৭  আশ্বিন  ১৪২৯  সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হাসিনার, ‘এক চিন’ নীতিতেই সায় বাংলাদেশের

Published by: Monishankar Choudhury |    Posted: August 8, 2022 1:31 pm|    Updated: August 8, 2022 1:39 pm

Bangladesh PM Sheikh Hasina meets Chinese foreign minister | Sangbad Pratidin

সুকুমার সরকার, ঢাকা: তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনার আবহে ফের ‘এক চিন’ নীতিকেই সমর্থন জানাল বাংলাদেশ। রবিবার চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানেই তাইওয়ান নিয়ে ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তবে কূটনৈতিক সমর্থন দিলেও কৌশলে চিনা ‘ঋণের ফাঁদ’ এড়িয়ে গিয়েছে ঢাকা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

রবিবার চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ঢাকায় তাঁর সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা-অবরোধের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “এসব কারণে সারা বিশ্বের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বাংলাদেশ এক চিন নীতিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশ চিনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বকে মূল্যায়ন করে।” একইসঙ্গে, যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কোভিড-১৯ মহামারির সময় চিন থেকে দেশে ফিরে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী তাদের পড়াশোনার জন্য ফিরে যাওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্যও ওয়াং ই-কে অনুরোধ করেন। এদিকে চিন তাদের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে (জিডিআই) যুক্ত হতে বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। চিনের প্রস্তাব বাংলাদেশ খতিয়ে দেখবে বলে জানান তিনি।

[আরও পড়ুন: ফুটবল খেলা নিয়ে বাংলাদেশে ফের অশান্তি, গভীর রাতে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর]

এদিকে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও কৌশলে চিনা ‘ঋণের ফাঁদ’ এড়িয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। জানা গিয়েছে, নতুন কোনও পরিকাঠামো তৈরি করতে বা প্রকল্পের সূচনা করতে এখনই বেজিংয়ের কাছ থেকে কোনও অর্থ নিতে রাজি নয় ঢাকা। দুই দেশের মধ্যে যে সমস্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তার প্রায় সবক’টিই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান সংক্রান্ত। জানা গিয়েছে, চারটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। ফলে এখন থেকে চিনের বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত হবে। রবিবার রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে এক বৈঠক শেষে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠক শেষে চারটি চুক্তি ও সমঝোতা সই করেন উভয় দেশের বিদেশমন্ত্রী। চুক্তিগুলো হলো- পিরোজপুরে অষ্টম বাংলাদেশ-চায়না মৈত্রী সেতুর হস্তান্তর সনদ, দুর্যোগ মোকাবিলা সহায়তার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারকের নবায়ন, ২০২২-২৭ মেয়াদে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সমঝোতা স্মারকের নবায়ন, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চিনের ফার্স্ট ইনস্টিটিউট অব ওশেনোগ্রাফির মধ্যে মেরিন সায়েন্স নিয়ে সমঝোতা স্মারক।

এই বৈঠকে রোহিঙ্গা (Rohingya) ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে বলে খবর। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে চিন লাগাতার কাজ করে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। সবমিলিয়ে, তাইওয়ান ইস্যুতে চিনের পাশে দাঁড়ালেও কোনওভাবেই ঋণের ফাঁদে পা দিতে নারাজ বাংলাদেশ তা স্পষ্ট।

[আরও পড়ুন: ‘বাবার খুনিরা আমাকেও সরিয়ে দিতে চায়’, বিস্ফোরক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে