নিজস্ব সংবাদদাতা, তেহট্ট: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিকদের হেনস্তা করছে বিজেপি৷ নদিয়ার তেহট্টের বেতাইয়ে দলীয় সভা থেকে ফের একবার গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর আরও অভিযোগ, ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করে বিজেপি৷ আগামী লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল সর্বশক্তিমান হয়ে উঠবে বলেও আশাবাদী তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷
[শ্যালিকার মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া, নাবালিকাকে ফুসলিয়ে গ্রেপ্তার মেশোমশাই]
‘‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন দিল্লি চলো৷ প্রায় আশি বছর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিগেড থেকে ফের দিল্লি যাওয়ার আহ্বান করেছিলেন৷ এদিকে আবার দিলীপ ঘোষ বলছেন তোমরা আমাকে গদি দাও, আমি তোমাদের রক্তস্নাত বাংলা দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বীরযোদ্ধা মা মাটি মানুষ আমাকে বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ দাও। আমি তোমাদের ধর্ম নিরপেক্ষ ঐক্যবদ্ধ প্রগতিশীল ভারতবর্ষ দেব।’’ শনিবার তেহট্টর বেতাইয়ে ঠিক এই ভাষাতেই বিজেপিকে একহাত নেন সাংসদ তথা তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারী সংস্থাকে বিজেপি নিজেদের দাসে পরিণত করেছে বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিষেক৷ তিনি বলেন, ‘‘কেউ চুপচাপ না থাকলে তার দিকে ইডি, সিবিআই লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকটা দল এদের বশ্যতা স্বীকার করেছে। আমাদের দলনেত্রী বিজেপির বশ্যতা স্বীকার করেনি। বিজেপির হুমকি, চোখ রাঙানি আমাদের দল সহ্য করেনি। তৃণমূল দলটা বিশুদ্ধ লোহার মতো। আমাদের যত পেটাবে, আঘাত করবে, প্রত্যাঘাত করবে না। বরং তত শক্তিশালী হবে, আগুনে লোহা পোড়ালে যেমন শক্তিশালী হয়। তেমনই দলটা বলিষ্ঠ বলবান হবে।’’
[ডিজে মিউজিক বাজানোর প্রতিবাদ, হুমকির মুখে প্রখ্যাত শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যা]
বিজেপির রথযাত্রা প্রসঙ্গেও এদিন মন্তব্য করেন অভিষেক৷ বলেন, ‘‘গাধাকে দেখিয়ে, ঘোড়া বলছে। বাসকে দেখিয়ে রথ বলছে। হঠাৎ করে বিলাসবহুল বাস নিয়ে এসে হাজির। এ রথে স্নান, মল, মূত্র, খাওয়া, ফূর্তি করা যাবে। রথে দড়ি, দেবদেবী থাকে। রথ মানে জানি মদনমোহনের রথ, জগন্নাথের, দেবদেবীর রথ। এ কোন রথ?’’ বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিরও অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেতা৷ তিনি বলেন, ‘‘হিন্দু ধর্মের রক্ষাকর্তা বলে যারা নিজেদের দাবি করে তারা রাজস্থানে ৯১ শতাংশ, ছত্তিশগড়ে ৯০ শতাংশ ও মধ্যপ্রদেশে ৯১ শতাংশ হিন্দু রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরা তৃণমূলকে মোকাবিলা করতে না পেরে হিন্দু মুসলমানের বাংলাকে ভাগ করে অশান্ত করতে চাইছে।’’ কেন্দ্রকেও চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘‘চূড়ান্ত একনায়কতন্ত্র চলছে। কে কোথায় যাবে, খাবে, হাঁটবে তার নিদান দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।’’
[আধার কার্ডের আদলে মুদিখানার দোকানের সাইনবোর্ড! বিতর্ক তুঙ্গে]
বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারের তুলোধনার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন তৃণমূল নেতা৷ অভিষেক ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, রত্না ঘোষ, বিধায়ক শংকর সিংহ, তাপস সাহা, মহুয়া মিত্র, গৌরী দত্ত, কল্লোল খাঁড়া-সহ একাধিক জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
সর্বশেষ খবর
-
অবশেষে শুরু অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদন, কীভাবে পূরণ করবেন ফর্ম? জানুন খুঁটিনাটি
-
হিন্দু-মুসলমানের রাজনীতি আর কতদিন! দিল্লিতে বিক্ষোভ ককরোচ পার্টির, নিরাপত্তা দিল শাহের পুলিশ
-
শওকতের গ্রেপ্তারিতে ভাঙড়ে মিষ্টি বিলি আরাবুলের, তুমুল নাচ আইএসএফ কর্মীদের
-
বিশ্বাস ভাইদের অবিশ্বাস্য কীর্তি! এলআইসির জমি ‘জবরদখল’ সুরুচি সংঘের
-
আর জেড প্লাস নিরাপত্তা নেই লালুর, লাঠি হাতেই বাড়ি পাহারায় দলের কর্মীরা