রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক নতুন জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। এবার পরিবেশ রক্ষা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সামনে রেখে এক অভিনব পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। বিভিন্ন মন্দিরে পুজোর পর অবশিষ্ট ফুল ও মালা, যা এতদিন বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো, সেই উচ্ছিষ্ট ফুল থেকেই ধূপবাতি তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার।
এই বিষয়ে আরও খবর
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশার আলো দেখছে বীরভূমের (Birbhum) অন্যতম প্রধান সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ মন্দির। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় তারাপীঠে। মা তারার চরণে নিবেদন করা হয় বিপুল পরিমাণ ফুল, মালা ও পুজোর সামগ্রী। কিন্তু পুজো শেষ হওয়ার পর সেই ফুলই একসময় হয়ে ওঠে বর্জ্য। দীর্ঘদিন ধরেই এই ফুল ও পুজোর সামগ্রী ফেলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল তারাপীঠ এলাকায়।
একসময় তারাপীঠ মন্দিরের অবশিষ্ট ফুল ও পুজোর বর্জ্য সামগ্রী মন্দির সংলগ্ন দ্বারকা নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। ফলে নদীর জলে দূষণের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। পরে বীরভূম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মল্লারপুরের একটি এনজিও সংস্থা এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে। গত কয়েক বছর ধরে ওই সংস্থা নিয়মিতভাবে তারাপীঠ মন্দির থেকে উচ্ছিষ্ট ফুল ও পুজোর বর্জ্য সংগ্রহ করে তা থেকে জৈব সার তৈরির কাজ করছে। এখনও প্রতিদিন মন্দির থেকে ফুল সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ওই সংস্থা।
তবে এবার রাজ্য সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই উচ্ছিষ্ট ফুল থেকেই তৈরি হবে ধূপবাতি। এর ফলে একদিকে যেমন মন্দির এলাকার পরিবেশ দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তও খুলে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু তারাপীঠ নয়, বীরভূমের পাঁচটি সতীপীঠ— নলহাটির নলাটেশ্বরী মন্দির, সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী মন্দির, লাভপুরের মা ফুল্লরা মন্দির, বোলপুরের কঙ্কালীতলা মন্দির এবং বক্রেশ্বর মন্দির সহ জেলার অসংখ্য মন্দিরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ফুল বর্জ্য হিসেবে জমা হয়। সেই সমস্ত ফুল পুনর্ব্যবহার করে ধূপবাতি তৈরি করা গেলে মন্দিরগুলি যেমন আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে, তেমনই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে তা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
এই প্রসঙ্গে নারী ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “যে সমস্ত মন্দিরে ফুল ও ফুলের মালা ব্যবহার হয়, সেগুলি অযথা ফেলে না দিয়ে সংগ্রহ করে সেই ফুলগুলি থেকে ধূপবাতি বানানো হবে। সেখানে অন্তত ১৫ জন মহিলা কাজ পাবে। এটা নিয়ে আমরা একটি ওয়ার্কশপ তৈরি করব। আমার দপ্তরের একটি আলাদা ফান্ড রয়েছে, সেখান থেকেই ওয়ার্কশপ তৈরি করা হবে।”
অন্যদিকে, তারাপীঠ মন্দির কমিটির সদস্য তথা বিজেপির কার্যকর্তা পুলক চট্টোপাধ্যায় জানান, “রাজ্য সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করলে মন্দির কমিটি খুবই উপকৃত হবে। একদিকে যেমন মন্দিরের অবশিষ্ট ফুলের বর্জ্য মন্দির চত্বরে জমবে না, অন্যদিকে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। আগে এই ফুলের বর্জ্য থেকে মন্দির চত্বরে দূষণের সমস্যা বাড়ছিল। বর্তমানে মল্লারপুরের একটি এনজিও সংস্থা ফুল সংগ্রহ করে জৈব সার তৈরি করছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকেও সেই সংস্থাকে আর্থিক সাহায্য করা হয়। তবে সরকারিভাবে ধূপবাতি তৈরির উদ্যোগ শুরু হলে সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।” ধর্মীয় ভাবাবেগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং কর্মসংস্থান, এই তিনকে একসূত্রে বেঁধে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা যে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমীরাও।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
‘তফাত শিরদাঁড়ায়’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে ‘হারাধনের দশ ছেলে’কে স্যালুট সুদীপ্তার, বিঁধলেন কোন ‘বিপ্লবী’দের?
-
লন্ডনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হেনস্তা! নিন্দায় সরব ভারত, নেপথ্যে ডিপ স্টেট?
-
ডিম হাতে শওকতের অপেক্ষা ভাঙড়ের জনতার, ‘মাছ চোর’ গানের ছন্দে নাচ এনআইএ অফিসের সামনে
-
খোসা ছাড়ানো যাচ্ছে না, স্বাদ মাটির মতো! আলু সেদ্ধ করার সময় এই ভুলগুলো করছেন কি?
-
‘স্মৃতিভ্রংশে’ ভুগছিল চ্যাটজিপিটি, সতর্ক ওপেনএআই, এবার আপনাকে ভুলবে না চ্যাটবট!



