BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ধর্মান্তরিত হয়ে প্রজ্ঞা হল নিও জেএমবি জঙ্গি আয়েশা, বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হুগলির যুবতী

Published by: Monishankar Choudhury |    Posted: July 18, 2020 2:04 pm|    Updated: July 18, 2020 2:06 pm

An Images

সুকুমার সরকার, ঢাকা: প্রজ্ঞা দেবনাথ থেকে কুখ্যাত জঙ্গি আয়েশা জান্নাত মোহনা। এক হিন্দু যুবতীর জেহাদি হয়ে ওঠার কাহিনী যেন সিনেমাকেও হার মানায়। অবাস্তব মনে হলেও এমনটাই প্রকাশ্যে এসেছে বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তে। কীভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলির এক তরুণী জঙ্গি সংগঠন নিও জেএমবির মহিলা শাখার প্রধান হয়ে ওঠে তা জানিয়েছেন সে দেশের গোয়েন্দারা।

[আরও পড়ুন: অবৈধভাবে সাগর পথে ইটালিতে গিয়ে আটক বাংলাদেশের ৩৬২ নাগরিক]

গতকাল বা শুক্রবার, রাজধানী ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে ২৫ বছরের প্রজ্ঞা দাস ওরফে আয়েশা জান্নাত মোহনা ওরফে জান্নাতুল তাসনিমকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ পুলিশের জঙ্গিদমন শাখা (CTTC)। পুলিশ জানিয়েছে, কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন নিও জেএমবির জন্য অনলাইনে সদস্য যোগাড় করত আয়েশা। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালে সংগঠনটির মহিলা শাখার প্রধান আসমা খাতুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর সেই দায়িত্ব বর্তায় আয়েশার কাঁধে। তবে এটুকু হিমশৈলের চূড়া মাত্র। CTTC’র অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার শেখ ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, ধৃত তরুণী ভারতের নাগরিক। তার বাড়ি হুগলি জেলার ধনিয়াখালি থানার অন্তর্গত কেশবপুর জেলায়। আদতে হিন্দু ওই তরুণী ২০০৯ সালে জেহাদিদের অনলাইন ফাঁদে পা দেয়। তার যোগাযোগ হয় নিও জেএমবির মহিলা শাখার প্রধান আসমা খাতুনের সঙ্গে। সে বছরই মগজ ধোলাইয়ের জেরে ইসলাম গ্রহণ করে প্রজ্ঞা দেবনাথ থেকে নাম পালটে সে হয়ে যায় আয়েশা জান্নাত মোহনা ওরফে জান্নাতুল তাসনিম।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশ যায় প্রজ্ঞা ওরফে আয়েশা। তারপর থেকে বেশ কয়েকবার ভারত থেকে আসা যাওয়া কর সে। অবশেষে ২০১৯ সালে পাকাপাকিভাবে বাংলাদেশে ঠাতে শুরু করে সে। জাল বার্থ সার্টিফিকেট ও নাগরিকত্বের পরিচয়পত্রও যোগাড় করে সে। সন্দেহ এড়াতে, ওমানের এক বাংলাদেশি নাগরিককে অনলাইনে বিয়ে করে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেওয়ার জন্য ভুয়ো কাগজপত্র তৈরি করে। ঢাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পাড় কেরানীগঞ্জ থানার একটি মাদ্রাসায় সে শিক্ষকতা শুরু করে। শিক্ষকতার আড়ালে অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রমে মহিলাদের রিক্রুট করত আয়েশা। CTTC’র একজন অফিসার জানান, আয়েশা ভারতীয় নাগরিক। সনাতন ধর্মাবলম্বী এই যুবতী অনলাইনে জেএমবির কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট হয়ে ধর্মান্তরিত হয়। তার কাছ থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছিল। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল এলাকা থেকে জেএমবির মহিলা শাখার প্রধান আসমাকে CTTC গ্রেপ্তার করে। তারপর থেকেই মহিলা শাখার দায়িত্ব সমলাচ্ছে আয়েশা।

উল্লেখ্য, বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের ঘটনার পর এই জঙ্গিরা ভারতে যথেষ্ট সক্রিয়, তা জানতে পেরেছেন ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। দু’দেশেই জঙ্গিদের মাথারা ধরা পড়েছে। কিন্তু জেএমবি ও নিও জেএমবি, বাংলাদেশের আল কায়দার জঙ্গিরা যে ফের ঘাঁটি তৈরি করে নাশকতা চালাবে না, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।অনেক সময়ই এই জঙ্গিদের রাইফেলের চেয়ে হ্যান্ড গ্রেনেড বা অ্যাসিড বোমাই বেশি পছন্দ। বাংলাদেশের এই জঙ্গিদের স্ট্র‌্যাটেজি মাথায় রেখে দু’দেশেই তাদের রুখতে প্রস্তুত। এবার আয়েশার গ্রেপ্তারিতে পশ্চিমবঙ্গ জেএমবির শিকড় কত গভীরে প্রবেশ করেছে তা দেখিয়ে দিল।

[আরও পড়ুন: অবৈধভাবে সাগর পথে ইটালিতে গিয়ে আটক বাংলাদেশের ৩৬২ নাগরিক]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement