সম্যক খান, মেদিনীপুর: সুদূর স্পেনে শিল্প সম্মেলনের মঞ্চ থেকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ইস্পাত কারখানা করার ঘোষণা করায় খুশির হাওয়া শালবনিতে। শুধু শালবনিই নয় কর্মসংস্থানের আশায় বুক বেঁধেছেন গোটা জেলার যুব সম্প্রদায়। সৌরভের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন শালবনি ল্যান্ড লুজার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পরিষ্কার মাহাতোও। তাঁর কথায়, “জিন্দালরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকাবাসীর থেকে জমি নিয়েছিলেন সেইসব প্রতিশ্রুতি যেন রক্ষা হয়। আশা করা যায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বড় মাপের মানুষ তা রক্ষা করবেন।”
গত ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর জিন্দালদের প্রস্তাবিত ইস্পাত প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি ইস্পাত প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তার মধ্যে সরকারি খাসজমির পরিমাণই ছিল প্রায় চার হাজার একর। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ছিল প্রায় সাড়ে চারশো একর। ৮৯৪টি পরিবারের হাতে ওই জমির মালিকানাধীন সত্ত্ব ছিল। শিল্পের আশায় হাসিমুখেই জমি দিয়েছিলেন জমিদাতারা। ক্ষতিপূরণের অর্থবাবদ চেক প্রদান, পরিবারের একজনের চাকরির পাশাপাশি ইস্পাত কারখানায় জমিদাতাদের সমমূল্যের শেয়ার দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জিন্দাল কর্তৃপক্ষ।
[আরও পড়ুন: মা হলেন ঋদ্ধিমা, পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনে খুশি দাদু ‘ফেলুদা’ সব্যসাচী]
বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর থেকে বাৎসরিক ডিভিডেন্ড পাওয়ার কথা ছিল জমিদানকারী কৃষকদের। কিন্তু শিলান্যাসের পরই একপ্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছিল পুরো প্রকল্প। কাঁচামাল জোগানের অভাব দেখিয়ে ইস্পাতশিল্প থেকে হাত গুটিয়ে নেয় জিন্দাল কর্তৃপক্ষ। ফলে জমিদাতাদের কারখানাকে ঘিরে সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পরবর্তীকালে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ওই ইস্পাত কারখানার জমিতে ধাপে ধাপে সিমেন্ট কারখানা ও ছোটখাট একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প করেছে জিন্দাল গোষ্ঠী। কিছু কর্মসংস্থানও হয়েছে।
আগামী দিনে জিন্দালদের রঙ কারখানা করার পরিকল্পনাও আছে ইস্পাত প্রকল্পের জমিতে। এর পরও বহু জমি বাড়তি থাকবে। বাড়তি সেই জমি জিন্দালরা ফিরিয়ে দেবে রাজ্য সরকারকে। সেই প্রক্রিয়াও চলছে। ফেরত পাওয়া সেই জমিতেই গড়ে উঠবে সৌরভের ইস্পাত শিল্প। ইস্পাত শিল্পের জমিতে ইস্পাত শিল্পই গড়ার দাবিতে সরব ছিলেন জমিদাতারা। সৌরভের ঘোষণায় যারপরনায় খুশি তাঁরা। খুশির হাওয়া রাজনৈতিক মহলেও। জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি সন্দীপ সিংহ বলেন, “ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠলে প্রত্যক্ষভাবেই দশ থেকে বারো হাজার কর্মসংস্থান হবে। তার উপর ইস্পাত শিল্পকে ঘিরে তৈরি হবে নানা অনুসারী শিল্প। সেখানেও কর্মসংস্থান হবে হাজার হাজার যুবকের।” ইস্পাত শিল্পের ঘোষণায় জঙ্গলমহলের যুবসমাজে কর্মসংস্থানের নতুন আশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা জমিদাতা চন্দন মানা বলেছেন, “ইস্পাত শিল্প কি জিনিস তা নিয়ে আমাদের কোনও ধারণা ছিল না। কিন্তু জমি দেওয়ার পর জিন্দাল কর্তৃপক্ষ জমিদাতাদের ৫০ জনকে কর্নাটক বেলারির ইস্পাতশিল্প পরিদর্শনে নিয়ে গিয়েছিল। কীভাবে কাজ হয় তা দেখিয়েছিল। খুব আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু পরে ইস্পাত শিল্প না হওয়ায় হতাশ হয়েছিলাম। দীর্ঘ ১৫ বছর হতাশাতেই দিন কেটেছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে আমরা ক্রিকেটার হিসেবে জানতাম তিনি যে শিল্পপতি হিসেবে আমাদের কাছে আসবেন তা ভাবতে পারিনি। তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছি।” ইস্পাত কারখানা গড়ে তুলতে সৌরভকে সবরকম সাহায্য করা হবে বলেই আশ্বাস স্থানীয়দের।
[আরও পড়ুন: সাধারণতন্ত্র দিবসে ‘পাঠান’, জন্মাষ্টমীতে ‘জওয়ান’ আর বড়দিনে ‘ডাঙ্কি’ ঝড়, সিলমোহর শাহরুখের]
সর্বশেষ খবর
-
‘আপনারা ওই…’, তরুণীদের উদ্দেশে ভারত-বিদ্বেষী মন্তব্য! অভিযুক্ত বাংলাদেশি ওয়েটার
-
১০০০০০’রও বেশি জওয়ান, ইতিহাসে সর্বাধিক আধাসেনা মোতায়েন! অমরনাথ যাত্রা যেন দুর্গ
-
দলবিরোধী কাজ! বর্ধমানে দুই পদ্ম নেতাকে শোকজ, সাময়িক বরখাস্ত
-
একাধিক পরকীয়া, রুশ বিজ্ঞানীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক! এপস্টেইন কাণ্ডে স্বীকারোক্তি বিল গেটসের
-
বনশালির ছবির সেটে মর্মান্তিক মৃত্যু, এফআইআরের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি