৪ আশ্বিন  ১৪২৬  রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: প্রথমবার ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করে ধরা পড়ায় লরিচালককে অভিনব ‘শাস্তি’ দিল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। শাস্তি হিসেবে অভিযুক্তকে সাতদিন ‘ডিউটি’ করতে হবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে। একইসঙ্গে বিভিন্ন গাড়ির চালকদের ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’-এর গুরুত্ব বোঝাতে হবে তাঁকেই।

সেই মতোই শনিবার রায়নার সেহারাবাজারের বাদুলিয়ায় বর্ধমান-আরামবাগ রোডে অন্য ট্রাফিক পুলিশ কর্মীদের সঙ্গেই ডিউটি করতে দেখা গিয়েছে শাস্তি পাওয়া লরিচালক শেখ সইফুদ্দিনকে। নির্দিষ্ট পোশাক পরে বাস, লরি, গাড়ি-সহ বিভিন্ন গাড়ির চালকদের কাছে গিয়ে আউশগ্রামের কয়রাপুরের বাসিন্দা ওই লরিচালক বলেন, “ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালান। তাতে দুর্ঘটনা কমবে। মৃত্যু বা পঙ্গু হওয়ার ঘটনাও ঘটবে না। আর নিয়ম মেনে না চালালে আমার মত এইভাবে ট্রাফিকের ডিউটিও করতে হবে।” পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে থাকাকালীন এইভাবে ট্রাফিক সচেতনতার কাজ করেছিলেন। এবার পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও সেই প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।

[আরও পড়ুন:রাতের অন্ধকারে রেশনের পন্য নিয়ে যায় মাওবাদীরা, উদ্বিগ্ন প্রশাসন]

জেলা পুলিশ কর্তাদের দাবি, এই প্রথম জেলায় এরকম শাস্তি দেওয়া হল কোনও ট্রাফিক নিয়মভঙ্গকারীকে। কলকাতা পুলিশ, বিধাননগর কমিশনারেটে আগে এমন শাস্তির নজির রয়েছে। কলকাতার একটি ঘটনায় হাই কোর্টের তরফেও এক চালককে এমন শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। ডিএসপি ট্রাফিক সুকান্ত হাজরা জানান, “অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য ওই লরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এইক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী সদর দক্ষিণ মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে ওই লরিচালককে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেখানে তাঁকে ট্রাফিক নিয়মভঙ্গকারীদের সচেতন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স তিন মাসের জন্য বরখাস্তের বিধানও রয়েছে। কিন্তু তা করা হলে ওই লরিচালকের রুটি-রুজিতে টান পড়বে। তাই আইন মেনেই তাকে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

সদর দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আমিনুল ইসলাম খান জানান, কয়েকদিন আগে লরিচালক শেখ সইফুদ্দিনকে ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ করার জন্য ধরা হয়। শুক্রবার তাঁর দপ্তরে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল ওই লরিচালককে। সেখানে নিয়ম মেনে ওই লরিচালককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনমাসের জন্য তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হবে নাকি, তিনি সাতদিন ট্রাফিক সচেতনতার কাজ করবেন। আমিরুলবাবুর কথায়, ওই লরিচালক ট্রাফিক সচেতনতার কাজটাই বেছে নিয়েছেন স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে। সেইমতোই শনিবার তিনি সচেতনও করেছেন লরিচালকদের। তবে ওই লরিচালক এই প্রথমবার নিয়মভঙ্গ করে ধরা পড়েছেন। তাই তাঁকে এই সুযোগটা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্তারা জানাচ্ছেন, ট্রাফিক নিয়মভঙ্গ করে ধরা পড়ে কোনও লরিচালক এইভাবে অন্য চালকরে সচেতন হওয়ার বার্তা দিলে সেটা বেশি ফলপ্রসূ হয়। একজন শাস্তি পেয়ে যখন অন্য চালকদের ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গ না করার জন্য বলবেন সেটা তাঁদের মনে দাগ কাটবে। তাঁরাও সচেতন হবেন। না হলে তাঁদেরও হয়তো এইভাবে ট্রাফিকের ডিউটি করতে হবে বা ড্রাইভিং লাইসেন্স তিনমাসের জন্য বাতিল করে দেওয়া হবে। পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমবার ট্রাফিক নিয়মভঙ্গকারীদের এইভাবেই সচেতনতার কাজ দেওয়া হবে।

[আরও পড়ুন:চাই পর্যাপ্ত শৌচাগার, কর্মবিরতিতে পুরুলিয়া আদালতের আইনজীবীরা]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং