দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেতাদের পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন রাস্তায় ঘোরানোর ছবিটা বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে বদলের বাংলায়। কাউকে কোমরে দড়ি বেঁধে, কাউকে হাফপ্যান্ট-গেঞ্জি পরিয়ে জনসমক্ষে হাঁটানো হয়েছে। এবার সেই তালিকায় জুড়ল ভাঙড় বিস্ফোরণের অন্যতম চক্রী, ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল শওকত মোল্লা (Saokat Molla)। বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যানিংয়ের জীবনতলা বাজারে তাঁকে ঘোরাল পুলিশ। আর শওকতকে এভাবে দেখেই জনগণ বাজিয়ে দিল ভোটবাজারে ভাইরাল হওয়া ‘শওকত তো মাছ চোর’ গানটি! পুলিশ সূত্রে অবশ্য খবর, স্রেফ হাঁটানো নয়, প্রাক্তন বিধায়ককে নিয়ে পুনর্নির্মাণ করার লক্ষ্যে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জীবনতলা বাজারে। উদ্দেশ্য যাই হোক, ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ শওকতকে দেখে লোকজন গান বাজানোর মাধ্যমেই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিলেন।
ভোটে ভাঙড় থেকে পরাজিত হয়েছেন শওকত। পরে একটি বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে ধর্ষণ মামলাতেও শওকত মোল্লাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে জীবনতলা থানার পুলিশ। সেই ঘটনার পর তাঁকে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল জীবনতলা থানায়। তবে পিছু ছাড়েনি ‘মাছচোর’ গানটি। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাঁকে নিয়ে রাস্তায় বেরনো মাত্রই রাস্তার দু’পাশ থেকে জনতা সেই গানটি বাজিয়ে দিল।
আরও পড়ুন:
ছাব্বিশের ভোটে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর পছন্দের শওকত মোল্লাকে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল। আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে ছিল তাঁর মূল লড়াই। ভাঙড়ে ভোটের দিন কয়েক আগে শওকতকে নিয়ে একটি মজার গান ভাইরাল হয়ে যায়। গানের কথা এরকম – ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল ভাঙ্গড়েতে এসে/বলির পাঁঠা প্রার্থী হয়ে খোকা গেল ফেঁসে/মাছচোর মাছচোর, শওকত তো মাছচোর/বোম বাঁধা কাজ ওর/শওকত তো মাছচোর।’ যদিও নওশাদ সিদ্দিকি গানটিকে ‘নিম্নরুচির পরিচয়’ বলে আইএসএফের যোগ অস্বীকার করেন। স্পষ্ট জানান যে তাঁদের কেউ এই গান বাঁধেনি। গানের রচয়িতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তা সকলের কাছে খুব কম সময়ের মধ্য এতটাই গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে যে গুনগুন করে অনেকেই তা গাইতে থাকেন।
ভোটে ভাঙড় থেকে পরাজিত হয়েছেন শওকত। পরে একটি বিস্ফোরণকাণ্ডে এনআইএ-র হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে ধর্ষণ মামলাতেও শওকত মোল্লাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে জীবনতলা থানার পুলিশ। সেই ঘটনার পর তাঁকে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছিল জীবনতলা থানায়। তবে পিছু ছাড়েনি ‘মাছচোর’ গানটি। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাঁকে নিয়ে রাস্তায় বেরনো মাত্রই রাস্তার দু’পাশ থেকে জনতা সেই গানটি বাজিয়ে দিল। কেউ কেউ গানের মাঝেও শওকতকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, শওকতকে এভাবে দেখে স্থানীয় বিজেপি নেতা অলিরুল পিয়াদা এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেন। গাড়িচালক থেকে শুরু করে পথচলতি মানুষ সকলকে মিষ্টি খাওয়ান।
এদিন সকালেই শওকতপুত্র ইমরান মোল্লার বেআইনি ক্যাফেতে চলেছে বুলডোজার। মাতলার চর দখল করে ‘অরণ্যের কূলে’ ক্যাফে তৈরি হয়েছিল। নথিপত্র দেখে তাকে বেআইনি তকমা দেয় জেলা প্রশাসন। ইমরানকে জানানো হয়েছিল, ২৯ জুনের মধ্যে ওই ক্যাফে ভাঙতে। তিনি নিজে তা না করায় আজ, ২ জুলাই বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বিলাসবহুল ‘অরণ্যের কূলে।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
৫৪ ফুটের দোসা, ১৪ টনের বিরিয়ানি! গিনেসবুকে নাম তোলা ভারতের এই ৬ ডিশ চেখেছেন?
-
ন’বছর পর শ্রীলঙ্কায় টেস্ট খেলতে যাচ্ছে টিম ইন্ডিয়া, কবে কোথায় ম্যাচ?
-
‘মহামারির আকার নিয়েছে প্রতারণা’ , সাইবার সহায়তা কেন্দ্র চালু করে শুভেন্দুর অ্যাকশন শুরু!
-
পেটে ২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল, হরমুজে ভারতীয় জাহাজে গোলাবর্ষণ! সমুদ্রেই সলিল সমাধি?
-
বর্ষায় সংক্রমণ পিছু ছাড়ছে না? এই ৮ লক্ষণ হতে পারে দুর্বল ইমিউনিটির ইঙ্গিত