Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬

‘মুখ ঢাকব না’, #10YearChallenge নিয়ে সোচ্চার অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণী

জীবনের চ্যালেঞ্জ, চ্যালেঞ্জের জীবন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০১৯, ১২:২৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০১৯, ১২:২৯

options
link
‘মুখ ঢাকব না’, #10YearChallenge নিয়ে সোচ্চার অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণী zoom

সুচেতা সেন: সময়ের হিসেব রাখা খুব সহজ কাজ নয়৷ দ্রুত হাত ফসকে বেরিয়ে যায়৷ তবে এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উলটো। বরং সময় তাঁদের অনেক কিছুর হিসেব বুঝিয়ে দেয়, মনে রাখতে বাধ্য করায়। #10YearChallenge বা দশ বছরের চ্যালেঞ্জের খেলায় বোধহয় সেসব ব্যক্তিত্বই আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন। যেমন আমাদের মনীষা। তেইশ বছরের মনীষা পৈলান, আদর করে যাঁকে সবাই ডাকে মিঠু বলে।

কেন মনীষা এই প্রতিবেদনের কেন্দ্রবিন্দু, তা ক্রমশ প্রকাশ্য। তার আগে মনীষার সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় একবার চোখ রাখা যাক। কী লিখছেন তেইশের তরুণী? দশ বছরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মনীষার পোস্ট শুরু হচ্ছে এভাবে – ‘হ্যাঁ অনেক টাই পরিবর্তন৷ ( #10yearschallenge বলে আমার কাছে কিছুই নেই) কয়েক দিন ধরেই দেখছি ফেসবুক এটা খুব ভাসছে, তাই ভাবলাম আমারও তো অনেকটাই পরিবর্তন – সেজন্য তাল মেলানো আর কি। ২০১০ থেকে এখানে রয়েছে ছবি৷ তার আগে মোবাইল না থাকায় ছবি তোলা হয়ে ওঠে নি৷ তবে থাকলেও এখানে কি আর পরিবর্তন হতাম? সেটাও ভাবতে সময় লাগে । “২০১০ থেকে ২০১৮”র মাঝে অনেক কিছু ঘটে গেছে, তবে সেদিন খুব প্রিয় দুজনের সাথে ছোট্ট এক আলোচনাতে এইটা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে  #আমি_মুখ_ঢাকবো_না ৷ আজ আর কোনো ভাবে মুখ ঢাকার প্রয়োজনও হয় না৷ সুতরাং এখন একদম ঠিক আছি আর সেজন্য কিছু ছবির কোলাজ দিয়ে রাখলাম যে “এভাবেও ফিরে আসা যায়”……..’

Advertisement

                                       [খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেললে হতে পারে লক্ষ টাকার জরিমানা!]

কীভাবে বদলে গেছে মনীষার জীবন? সে এক যন্ত্রণাদায়ক কাহিনী৷ সেটা ২০১৫ সাল৷ সদ্য আঠেরো পেরিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের মেয়েটি৷ নিজের জীবন নিয়ে নিজের একটা ভাবনাচিন্তা তৈরি হয়েছে৷ কিন্তু সে পথে জীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগেই অনেক কিছু এলোমেলো হয়ে গেল। পাশের বাড়ির ছেলে সেলিম হালদার জোর করেই তাঁকে বিয়ের নথিতে সই করিয়ে নেয়। মনীষা কোনওদিনই সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি। সেলিমের বিরুদ্ধে তিনি বারুইপুর আদালতে মামলা করেন। মামলা এখনও চলছে। মনীষাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে প্রমাণ করতে যতটাই তৎপর সেলিম, মনীষাও সেই সম্পর্কের অসত্যতা প্রমাণে  দাঁতে দাঁত চেপে লড়ছেন।

মনীষার এই লড়াইয়ের বদলা নিতে তক্কে তক্কে ছিল সেলিম। একদিন তিনি কম্পিউটার ক্লাস থেকে ফেরার পথে মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারা হয়৷ মুখে, গলায় অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি হন মনীষা৷ পরিস্থিতি আশংকাজনক হওয়ায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়৷ চিন্তিতমুখে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, মেয়ের মুখের একটা দিক পুড়ে যাওয়ায় চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ চিরতরে চোখের আলো নিভতে পারে৷

                                     [মৃত স্বামীর বিমার ভাগও ছাড়লেন না বিউটি মালিক, চূড়ান্ত হতাশ শ্বশুরবাড়ি]

চিকিৎসকদের সেই আশংকা পুরোপুরি  সত্যি হয়নি৷ দৃষ্টিশক্তি চিরতরে চলে যায়নি মনীষার৷ কিন্তু একটি চোখ তাঁর অকেজো৷ সেই থেকে লড়াই চলছে৷ লড়াকু মেয়েটি আজ অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত। মনীষা বলেছেন, অর্ধদগ্ধ মুখ তিনি ঢাকবেন না কোনওভাবেই৷ কারণ, তাঁর মুখটাই সমাজের আসল প্রতিফলন৷ মুখ তিনি ঢাকবেন না৷ কারণ, মুখ ঢাকার মতো তিনি কিছু করেননি৷ মুখ তিনি ঢাকবেন না৷ কারণ, এই মুখই তাঁর এগিয়ে চলার শক্তি, লড়াইয়ের কেন্দ্র৷ #10yearschallenge মনীষাদের জন্য নয়৷ কারণ, তাঁদের কাছে সারাটা জীবনই চ্যালেঞ্জের৷ যা দিয়ে প্রতিবেদন শুরু করেছিলাম, সময়ের হিসেব রাখা কঠিন নয় মনীষাদের কাছে, বরং ভুলে যাওয়া কঠিন৷ মাত্র কয়েকটা মুহূর্ত তাঁর সময়ের সারণীটাই বদলে দিয়েছে৷  

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.