Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গা শিবিরে দুষ্কৃতীদের হামলা, নিহত এক শরণার্থী

অভিযোগ, ঘটনায় বার্মিজ সেনা জড়িত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৯, ১৪:৪৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৯, ১৪:৪৪

options
link
রোহিঙ্গা শিবিরে দুষ্কৃতীদের হামলা, নিহত এক শরণার্থী zoom

সুকুমার সরকার, ঢাকা: কিছু অপরাধীর জন্য বদনাম হচ্ছে গোটা রোহিঙ্গা সমাজের। কয়েকদিন আগে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুমকি দেয় আবদুল খালেক নামে মালয়েশিয়ায় থাকা এক রোহিঙ্গা যুবক। মায়ানমরে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিলেও গুটিকয়েক রোহিঙ্গা অপকর্ম থেকে বিরত থাকছে না। মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে সশস্ত্র দুষ্কৃতী দলের গুলিতে একজন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। আরও একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের এইচ ব্লকে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি র‌্যাবের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হওয়া সশস্ত্র রোহিঙ্গা দলের নেতা নুরুল আলমের অনুগামী সাদেক, সেলিম, রফিক, নুরছালাম ও জাকিরের নেতৃত্বে একদল স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা এইচ ব্লকে এসে অতর্কিতে হামলা করে। হঠাৎ করে গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানে থাকা অন্যান্য শরণার্থীরা। আধঘণ্টা পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতেই ভিতর থেকে গুলিবিদ্ধ দুই রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। তার মধ্যে একজন মারা গেলেও অপর গুলিবিদ্ধ ইলিয়াছ জজাইয়াকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
[ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অবস্থান বিক্ষোভে পড়ুয়ারা]

মায়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু, রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছা প্রত্যপর্ণ নিশ্চিত করাই বিশাল চ্যালেঞ্জ তাঁর কাছে। এমনিতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে বিপুল অর্থ। কিন্তু, দিন যত যাচ্ছে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। ফলে বাড়ছে অপরাধ। ছিনতাই, অপহরণ ও খুনের সঙ্গে জড়িত রোহিঙ্গাদের একটি চক্র। তাদের উৎপাতে ধৈর্য হারাচ্ছে স্থানীয়রা। অভিযোগ, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করতে ক্যাম্পের ভিতরে এই ‘সন্ত্রাসী চক্র’ তৈরি করেছে মায়ানমার সেনাবাহিনী। গোপনে সক্রিয় এই চক্রই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের।

[সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, যৌথ প্রকল্প উদ্বোধনে কড়া বার্তা হাসিনার]

গত ২২ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে খতম হয় দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত নুরুল আলম (৩০)। টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের আনসার ক্যাম্পে হামলা, অস্ত্র লুট ও কমান্ডার হত্যার মূল হোতাও ছিল এই নুরুল। সে না থাকলেও তার বাহিনীর দাপট মোটেও কমেনি। পরের দিনই এই হত্যার বদলা হিসেবে রোহিঙ্গা পল্লি চিকিৎসক মহম্মদ হামিদকে খুন করে তার অনুগামীরা। মাত্র তিনদিন পর নয়াপাড়া ক্যাম্পে মহম্মদ জয়নাল (২২) নামে আরও একজনকে হত্যা করা হয়। জয়নাল ছিল এই ক্যাম্পের নিরাপত্তা কর্মী। পুলিশের সোর্স সন্দেহে তাকেও হত্যা করা হয়েছে।

[কচ্ছে হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন, উদ্ধার পাঁচ হাজার বছর পুরনো নরকঙ্কাল]

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গা জানায়, নয়াপাড়া ক্যাম্পের পিছনের পাহাড়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দুটি গ্রুপ আস্তানা গেড়েছে। দিনে পাহাড়ে আর রাতে ক্যাম্পে চষে বেড়ায় তারা। আব্দুল হাকিম ও মহম্মদ হাসান এই দুই গ্রুপের নেতা। খুন, ধর্ষণ, ইয়াবার কারবার, মানব পাচার ও অপহরণ এমন কোনও অপরাধ নেই যা তারা করছে না। গত মাসে তাদের হাতে খুন হয়েছে ওই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মহম্মদ ইলিয়াস। এর আগে একই ক্যাম্পে মহম্মদ ইয়াসের নামে এক রোহিঙ্গা তরুণকে গুলি করে মারা হয়। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় জার্মানির দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জড়িত ছিল। সাধারণ রোহিঙ্গারা জানান, তাঁরা আশ্রয় শিবিরে এমন জীবন কাটাতে চান না। স্বদেশে ফিরতে চান। কিন্তু, গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাঁরা মুখ খুলতে পারেন না। এই সন্ত্রাসী চক্রটি প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে। প্রত্যাবাসনের পক্ষে কথা বলায় বালুখালি ক্যাম্পের হেড মাঝি আরিফ উল্লাহকে গত বছর ১৮ জুন গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে এই রোহিঙ্গা নেতার পরিবারের সদস্যরা ভয়ে টেকনাফের লেদায় পালিয়ে যান। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে মায়ানমার সেনাবাহিনী গোপনে কাজ করছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটি দালাল গ্রুপ তৈরি করে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, গত ১০ মাসে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী চক্রের হাতে ২৩টি খুন হয়েছে। আর ক্যাম্প থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৩টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদক। কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসলে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে সবাই উদ্বেগে রয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.