা হয় শাহবাগ আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ‘প্রজন্ম চত্বর’। ২০১৩ সালের গণআন্দোলনের সময় বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়েছিলেন। সেই থেকে সেটিকে ‘প্রজন্ম চত্বর’ বলে ডাকা শুরু হয়। ওই মোড়ে একটি স্থাপত্য-কাঠামোও ছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামি লিগের এক নেতা তা তৈরি করেছিলেন। আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ওই স্থাপত্য-কাঠামোও ‘প্রজন্ম চত্বর’ নামে পরিচিতি পায়। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের মাথায় সেটিও ভেঙে ফেলা হয়। ফলে শাহবাগ আন্দোলন মঞ্চেরও যে হাতবদল হবে, তা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা ছিল বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে থাকা ভারতীয় হাই কমিশন এবং কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের অফিস। বুলডোজার চলেছে শেখ মুজিবের ধানমন্ডির বাড়িতেও। ওই পরিস্থিতিতে রাতেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস। তিনি দেশবাসীকে শান্ত এবং সংযত থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কথা যে বিক্ষোভকারীরা ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনি, তা স্পষ্ট হয়ে যায় বৃহস্পতিবার রাতে ছড়িয়ে পড়া অশান্তি থেকে। ভারত-বিরোধী প্রচারে নেমে পড়ে জামাত-সহ বিভিন্ন কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি। তখন থেকেই ধীরে ধীরে জমায়েত শুরু হয় শাহবাগে।

২০১৩ সালের গণআন্দোলন গড়ে ওঠার নেপথ্যে আওয়ামি লিগের প্রচ্ছন্ন মদত ছিল বলেই দাবি করে থাকেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরোধীরা। ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শাহবাগে যে জমায়েত শুরু হয়েছে, তা মূলত আওয়ামি লিগ বিরোধিতায়। কারণ, হাদিকে ঢাকার রাস্তায় গুলি করে হত্যার নেপথ্যে আওয়ামি লিগের দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। শুক্রবার সকাল থেকেও শাহবাগে স্লোগানও উঠেছে, ‘আওয়ামি লিগের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’। ঢাকার এক বিশিষ্ট জনের কথায়, “যে যে জায়গায় ভারত, মুক্তমনা বা মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন রয়েছে, সেই জায়গাগুলিকেই নিশানা করা হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে এই হামলা কারা এবং কেন চালাচ্ছে!”

যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কাদেরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায় মানতে পারেননি তরুণ প্রজন্ম। তার বিরোধিতাতেই আন্দোল শুরু হয়েছিল শাহবাগে। তৈরি হয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চ। আন্দোলনে যেমন তরুণ ব্লগাররা ছিলেন, তেমনই ছিলেন প্রগতিশীল ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা। ধীরে ধীরে সেই আন্দোলন গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কাদের মোল্লার ফাঁসিই আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলেও তাঁরা চেয়েছিলেন আরও বেশি কিছু। তাঁরা চেয়েছিলেন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে একাত্তরের চেতনায়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে। গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে ওঠার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেছিলেন, তিনি সংসদে থাকলেও তাঁর মন ছুটে যেতে চায় শাহবাগে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তখন নিষিদ্ধই ছিল জামাত। গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

বছরখানেকের মধ্যেই অবশ্য দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায় গণজাগরণ মঞ্চ। দ্বিখণ্ডিত হয় শাহবাগ! কিন্তু এক দশকের মধ্যে যে সেই ‘চেতনা’রই বদল ঘটবে, তা মানতে পারছেন না বাংলাদেশের বিশিষ্টজনেদের অনেকেই। তবে তাঁদের মত, এই পরিস্থিতি হওয়ারই ছিল। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দেশ জুড়ে ধর্ষণ এবং নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গত মার্সে পুলিশের হাতে নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন অনেকে। ঘটনাচক্রে, তাঁদেরই একটা বড় অংশ আবার গত বছর জুলাইয়ে হাসিনা সরকার উচ্ছেদের আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিলেন। ওই প্রতিবাদীদের ‘ষড়যন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলও করে তথাকথিত ‘ছাত্র-জনতা’, যারা সেই সময় নিজেদের ইউনূসের অনুগামী বলেই পরিচয় দিয়েছিল। সেই মিছিল-সমাবেশ থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল ২০১৩-র শাহবাগ আন্দোলনের বিরোধিতা। তাতে যুক্ত ছিল জামাতের ছাত্র শাখা ইসলামি ছাত্র শিবিরের নেতারাও। ছাত্রদের নতুন দল এনসিপি-র নেতা হাসনাত আবদুল্লা ফেসবুকে সেই সময় লিখেছিলেন, “২০২৫-এ এসে ২০১৩ ফেরানোর চেষ্টা করবেন না।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.