Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
মহিলা নেতৃত্বাধীন পুজো

প্রথা ভেঙে মহিলাদের নেতৃত্বেই দেবী আরাধনা বাংলাদেশের বিখ্যাত পুজোয়

৮০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম পুজোর পরিচালন কমিটির শীর্ষে মহিলারা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০১৯, ১৫:৩১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০১৯, ১৫:৩১

options
link
প্রথা ভেঙে মহিলাদের নেতৃত্বেই দেবী আরাধনা বাংলাদেশের বিখ্যাত পুজোয় zoom

সুকুমার সরকার, ঢাকা: নারীশক্তির আরাধনায় এবার পুরুষদের থেকে নেতৃত্ব ছিনিয়ে নিলেন নারীরা। এবার মহিলাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজারে হচ্ছে দুর্গাপুজো। প্রথা ভেঙেই এবার শ্রী শ্রী দুর্গাবাড়ির পুজা কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন মহিলারা।

[আরও পড়ুন: খুলনায় আওয়ামি লিগের কার্যালয়ে বিস্ফোরণ, হামলার দায় স্বীকার আইএস-এর]

প্রায় ৮০ বছর ধরে মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিমবাজার এলাকায় এই পুজো হচ্ছে। পরিচালন কমিটিতে বরাবরই নেতৃত্বে থেকেছেন পুরুষ সদস্যরা। মাঝেমধ্যে নারীরা থাকলেও, কেউ সামনের সারিতে থেকে কখনও নেতৃত্ব দেননি। এবারই প্রথম প্রথাভঙ্গ।নারীরা এই পুজোর শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন।
শ্রী শ্রী দুর্গাবাড়ির পূজা কমিটিতে ২৩ সদস্যের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক-সহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পদে রয়েছেন নারীরা। পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হয়েছেন প্রতিমা রায় এবং সাধারণ সম্পাদক লাভলিরানি দেবনাথ। সহ-সভাপতি আশারানি দত্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক পিংকি রায়, প্রচার সম্পাদক নন্দিতা দেব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক চন্দ্রিমা সোম এবং সদস্য কাউন্সিলর শ্যামলী দাস পুরকায়স্থ, ইতিশ্রী দত্ত, মমতারানি দেব ও স্বাগতা সরকার। এর আগে মৌলভীবাজারে দেবীর আগমনি বার্তার অনুষ্ঠান হিসেবে কখনও মহালয়া পরিবেশিত হয়নি। এবার সেই মহালয়ারও আয়োজন ছিল শ্রী শ্রী দুর্গাবাড়ি পুজা কমিটিতে। মহালয়া উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মল্লিকা দে। পুরো অনুষ্ঠানই যেন নারীময় হয়ে উঠেছে এবছর।
দেবী দুর্গা নারীশক্তিরই প্রতিমূর্তি। এবছর এখানকার পুজোয় নারীবাহিনীর নেতৃত্বদান যেন দেবী দুর্গারই আরেক রূপ। শ্রীশ্রী দুর্গাবাড়ি পুজো পরিচালনা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে চাম্পালাল শান্ডো নামের এক মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী প্রায় ৮০ বছর আগে এই দুর্গাবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই এখানে শারদীয় দুর্গাপুজো আয়োজিত হয়ে আসছে। ষষ্ঠীতে শঙ্খ বাজিয়ে পুজোর সূচনা হবে। এরপরই মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীদর্শনের উপচে পড়া ভিড়।

Advertisement

[আরও পড়ুন: পদ্মার ইলিশ চেখে দেখবেন নাকি? তবে এই জায়গাই হোক আপনার গন্তব্য]

মৌলভীবাজারের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাগুলোর মধ্যে এই পূজা সুবিদিত। দুর্গাবাড়ির পাশের একটি বাসায় কমিটির মহিলা সদস্যরা বৈঠক করেন। নিজেদের মধ্যে মত বিনিময় করছেন। প্রথম দায়িত্ব গ্রহণের জড়তা কাটিয়ে অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে কীভাবে আরও সুন্দরভাবে পুজো সম্পন্ন করা যায়, সেটাই এখন তাঁদের ভাবনায়। সভাপতি প্রতিমা রায় বলেন, ‘নারীরা সবসময়ই কাজ করেন। কিন্তু তাঁরা সামনে থাকেন না। এবার আমরা সামনে এসেছি। পুরুষেরা যা পারেন, আমরাও যে তা পারি, এটুকু বুঝিয়ে দিতে চাই।’ সাধারণ সম্পাদক লাভলিরানি দেবনাথের কথায়, ‘আমরা নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। কিছুটা অনভিজ্ঞতা তো রয়েছেই। তবে পুরুষরা আমাদের সবরকম সহযোগিতা করছেন।’ বৈঠকে উপস্থিত দুর্গাবাড়ি পুজো কমিটির সদস্য প্রাণগোপাল রায় বলেন, ‘পরিচালনা পরিষদ গঠনের সভায় নারীদের নেতৃত্বের প্রস্তাব সবাই সমর্থন করেছে। নারীরা অনেক কিছু করেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার-সহ রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন বিভিন্ন পদে নারীরা রয়েছেন। কিন্তু সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা অবহেলিত। পূজা কমিটিতে প্রথাভাঙার কাজটা তাই আমরাই শুরু করলাম।’ নারীর নেতৃত্বেই এবার মৌলভীবাজারের এই শারদোৎসব অন্যমাত্রা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.