সুকুমার সরকার, ঢাকা: আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (ICJ) শুরু রোহিঙ্গা (Rohingya) গণহত্যা মামলা। সোমবার মায়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয় বলে খবর। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এবার মায়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করছেন না কাউন্সিলর আং সান সু কি। পরিবর্তে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের সওয়াল করছে জুন্টা। এই মামলার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে বাংলাদেশের।
[আরও পড়ুন: জঙ্গিদমনে দারুণ সফল, শেখ হাসিনার প্রশংসায় ইন্টারপোল, পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি]
গতকাল নেদারল্যান্ডসের হেগে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা আধিকারিকদের দিয়েই রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা লড়ছে মায়ানমারের জুন্টা সরকার। গত কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর নিষেধাজ্ঞার তালিকা ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, মামলায় দেশটির প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত আটজনের মধ্যে অন্তত চারজনের ওপর এখনও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে। ইইউর নিষেধাজ্ঞায় থাকা ব্যক্তিরা কিভাবে এবার দ্য হেগে আইসিজেতে শুনানিতে অংশ নেবেন, তা-ও নিশ্চিত নয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এই মামলায় প্রথম পর্বের শুনানির পর আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছিল। এবার শুনানি হচ্ছে আদালতের এক্তিয়ার-সহ মায়ানমারের প্রাথমিক আপত্তিগুলি নিয়ে। প্রথম পর্বের শুনানিতে মায়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু কি।
গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মায়ানমারের সামরিক বাহিনী অং সান সু কি-কে কারাগারে নিক্ষেপের পর জুনে আইসিজের আট সদস্যের আইনি দল গঠিত হয়। এই দলের প্রধান করা হয়েছে মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের বিদেশমন্ত্রী উনা মং লুইনকে। ইইউ গত বছর এপ্রিলে ও যুক্তরাষ্ট্র গত মে মাসে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আইনি দলের সদস্য কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী কো কো হ্লাইং, পরিকল্পনা, অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী উইন শেইন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল থিডার ওপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর নিষেধাজ্ঞা আছে। আইনি দলের সদস্য মায়ানমারের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়ার পায়ে, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মিয়ো জাও থেইন, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাউন্সিলের উপবিদেশমন্ত্রী কিয়াও মিয়ো টুট এবং আইন বিশেষজ্ঞ খিন ও হ্লাইংয়ের নাম নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জন গিয়েছে, দ্য হেগের পিস প্যালেসে মিশ্র পদ্ধতিতে এই শুনানি হচ্ছে। আদালতের কিছু সদস্য গ্রেট হল অফ জাস্টিসে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। আইসিজে জানায়, আগামী ২৩, ২৫ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি এই শুনানি হবে। রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে গণহত্যার অভিযোগ এনে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার করা এ মামলার বিচারে আইসিজের এক্তিয়ার চ্যালেঞ্জ করেছে মায়ানমারের জুন্টা। এবারের গণশুনানি হচ্ছে মূলত মায়ানমারের সেই আপত্তির ওপর।
[আরও পড়ুন: আবারও শরণার্থী শিবিরে সন্ত্রাসবাদীদের তাণ্ডব, খুন রোহিঙ্গা নেতা]
সর্বশেষ খবর
-
একার সিদ্ধান্তে জার্সির রং নীল থেকে কমলা! পদ খোয়ালেন হকি ইন্ডিয়ার সেই কর্তা
-
বেঙ্গালুরু পালিয়েও নিস্তার নেই, পলাতক তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল হাসনাবাদ থানার পুলিশ
-
‘দুর্গাপুজো লেখা না থাকলে স্টল ভেঙে দেব’, শুভেন্দুর বার্তার পরই বামেদের হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের
-
ব্রিকসের নৈশভোজে গেলেন না জিনপিং, অনুপস্থিতি নিয়ে কী জানাচ্ছে বেজিং?
-
রাতের আসানসোলে জাতীয় সড়কে বিভীষিকা! ছিনতাইয়ের চেষ্টা, বাধা পেয়ে বাইক আরোহীকে গুলি