সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে নাম লেখাতে পারেন দলের নবনির্বাচিত কংগ্রেস বিধায়করা৷ এই আশঙ্কা থেকে এবার দলের বিধায়কদের কাছ থেকে ‘মুচলেকা’ লিখিয়ে নিল প্রদেশ কংগ্রেস৷ দলের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরির নির্দেশে, ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে কংগ্রেস বিধায়কদের লিখতে হল তাঁরা দলবিরোধী কোনও কাজ করবেন না৷ কিন্তু এমন ঘটনা হাস্যকর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷
১৯ মে ফল ঘোষণার দিনেই বাংলার মানুষ জানিয়ে দেন, বাম-কংগ্রেসের জোটকে তাঁদের কোনও অবস্থায় পছন্দ নয়৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই তাঁরা আস্থাশীল বলে জানান বাংলার মানুষ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই বাংলা এগোবে, এটাই বিশ্বাস করেন রাজ্যের মানুষ৷ ২০১১ সালের পর থেকে কংগ্রেসের ১১ জন বিধায়ক দল ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন৷ এবারও সেই আশঙ্কা করছে বিধান ভবন৷ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, অনেক কংগ্রেস বিধায়কই দল ছাড়তে পারেন৷ ৪৪ জন নবনির্বাচিত বিধায়ককে মঙ্গলবার বৈঠকে ডাকেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি৷ অধিকাংশ বিধায়কই এসেছিলেন বৈঠকে৷ সেখানেই ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে মুচলেকা দিতে হয় কংগ্রেস বিধায়কদের৷ ‘এফিডেভিট’ কপিতে বিধায়কদের নির্দিষ্ট বয়ানের উপর সই করতে হয়৷ কপি আগে থেকেই তৈরি করা ছিল৷ বিধায়করা শুধু সই করছেন৷ যেখানে বিধায়কদের লিখতে হয়েছে, “আমি বিধানসভার একজন সদস্য৷ আমি কখনওই দলবিরোধী কাজ করব না৷ আমি দলের কোনও নীতির সঙ্গে সহমত পোষণ নাও করতে পারি৷ কিন্তু সেক্ষেত্রে কোনও নেতিবাচক বক্তব্য প্রকাশ্যে রাখব না৷ দলবিরোধী কোনও নেতিবাচক ভূমিকা নেব না৷ দলের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তবেই কোনও নেতিবাচক ভূমিকা নেব৷” বিধায়কদেরও এও লিখতে হয়েছে, “বিধানভার সদস্য হিসাবে দলের পরিষদীয় দলনেতা ও মুখ্য সচেতকের নির্দেশ মেনে চলব৷ দলের নির্দেশ অনুসারে কাজ করব৷”
কিন্তু আগের কোনও নির্বাচনের পর এভাবে কংগ্রস বিধায়কদের মুচলেকা দিতে হয়নি৷ কেন এবারই প্রথম নবনির্বাচিত বিধায়কদের লিখতে হল, তাঁরা কংগ্রেস কর্মী হিসাবেই থাকবেন? রাজনৈতিক মহল বলছে, দল ছাড়ার প্রবণতা আটকাতেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে বিধান ভবন৷ মূলত কংগ্রেস বিধায়কদের চাপে রাখতেই এই ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি বলেন, “এটা এআইসিসি-র নয়৷ আমার সিদ্ধান্ত৷ আমি কংগ্রেস করব, এটা কেন বলতে পারবেন না দলের বিধায়করা৷”
প্রদেশ কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে হাস্যকর বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে মুচলেকা দিয়ে কোনও বিধায়ককে আটকে রাখা যায় না৷ এমনকী, বিধানসভার কোনও নিয়মেই উল্লেখ নেই, এভাবে মুচলেকা দিয়ে দলের নির্বাচিত সদস্যকে আটকে রাখা যায়৷ বিধায়করা মনে করলে যে কোনও দিন দল ছাড়তে পারেন৷ সেক্ষেত্রে দলের অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন হয় না৷ বিধায়ক দল ছাড়লে পরবর্তী ছ’মাসের মধ্যে তাঁকে জিতে আসতে হয়৷ এমন নজির এর আগেও ঘটেছে৷
সর্বশেষ খবর
-
৩৩০০ কর্মী ছাঁটাই করবে উবের! চালকহীন গাড়ির পথেই হাঁটছে সংস্থা
-
কেক-বেলুনে ঋতিকার জন্মদিন পালন, সোশাল মিডিয়ায় হিরণের নতুন পোস্টে ফের চর্চায় বিয়ে বিতর্ক
-
‘রক্ত-শোক ভোলার নয়’, বিয়ের আসরে মার্কিন হামলার নিন্দায় ইরান, ‘নীরব বিশ্ব’কে তোপ
-
প্রশাসনিক ভবনে বিক্ষোভে ‘না’, নোটিস প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তেজনা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে
-
‘সংখ্যালঘু স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যর্থ’, মাদ্রাসার জন্য মন্দির ভাঙায় পাকিস্তানকে তোপ ভারতের
