Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ৮ জুলাই ২০২৬
Rabindranath Sarkar

ছিয়াত্তরেও জীবনগাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত! ভাড়ার হলুদট্যাক্সিতে বছরের পর বছর যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ

মাঝে মাঝে স্টিয়ারিংয়ে এক হাত রেখে বৃদ্ধকে আরেক হাতে তুলে নিতে হয় ইনহেলার।

Advertisement
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ৮, ২০২৬, ১০:১৯

link
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ৮, ২০২৬, ১০:১৯

options
link
ছিয়াত্তরেও জীবনগাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত! ভাড়ার হলুদট্যাক্সিতে বছরের পর বছর যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ zoom
ট্যাক্সিচালক রবীন্দ্রনাথ সরকার।

বয়স ৭৬। বয়সকে হার মানিয়ে জীবনযুদ্ধে হলুদ ট্যাক্সির চালক। মাঝে মাঝে স্টিয়ারিংয়ে এক হাত রেখে আরেক হাতে তুলে নেন ইনহেলার। যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার বৃদ্ধের দায়িত্ববোধে মুগ্ধ নেটিজেনরা। ট্যাক্সির স্টিয়ারিং আঁকড়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ সরকার। যে বয়সে অধিকাংশ মানুষ কর্মজীবনের ক্লান্তি ভুলে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, সেই বয়সেও তাঁর কাছে অবসর বিলাসিতা। কারণ, একদিন ট্যাক্সি না চালালে সংসার চলে না, অসুস্থ স্ত্রীর ওষুধ কেনাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

দমদমের বেদিয়াপাড়ার একটি ছোট্ট টিনের ঘরেই বহু বছর ধরে স্ত্রী সন্ধ্যা সরকারকে নিয়ে তাঁর সংসার। সন্তান নেই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই দম্পতির একমাত্র ভরসা একে অপর। সংসারে উপার্জনের অন্য কোনও পথও নেই। তাই শরীর যতই ক্লান্ত হোক, প্রতিদিন সকাল ন’টা বাজতেই ভাড়ার ট্যাক্সির স্টিয়ারিংয়ে বসে পড়েন রবীন্দ্রনাথবাবু। রাত প্রায় ১০টায় বাড়ি ফেরেন, তারপর আবার পরদিন একই সংগ্রামের শুরু। ১৯৬৮ সালে চালকের পেশায় পা রাখা রবীন্দ্রনাথ সরকার প্রায় ছয় দশক ধরে কলকাতার রাস্তাকেই নিজের কর্মক্ষেত্র বানিয়েছেন। অথচ এত দীর্ঘ কর্মজীবনের পরও নিজের একটি ট্যাক্সি কেনার সামর্থ্য হয়নি। প্রতিদিন ৪০০ টাকা ভাড়ায় অন্যের গাড়ি নিয়ে রোজগার করেন। সারাদিনের আয়ের বড় অংশই সেই ভাড়াতেই চলে যায়। বাকি টাকায় কোনও রকমে দু’জনের খাবার জোটে। চিকিৎসা, ঘর মেরামত বা অন্য কোনও জরুরি প্রয়োজন যেন সব সময়ই অধরাই থেকে যায়। বয়সের সঙ্গে শরীরও আর আগের মতো নেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কমে এসেছে দৃষ্টিশক্তি, দীর্ঘদিনের হাঁপানির জন্য সবসময় সঙ্গে রাখতে হয় ইনহেলার। অন্যদিকে অসুস্থ স্ত্রীও নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে অনেক সময় ওষুধ কেনা সম্ভব হয় না। মাথার উপরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে বহু জায়গায়। বর্ষা নামলেই ঘরের ভিতরে জল পড়ে। বালতি আর হাঁড়ি রেখে সেই জল সামলাতে হয়। তবুও অভিযোগ নেই, কারও কাছে হাত পাতার ইচ্ছাও নেই। রবীন্দ্রনাথ সরকারের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর আত্মসম্মান। যাত্রীদের কাছ থেকে কখনও অতিরিক্ত ভাড়া চান না। বরং হাসিমুখে বলেন, “আপনার যা ঠিক মনে হবে, তাই দেবেন।” তাঁর এই কথার মধ্যেই ধরা পড়ে এক শ্রমজীবী মানুষের সততা, আত্মমর্যাদা এবং অদম্য মানসিক শক্তি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.