সুকুমার সরকার, ঢাকা: রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফের চাপ বাড়ল মায়ানমারের উপর। রাখাইন প্রদেশে গণহত্যার অভিযোগে এবার তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বার্মিজ সেনার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে মার্কিন বিদেশমন্ত্রক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে মায়ানমারের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
[ভেন্ডিং স্টল ভাঙার পর হাওড়া স্টেশনে চরমে পানীয় জলের সংকট]
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, ২০০৪ সালে সুদানের দারফুরে হওয়া গণহত্যার তদন্তের ধাঁচেই রাখাইনে তদন্ত চালাবে মার্কিন ফরেনসিক টিম। বার্মিজ বাহিনীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বাংলাদশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলিতে যাবেন মার্কিন তদন্তকারীরা। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গাদের বয়ান নেবেন তাঁরা। ইতিমধ্যে তদন্ত চালাতে বিশজনের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে আমেরিকা। আগেও মায়ানমারকে একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা। রাখাইন প্রদেশের দায়িত্বে থাকা বার্মিজ সেনার এক জেনারেলের উপরও নিষেধাজ্ঞা চাপায় ওয়াশিংটন। যদিও মায়ানমারের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের মধ্যে।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ইস্যুতে একাধিকবার আন্তর্জাতিক মঞ্চের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু আমেরিকাই নয় নাইপিদাওয়ের উপর চাপ বাড়িয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও (ইইউ)। জানা গিয়েছে, মায়ানমারকে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইইউ। একই সঙ্গে বার্মিজ সেনার একাধিক সেনাকর্তার উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চের এই পদক্ষেপে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ঢাকা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন তদন্ত প্রতীকী প্রক্রিয়া বই কিছুই নয়। এর ফলে নিকট ভবিষ্যতে শরণার্থী সমস্যার সমাধানের আশা মরীচিকা মাত্র। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমারকে বাধ্য করা সম্ভব নয়।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলিতে প্রায় সাত লক্ষ রোহিঙ্গা রয়েছে। মানবিকতার খাতিরে তাঁদের আশ্রয় দেয় হাসিনা সরকার। উদ্বাস্তুদের ফেরত পাঠাতে চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে ঢাকা ও নাইপিদাওয়ের মধ্যে। তবে শরণার্থীদের ফেরত নিতে টালবাহানা চালিয়ে হচ্ছে সু কি সরকার। কয়েকদিন আগেই প্রায় আট হাজার শরণার্থীদের তালিকা মায়ানমারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে মাত্র ৬০০ জনকেই ফেরত নিতে রাজি হয় তারা। সব মিলিয়ে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে রোহিঙ্গা সমস্যা।
[স্কুলের বন্ধুরা একজোট, গ্রামে গ্রামে বাল্যবিবাহ রুখছে নাবালিকারাই]
সর্বশেষ খবর
-
‘ইসলামই শ্রেষ্ঠ’, মন্তব্য কর্নাটকের মন্ত্রীর, হিন্দু ধর্মকে হেয় করার অভিযোগ বিজেপির
-
ঠোঁটে সারাক্ষণ কৃষ্ণনাম, সাধু বেশে আশ্রয় নিয়ে একের পর এক মঠে লুট! তারপর…
-
নেপালের দুর্যোগে ভাসবে উত্তরপ্রদেশ? ফুঁসছে নারায়ণী-গণ্ডক, প্লাবনের শঙ্কায় সতর্কতা একাধিক জেলায়
-
পাথর হয়েছিল পিত্তথলিতে, অস্ত্রোপচার হল অ্যাপেনডিক্স! কাঠগড়ায় এনআরএস হাসপাতাল
-
হবু স্ত্রী ইউরোপের রাজকন্যা! বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে জল্পনা, কী বলছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি?