BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

শিক্ষক নিয়োগের নামে ভুয়া পরীক্ষা, উত্তপ্ত মধ্যমগ্রাম

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 16, 2016 9:56 am|    Updated: May 16, 2016 4:34 pm

An Images

পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বচসা পুলিশের৷ রবিবার৷ –পঙ্কজ বিশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার: কেউ এসেছিলেন হাওড়া থেকে, কেউ পাশের জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কেউ আবার বর্ধমান থেকে৷ রাজ্যের জেলাই শুধু নয় ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র থেকেও হাজির অনেকেই৷ শিক্ষকের চাকরি, তাও আবার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প৷ স্বাভাবিকভাবেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি কেউ৷ কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে সবাই ‘থ’৷ অনুষ্ঠান বাড়ির চেয়ার-টেবিলে বসিয়ে, জেরক্স করা প্রশ্নপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ তখনই সন্দেহ দানা বেঁধেছিল৷ তাতে সিলমোহর দেয় বারকোড ছাড়া ওএমআর শিট৷ বোঝা যায়, ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’৷ তার পরই বিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে পরীক্ষাকেন্দ্র, ভেস্তে যায় পরীক্ষা৷ গ্রেফতার হয় সংস্থার দুই কর্মী৷ অভিযোগ, সংস্থাটি ভুয়া৷

বিভিন্ন অনলাইন জব পোর্টালে বিজ্ঞাপন দেয় এই সংস্থা৷ পরীক্ষার্থীরা জানান, ন্যাশনাল বুরো অফ প্রফেশনাল ট্রেনিং (এনবিপিটি) নামে এই সংস্থার ওয়েবসাইটে পরীক্ষার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়৷ সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয় সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন এডুকেশন প্রোগ্রাম (এসআরইপি) নাম কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প চালু হয়েছে৷ ওয়েবসাইট আরও বলা হয়, এই প্রকল্পের লক্ষ্য দেশের সব রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অবৈতনিক স্কুল খোলা, যেখানে ৩ থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেওয়া হবে৷ পরীক্ষার্থীদের দাবি, ওয়েবসাইটে বলা হয়, এই প্রকল্পের অন্তর্গত স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়৷ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের তিনটি বিভাগে পরীক্ষার কথা বলা হয় এই ওয়েবসাইটে৷ জুনিয়র, সিনিয়র ও অ্যাসোসিয়েট টিচার-এই তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়৷ পরীক্ষার ফি বাবদ এক একটি বিভাগের জন্য ৪৫০ টাকা নেয় এই সংস্থা৷ পরীক্ষার্থীরা জানান, ফর্ম ফিলআপ থেকে পরীক্ষার ফি, পুরো বিষয়টি অনলাইনে হয়৷ সংস্থার বিজ্ঞাপনে বলা থাকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে এই প্রকল্পের স্কুলে কর্মসংস্থান দেওয়া হবে৷ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফর্ম ফিল আপ করার পর তাঁদের কাছে একটি ইমেল আসে যাতে লেখা থাকে এই পরীক্ষার শংসাপত্র নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন স্কুলে চাকরির চেষ্টা করতে পারবেন৷ বিজ্ঞাপন আর ইমেলে অমিল দেখে প্রথমে সন্দেহ হয় পরীক্ষার্থীদের৷ সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় রবিবার পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে৷

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের আবদালপুরে সানশাইন অ্যাকাডেমি নামে একটি স্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্র ফেলা হয়৷ আবেদনকারীরা জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ অন্যরকম ছিল৷ পরীক্ষার্থীদের বসার কোনও নির্দিষ্ট আসন ছিল না৷ কোনও সিট নম্বর নেই৷ হাওড়া থেকে আসা এক পরীক্ষার্থী বলেন, “অনুষ্ঠান বাড়িতে যে টেবিলে খাওয়া দাওয়া হয় সেই টেবিলে চার জন করে বসানো হয়৷ যে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় সেগুলি জেরক্স করা৷” সরকারি পরীক্ষায় যেমন ওএমআর শিট দেওয়া হয় ঠিক তেমনই এখানে দেওয়া হয়৷ তবে তাতে কোনও বারকোড না থাকায় পরীক্ষার্থীদের আশঙ্কা নিশ্চিত হয়ে যায়৷ বর্ধমান থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন অয়ন মুখোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, “এর আগেও আমরা অনেক সরকারি পরীক্ষা দিয়েছি৷ ওএমআর শিটে বারকোড থাকা বাঞ্ছনীয়৷ বারকোড না থাকাতেই আমরা নিশ্চিত হয়ে যাই সংস্থাটি ভুয়া৷ সরকারি প্রকল্পের নামে এই সংস্থা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে৷” শুধু পরীক্ষার ফি নয়, স্টাডি মেটিরিয়ালের নাম করে অনেক টাকা নেওয়া হয়৷ কেন্দ্রীয় সরকারের পরীক্ষা ভেবে অনেকেই ভাল ফল করার জন্য তিন হাজার টাকার বিনিময়ে অনলাইনে এই স্টাডি মেটিরিয়াল কেনেন৷ তবে যে পরীক্ষাই ভুয়া তার স্টাডি মেটিরিয়ালই বা এখন কী কাজে লাগবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা৷

এদিন প্রায় ৪৫০ জন পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন মধ্যমগ্রামে৷ তবে প্রত্যেকেই মাঝপথে হল থেকে বেরিয়ে আসেন৷ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে সানশাইন অ্যাকাডেমি৷ সংস্থার কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা৷ মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন৷ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই সংস্থার দুই কর্মীকে পরীক্ষার বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বললে তারা দেখাতে পারেনি৷ পরীক্ষার্থীরা মধ্যমগ্রাম থানায় এই সংস্থার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ ভুয়া সংস্থাটির কর্মীদের গ্রেফতারের দাবি তোলেন তাঁরা৷ দেবাশিস দাস ও আবদুল হালিম নামে সংস্থার দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ পুলিশ জানিয়েছে, সংস্থাটির সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement