মনিরুল ইসলাম, উলুবেড়িয়া: ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বশুর ও শাশুড়ির বিছানায় পেট্রল ঢেলে তাঁদের পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল জামাইয়ের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য সন্তোষপুরের হাজরাপাড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, শ্বশুর হারু হাজরা (৬৭) কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে মারা যান। আর শ্বাশুড়ি তেলকা হাজরা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মৃতের ছেলে জগৎবল্লভপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত জামাই গোষ্ঠ মন্ডলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত জামাই পলাতক। তাকে খুঁজছে পুলিশ।
বছর আঠারো আগে হারু হাজরা ও তেলকা হাজরার ছোট মেয়ে মালতি হাজরার বিয়ে হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বাসিন্দা গোষ্ঠ মণ্ডলের সঙ্গে। তাঁদের একটি মেয়ে ও একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মেয়েরও বিয়ে হয়েছে ডোমজুড় এলাকায়। গোষ্ঠ মণ্ডল জগৎবল্লভপুরে একটি ধানকলে কাজ করতেন। ফলে মালতি ও গোষ্ঠ সন্তোষপুর মিদ্দে পাড়ায় থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে মালতি ও গোষ্ঠের মধ্যে সাংসারিক অশান্তি চলছিল। কারণ, স্বামীর টাকায় সংসার না চলায় মালতি কলকাতায় বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। এতেই ক্ষুব্ধ গোষ্ঠ মালতিকে মারধর করত বলে অভিযোগ। এছাড়া গোষ্ঠ মদ্যপানও করত। ফলে বেশ কয়েক বছর ধরে এই কারণে মালতি অশান্তি এড়াতে মাঝেমধ্যেই বাপের বাড়ি এসে থাকতেন। তখন গোষ্ঠ শ্বশুরবাড়িতে এসেও ঝামেলা করত। শ্বশুরশাশুড়ি প্রতিবাদ করতেন। আর তাতেই গোষ্ঠ শ্বশুরশাশুড়ির উপরেও অসন্তুষ্ট ছিলেন।
[আরও পড়ুন: পকেটে স্ত্রীর প্রেমিকের নাম লেখা চিরকূট, গাছ থেকে ঝুলছে দেহ, মুর্শিদাবাদে রহস্যমৃত্যু যুবকের]
মঙ্গলবার রাতে মালতি তাঁর মেয়ের বাড়ি ডোমজুড়ে ছিলেন। তাঁর মেয়ে সন্তানসম্ভবা। সেজন্য তার মেয়ের কাছে গিয়েছিলেন। এদিকে, শ্বশুর শাশুড়িও বাড়িতে ছিলেন। তাঁদের বাড়ির দরজা খোলাই ছিল। তাঁদের ছেলে কার্তিক পাশের ঘরে ছিলেন। সেই সুযোগে গোষ্ঠ ঘরে ঢুকে। তারপর তাঁদের বিছানায় পেট্রল ঢেলে দেয় এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। তাতেই ঝলসে যান শ্বশুর ও শাশুড়ি।
অভিযুক্ত জামাই গোষ্ঠ মণ্ডলের সঙ্গে তার স্ত্রী মালতির অশান্তি ছিল। গোষ্ঠর শ্বশুর হারু ও শ্বাশুড়ি তিলকা মেয়ের পক্ষেই কথা বলতেন। ফলে তাদের উপরে ক্ষুব্ধ ছিল জামাই গোষ্ঠ। মঙ্গলবার রাতে হারু ও তিলকা বাড়ির মধ্যে ঘুমিয়েছিলেন। সেই সময় বাড়ির দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে গোষ্ঠ। তাদের বিছানায় পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেই আগুনেই পুড়ে যায় হারুরা। তাদের চেঁচামেচিতে ছুটে আসেন পাশের ঘরে থাকা হারুদের ছেলে কার্তিক হাজরা। তিনিও চেঁচামেচি করেন। তাদের চেঁচামেচিতে ছুটে আছেন প্রতিবেশীরা। তারা বালতি দিয়ে জল ঢেলে আগুন নেভান। তারপর তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে জগৎবল্লভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিস্থিতি খারাপ দেখে তাঁদের কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। রাতে মারা যান হারু হাজরা। তিলকা হাজরা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মৃত হারু হাজরার ছেলে কার্তিক হাজরা বলেন, “বোনকে জামাইবাবু মারধর করত। অশান্তি করত। কিন্তু জামাইবাবু যে এমনটা করে ফেলবে তা ভাবতেও পারছি না। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই।”
[আরও পড়ুন: কল্যাণী এইমসে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে বাড়িতে CID, বেপাত্তা বিজেপি বিধায়ক!]
সর্বশেষ খবর
-
‘বাংলায় সব সম্পদ আছে’, শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
বৈভবের অভিষেকেও এল না জয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল ভারত
-
রাস্তা তৈরিতে এবার ব্যবহার হবে ‘ম্যাস্টিক অ্যাসফল্ট’! বড় উদ্যোগ সিকিম সরকারের
-
ভাড়াবাড়িতে ভাগ্নের সঙ্গে লিভ ইন! ‘খুন’ করে ট্রেন লাইনে ঝাঁপ মামির, জোড়া দেহ উদ্ধার বসিরহাটে
-
ম্যাচ জিতে মেসি জড়িয়ে ধরতেই চুমু সাংবাদিক সোফির! শুরু সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন