১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বাম সরকারের দেনায় ধুঁকছে রাজ্য, তবু থামবে না উন্নয়ন

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 4, 2016 9:07 am|    Updated: June 4, 2016 9:07 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: উন্নয়ন সবার জন্য৷ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভোটের রায় দেখা হবে না৷ রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন করতে হবে৷ তাঁর নেতৃত্বে দ্বিতীয় সরকারের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী-সচিব ও জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আমরা-ওরা বা ২৩৫-৩০ নয়, তৃণমূল ২১১টি আসনে জিতলেও ২৯৪টি আসনের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবেই কাজ করে যাবেন মমতা৷ বিরোধীরা জিতেছে বলে সেই কেন্দ্রে উন্নয়ন হবে না, সেই ‘রীতি’ অন্তত তাঁর জমানায় হবে না৷ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন, যেভাবে পরিষেবা করের নামে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে, তিনি তার ঘোরতর বিরোধী৷ তাই বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, “ভাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই, কিল মারার গোসাঁই৷”
টাউন হলে শুক্রবারের বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ উন্নয়নকে পাখির চোখ করেছেন মমতা৷ জোর দিয়েছেন, মানুষের কল্যাণকারী প্রকল্পেই৷ তাঁর মন্তব্য, “বাংলা হবে বিশ্বসেরা৷ এটাই মিশন৷ নতুন ডাক৷ চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজে নামার শপথ৷” মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেই জঙ্গলমহল থেকে জেলাস্তরের প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করছেন৷ আগামী ১৪ জুন ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন৷ ২৫ জুন আলিপুরদুয়ার জেলা তৈরির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবেন তিনি৷ এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ভোটের বিজ্ঞপ্তির জন্য অনেক দেরি হয়েছে৷ আর কাজ ফেলে রাখা যাবে না৷ মন্ত্রী-সচিবদের জেলায় জেলায় ছুটতে হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “ইলেকশনের সময় যে প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়েছিল, সেগুলি নতুন করে চালু করা হবে৷” উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে বকেয়া কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনও তথ্য থাকলেই নির্দিষ্ট দফতরের নোডাল অফিসার মারফত তথ্য-সংস্কৃতি দফতরকে জানাতে হবে৷ সংবাদমাধ্যমকে জানানোর দায়িত্ব নেবেন তথ্য ও সংস্কৃতি সচিবই৷ পরিষেবা কর ও আধার কার্ড নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “গরিব আধার কার্ড পায়নি৷ বাধ্যতামূলক হলে গরিব বঞ্চিত হবে৷ প্রত্যেকটি পেশাকে তাদের মতো করে দেখতে হবে৷ ২০-৩০ শতাংশ কার্ড পায়নি৷ তাহলে কীভাবে বাধ্যতামূলক হবে?” পরিষেবা কর নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “এখন মেডিক্লেমেও পরিষেবা কর দিতে হবে৷” নিজের মেডিক্লেমের বিষয়ও জানান তিনি৷
বিরাট জয়ের পর এটিই প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক ছিল৷ গত সরকারে ১২১টি প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মমতা৷ জেলায় পৌঁছে গিয়েছিল গোটা সচিবালয়৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ১২২তম প্রশাসনিক বৈঠক ছিল মমতার৷ টাউন হলে ছিল উৎসবের মেজাজ৷ মন্ত্রী থেকে আমলা, প্রত্যেকের মুখে ছিল হাসি৷ গত বছরের ২৯ জানুয়ারি শেষ রিভিউ মিটিং হয়েছে৷ তখন বৈঠকেও মমতা বলেছিলেন, আবার নতুন সরকারের বৈঠকে দেখা হবে৷ সেই কথা মনে করিয়েছেন কেউ কেউ৷ মন্ত্রী-আমলারা বকাঝকা নিয়ে সতর্ক ছিলেন৷ কিন্তু সেসবের ধারেও যাননি মুখ্যমন্ত্রী৷
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, সরকারি কাজে স্বচ্ছতায় একশো শতাংশ ই-টেন্ডারিং চালু করা, এসএমএস-এর মাধ্যমে অভিযোগ ও অনলাইনে বিদ্যুতের বিল জমা দেওয়া যাবে৷ এই ক্ষেত্রে মমতার দার্শনিকসুলভ মন্তব্য, “জীবন ছাড়া সব কিছুই অনলাইনে চলে যাবে৷ জীবন স্থবির হয়ে যায়৷” সবুজসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে ১৫ লক্ষ সাইকেল দেওয়া বাকি রয়েছে, সেই ক্ষেত্রেও নতুন বরাত দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান৷ এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হাসপাতালে প্রসবের ক্ষেত্রে মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলা পিছিয়ে রয়েছে৷ স্বাস্থ্যে ৮৭ শতাংশ সাফল্য এসেছে৷ এটা ৯০ শতাংশ করা হবে৷ একশো দিনের কাজে বাংলা মডেল হয়েছে৷ জুলাই-আগস্টে সবার ঘরে আলো প্রকল্পে একশো শতাংশ সাফল্য আসবে বলে মুখ্যমন্ত্রীর আশা৷ মাছ থেকে লঙ্কা-পিঁয়াজের চাষে জোর দিতে বলেছেন তিনি৷ পরিবহণে বাস বাড়ানোর পাশাপাশি টোটোর সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে৷ বর্ষায় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুত থাকতে বলেছেন সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ প্রত্যেকের হাতে ডিজিটাল রেশন কার্ড তুলে দিতে উদ্যোগ নিতে বলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে৷ সাংবাদিক বৈঠকে মমতার পাশে ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়রা৷
রাজ্য বাজেটের আগে দফতরগুলির কাজ চালাতে অর্থ দফতর আপাতত ১১৫৭৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করছে৷ বাম সরকারের দেনার জন্য কেন্দ্রকে ৪০ হাজার কোটি টাকা করে দিতে হচ্ছে৷ দেনা সত্ত্বেও গত আর্থিক বছরে উন্নয়নমূলক কাজে রাজ্যের সাফল্য এদিনও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ২০১০-১১ আর্থিক বছরে পরিকল্পনা খাতে ব্যয় হয়েছিল ১৪ হাজার কোটি টাকা, এখন সেই খরচ হয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা৷ গত আর্থিক বছরের বাজেট বরাদ্দ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে খরচ হয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “সারা দেশেই এটি নজিরবিহীন৷”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement