আত্মসমর্পণের কোনও সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে পা রাখামাত্র গ্রেপ্তার করে ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হবে। সাফ একথা জানিয়ে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম কথায়, ‘‘বাংলাদেশ কিংবা ভারতের মাটি, যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক না কেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) জেলেই যেতে হবে।” জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এতেই প্রশ্ন উঠে গেল, দোষীকে আত্মসমর্পণের সুযোগ না দিয়ে ফাঁসির সাজা নিশ্চিত করে দেওয়া কি বিচারের নামে প্রহসন নয়?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন। তার মধ্যে একটি হলো হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে কিনা। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারিম গভর্নমেন্ট থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আমরা তাগাদাপত্র দিচ্ছি। এসপার এক্সট্রাডিশন ট্রিটি উইথ দ্য নেবারিং কান্ট্রি (দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে হওয়া এমন একটি আইনি চুক্তি, যার মাধ্যমে কোনও দেশে অপরাধ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অপরাধ সংঘটিত দেশের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তার বিচার বা সাজা কার্যকর করা যায়)। এক্সট্রাডিশন বা প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে আমরা তাঁকে ফেরত চাই। আমরা চাই, তিনি ফেরত আসুক ও বিচারের মুখোমুখি হোক।”
আরও পড়ুন:
আইনমন্ত্রীরও একই বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা আসলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, সুতরাং তাঁর আত্মসমর্পণের সুযোগ নাই। তিনি আসলেই গ্রেপ্তার করা হবে, রায় কার্যকর করা হবে। যদি আপিলের কোনও সুযোগ থাকে সেটা অন্য কথা, আইন আদালত বলবে।” তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র ও জাতীয় সনদে শহিদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। আর দেশটিতে বসেই জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির সাজা পান ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। দেশে ফেরার পর তিনি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের জ্যেষ্ঠ নেতারা আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলেও জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করাকে নিষিদ্ধ করা সঠিক মনে করি না।”
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে সরকার আইনগত ও কূটনৈতিক, উভয় প্রক্রিয়াতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দাঁতের ব্যথাকে হালকাভাবে নিচ্ছেন? মস্তিষ্কের জটিলতায় হতে পারে মৃত্যুও!
-
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নিউজিল্যান্ড, জারি সুনামি সতর্কতা
-
‘ভেবেছিলাম, ছেলের নাম রাখব রাম খান’, কেন মনোবাঞ্ছা পূরণ হল না সোহেল খানের?
-
আসন পুনর্বিন্যাসে সিঁদুরে মেঘ দেখছে কংগ্রেস! সর্বদলীয় বৈঠক চেয়ে মোদিকে চিঠি খাড়গের
-
সানি লিওনের সঙ্গে, চলুন বেড়িয়ে আসি মন্দারমণি! ‘বেবি ডলে’র সঙ্গে এআই ছবিতে ভরে উঠছে নেটভুবন