১১ বৈশাখ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও #IPL12 ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুকুমার সরকার, ঢাকা: মায়ানমার সেনা ও আরাকান আর্মি বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে বিপন্ন সেদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এই পরিস্থিতিতে মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে ১৩৬ জন বৌদ্ধ বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেন। নতুন করে শরণার্থী প্রবেশের আশঙ্কায় ঢাকার তরফে মায়ানমার দূতকে ডেকে পাঠিয়ে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মায়ানমার সরকার বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে সীমান্ত পার করে আরাকান বিদ্রোহীরা তাঁদের জোর করে ধরে নিয়ে গিয়েছে।

সম্পর্কের উন্নতিতে নয়া পদক্ষেপ, একাধিক চুক্তি ভারত-বাংলাদেশের

বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার রুমা থানার দুর্গম এলাকা চাইখংয়ে সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে আপাতত আশ্রয় নিয়েছেন ওই বৌদ্ধরা। রুমা থানা থেকে ওই এলাকা হেঁটে যেতে প্রায় দেড় দিন লাগে। পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন মূলত খুমি, মার্মা ও মিউ সম্প্রদায়ের লোক। আগতরা অভিযোগ করছেন, সেনাবাহিনী তাঁদের থাকার জায়গা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। চলেছে লুটপাটও। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাণভয়ে পালানোর সময় সঙ্গে শুধু খাবারটুকুই এনেছেন। তা দিয়ে কোনোক্রমে দিন গুজরান হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত স্বদেশে ফিরে যেতে চান। আগতরা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবিকে জানিয়েছেন, গত ৪ জানুয়ারি দু’পক্ষের সংর্ঘের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায়, তাঁরা পালাতে শুরু করেন। ওই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৩ জন করে নিহত হন।

পালটাচ্ছে অপরাধের ধরন, সিবিআইয়ের সাহায্য চায় বাংলাদেশ

মায়ানমারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার নতুন নয়। সেনার অত্যাচারে রোহিঙ্গা-সহ একাধিক সম্প্রদায়ের মানুষজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রায়শই দেশ ছেড়ে তাঁরা প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন। এনিয়ে বাংলাদেশ, মায়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা অবনতিও হয়েছে। বাংলাদেশে বেড়েছে শরণার্থী সমস্যা। পরবর্তী সময়ে আলোচনা সাপেক্ষে দু’পক্ষই সমস্যা সমাধানে নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের ওপর অভিযান চালানোর পর থেকে প্রতিবেশী তো বটেই, গোটা বিশ্বের কাছেই প্রায় একঘরে হয়ে গিয়েছে মায়ানমার। সেনাবাহিনীর মোকাবিলায় পালটা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন বিদ্রোহী সংগঠন। বৌদ্ধদের তরফে আত্মরক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে আরাকান আর্মি। এদের সঙ্গে মায়ানমার সেনার সংঘর্ষ দিনদিন ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ায় ভরসা পাচ্ছেন না বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও। তাই প্রাণভয়ে দেশ ছাড়ছেন তাঁরা। আর চাপ বাড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে। এই নতুন শরণার্থীদের জন্য কী পদক্ষেপ নেয় হাসিনা সরকার, সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং