মনিরুল ইসলাম, উলুবেড়িয়া: মাস কয়েক আগে হার্টের অস্ত্রোপচার হয়েছিল চালক শ্রীমন্ত বাগের! তিনিই ওই পুলকার চালাতেন। তাঁর অসুস্থতা ও অস্ত্রোপচারের সময় অন্য এক চালক গাড়ি চালাতেন। মাঝে এক-দু’দিন গাড়ি চালিয়েছিলেন শ্রীমন্ত বাগও। আজ, সোমবার তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পড়ুয়ারা জানাচ্ছে, রাস্তায় বাঁক নেওয়ার পরে স্টিয়ারিং থেকে হাত সরে গিয়েছিল চালকের! তারপরেই পুলকার পুকুরে পড়ে যায়। উলুবেড়িয়ায় পুলকার দুর্ঘটনায় তিন খুদে পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রাথমিকভাবে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য! তাহলে গাড়ি চালানোর সময় চালক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন? তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ না হয়েই গাড়ি চালাতে শুরু করেন? পুলিশ চালক শ্রীমন্ত বাগকে আটক করে জেরা করছে বলে খবর।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বহিরা চৌরাস্তা থেকে শ্মশানগড়া যাওয়ার পথে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তার ধারের পুকুরে গাড়িটি উলটে যায়। বিকট আওয়াজ পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয়রা। গাড়ির ভিতর থেকে পড়ুয়াদের উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁদের উলুবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও চিকিৎসকরা তিন পড়ুয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গাড়িতে সেসময় মোট পাঁচ খুদে পড়ুয়া ছিল। বাকি দু’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পড়ুয়া প্রিয়ম বাগ ও অর্ঘ্য মণ্ডল গাড়ির সামনের আসনে বসেছিল। দুর্ঘটনার পর তারা বরাতজোরে গাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল।
এক পড়ুয়ার কথায়, “আমি দেখলাম হঠাৎ বাঁক মোড় নেওয়ার পরেই সোজা রাস্তাতেই হঠাৎ কাকুর হাত স্টিয়ারিং থেকে সরে গেল। তারপরেই গাড়িটি পুকুরে নেমে যায়।” তাহলে কি সেসময় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন চালক? মাত্র কয়েক মাস আগে হার্ট অপারেশন হওয়া ব্যক্তিকে কেন গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হল? সেই প্রশ্নও উঠেছে। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর চালক গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কেন তিনি পড়ুয়াদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলেন না? সেই প্রশ্নও থাকছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছিল না। তিনি পলাতক বলে জানা গিয়েছিল। পুলিশ তদন্তে মেনে তাঁকে পরে আটক করে।
স্থানীয়রাই দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে হাতে লাগিয়েছিলেন। পড়ুয়াদের উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিন পড়ুয়াকে মৃত বলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন। মৃত তিন পড়ুয়ার নাম ঈশিকা মণ্ডল সৌভিক দাস ও অরিন দে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান রাজ্যের মন্ত্রী পুলক রায়। এছাড়াও হাসপাতালে উপস্থিত হন হাওড়ার গ্রামীণ এলাকার পুলিশ সুপার সুবিমল পাল, এসডিপিও শুভম যাদব, উলুবেড়িয়ার এসডিও মানস মণ্ডল, উলুবেড়িয়া এক নম্বর ব্লকের বিডিও রিয়াজুল হক।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিকে আটক করেছে পুলিশ। গাড়িটিকে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়ির মালিকেরও খোঁজ চলছে। জানা গিয়েছে, গাড়িটির ১০-১২ জন ছাত্র স্কুলে যাতায়াত করে। এদিন স্কুল ছুটির পর পড়ুয়াদের নামাতে নামাতে গাড়িটি আসছিল। ওই পাঁচ পড়ুয়াদের বাড়িতে পৌঁছনো বাকি ছিল। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃতদের পরিবারের সদস্যা।
সর্বশেষ খবর
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক
-
মমতার জন্যই ধ্বংস ইন্ডিয়া জোট, নীতীশের এনডিএ যোগের নেপথ্যেও কালীঘাট! প্রকাশ্যে রিপোর্ট
-
জমি দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ! পুলিশের জালে তৃণমূলের আরও এক প্রাক্তন বিধায়ক
-
যুদ্ধের ধাক্কায় বেসামাল, ফুরিয়ে এসেছে অস্ত্র! এবার হার মানবে ইরান?
-
নবদ্বীপের ‘ত্রিপলচোর’ তৃণমূল চেয়ারম্যানের মামলাই লড়লেন না আইনজীবীরা! এজলাসের বাইরে ‘চোর’ স্লোগান, পড়ল ডিম