BREAKING NEWS

১৪ মাঘ  ১৪২৯  রবিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ 

READ IN APP

Advertisement

রাজাকার জামাত নেতা আজহারুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: October 31, 2019 1:53 pm|    Updated: October 31, 2019 1:53 pm

Bangladesh sentences another notorious war criminal to gallows

সুকুমার সরকার, ঢাকা: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করে মানবতাবিরোধী নানা অপরাধের দায়ে জামাত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখল আদালত। এ রায় ঘোষণার পর তার বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অনেকেই দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আপিল বিভাগের রায় ঘোষণায় আজহারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। সকালে রংপুর-সহ আশপাশে গণমাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার খবর প্রচার হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এটিএম আজহারের গ্রামের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের বাতাসন গ্রামে। বদরগঞ্জ পৌরশহরের বালুয়াভাটা এলাকায় তার আরেকটি বাড়ি রয়েছে। তবে সেখানে বর্তমানে পরিবারের কেউ থাকেন না। একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রংপুরের বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের ঝাড়য়ারবিল ও ধাপপাড়ায় তৎকালীন ছাত্র সংঘের নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম আলবদর রাজাকার এবং পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় গণহত্যা চালায়। যেখানে প্রায় ১২০০ নারী-পুরুষকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। তার নির্দেশে রংপুর শহরের টাউন হলে অসংখ্য নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রংপুর নগরীর দমদমা এলাকায় ঘাঘট নদীর তীরে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে ও ব্রাশ ফায়ার করে রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছয় শিক্ষক ও এক শিক্ষক পত্নীকে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ রয়েছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক চৌধুরি টুটুল বলেন, ‘এটিএম আজহারুল ইসলামে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষজন উচ্ছ্বসিত। একাত্তরে নিহতের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।’ বদরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মাহবুবার রহমান হাবলু বলেন, ‘কুখ্যাত খুনি রাজাকার আলদর আজহারের দণ্ড বহাল রাখায় আইন বিভাগের ওপর আমরা খুশি। আজহারের নির্মম নির্যাতনে যারা নিহত হয়েছে তাদের পরিবারের মানুষজন আজ আনন্দিত। ধাপপাড়া বধ্যভুমি সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ লুৎফুল হক সরকার বলেন, ‘এ রায় কার্যকরের মাধ্যমে প্রমাণ হল রাজাকারদের স্থান এ বাংলার মাটিতে হবে না।’

গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ-সহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল দাখিল করে এ টি এম আজহারুল ইসলাম। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে এ আপিল করা হয়। ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিল আবেদনের সঙ্গে ১১৩টি গ্রাউন্ড-সহ মোট দুই হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল আবেদন দাখিল করা হয়। সে সময় ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রংপুর অঞ্চলে ১২৫৬ ব্যক্তিকে গণহত্যা-হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শতশত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিল-সহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করা হয়। এটি অষ্টম মামলা যা আপিলে সুরাহা হবে।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে