ব্রতদীপ ভট্টাচার্য: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে বিজেপির অভিনন্দন যাত্রা চলছে রাজ্যজুড়ে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সুফল বোঝাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। এই কর্মসূচি ঘিরে অশান্তিও হচ্ছে জেলায় জেলায়। বেশিরভাগ জায়গাতেই বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, মঙ্গলবার রাতে অভিনন্দন যাত্রা থেকে এক প্রৌঢ় ব্যবসায়ীকে মারধর ও হেনস্তার পালটার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল হাবরা।

অভিযোগ, প্রথমে এসে CAA’র লিফলেট দেয়। তারপর নাগরিকত্বের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয়। কাগজ দেখাতে অস্বীকার করলেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, তারপর গায়ে হাত পর্যন্ত তোলে বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার রাতে এমনই অভিযোগ নিয়ে হাবড়া থানার দ্বারস্থ হয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী নির্মল কর্মকার। তাঁর ছেলে অভিজিৎ কর্মকার বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হাবরা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন।
[আরও পড়ুন: সপ্তাহ শেষেই শীতের আমেজ উধাও! বাড়বে তাপমাত্রা ]
নির্মলবাবুর দাবি, গোটা ঘটনাটি CCTV ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। CAA লিফলেট দেওয়ার পরই হঠাৎ বিজেপি কর্মীরা আমার কাছে কাগজ দেখতে চায়। কীসের কাগজ জিজ্ঞাসা করতে বলে নাগরিকত্বের কাগজ। পালটা আমি তাদের প্রশ্ন করি যে আপনাদের কেন কাগজ দেখাতে যাব? আপনারা কি প্রশাসনের লোক? এ কথা বলতেই ২০-২৫ জন লোক আমার দিকে তেড়ে আসে। প্রথমে আঙুল উঁচিয়ে শাসাতে থাকে। তারপর কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে। দু’জন মহিলা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করে।’
[আরও পড়ুন: ‘ঘুঘুর বাসা ভাঙুন’, বাঁকুড়ায় জলের ট্যাঙ্ক ভাঙার ঘটনায় মন্তব্য ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর ]
আক্রান্ত প্রৌঢ়ের দাবি অনুযায়ী CCTV ক্যামেরায় ধস্তাধস্তির ছবি ধরা পড়েছে। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর যে হাতাহাতি পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছিল সেটিও স্পষ্ট। নির্মলবাবুর দাবি, ‘৬৫ বছর হাবরায় ব্যবসা করছি। এখন আমাকে বিজেপির কর্মীদের কাগজ দেখিয়ে নিজেকে নাগরিক প্রমাণ করতে হবে? এর থেকে বড় অপমান আর কী হতে পারে?’ নির্মলবাবু ও তাঁর দোকানের কর্মীদের অভিযোগ, দোকান থেকে বের করে দেওয়ার পর বাইরে দাঁড়িয়ে হুমকি দিতে থাকে বিজেপি কর্মীরা। গন্ডগোলের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে আসে হাবরা থানার পুলিশ। উর্দিধারীরা আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ী নির্মলবাবুর অনুরোধ, ‘প্রশাসন যেন এই অন্যায়ের বিচার করে।’
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উলটে তাদের অভিযোগ, “দলের কর্মীরা সিএএ-র প্রচার করতে গেলে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাঁদের কুরুচিকর কথা বলেন। গালিগালাজ করেন। তিনিই প্রথম আমাদের এক কর্মীর কলার ধরেছিলেন। তাই বাকিরা উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিল। তবে নিজেরাই সংযত হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে।’ পুলিশ দু’পক্ষের বক্তব্যই শুনেছে। মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
মেয়রের ইস্তফার পরেই বিধাননগর পুরনিগমে বসল প্রশাসক, হাওড়া পুরসভাতেও নয়া কমিশনার
-
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য, ‘চোর’ স্লোগান জনতার
-
ঝড়-বৃষ্টি, হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা, সিকিমে ভূমিধসে মৃত ১, নিখোঁজ ৪
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক
-
মমতার জন্যই ধ্বংস ইন্ডিয়া জোট, নীতীশের এনডিএ যোগের নেপথ্যেও কালীঘাট! প্রকাশ্যে রিপোর্ট