নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ফের সামনে এল মৃতদেহ আগলে পড়ে থাকার ঘটনা। এবার ঘটনাস্থল আলিপুরদুয়ার শহরের উদয়ন বিতান এলাকা। ১২-১৩দিন ধরে মৃত দিদির দেহ আগলে রাখলেন বোন। সোমবার বিকেলে দরজার তালা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় শহর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, বছর ৫৮-র লিপিকা দে ১২ থেকে ১৩ দিন আগেই মারা যান। তারপর থেকে ছোটবোন অলকানন্দা দে মৃতদেহ বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলেন। নিজেও সেই বাড়িতেই ছিলেন। সোমবার বিকালে অলকানন্দা বড়দিদি টুলটুলকে ফোন করে মেজদিদির মৃত্যুর খবর দেন। তারপর স্থানীয় পুরসভার কাউন্সিলর সুভাষ কর চৌধুরিকে ফোন করেন। এরপরেই বিষয়টি জানাজানি হয়। কাউন্সিলর দায়িত্ব নিয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
[দিল্লির ছবি ফিরল শিলিগুড়িতে, ধোঁয়ার জেরে শ্বাসকষ্টে কাবু বাসিন্দারা]
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ বলেন, “মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কতদিন আগে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে মৃতদেহের ওজন প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজি ছিল। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ছোটবোন কেন মৃতদেহ আগলে রেখেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক অনুমান, অলকানন্দাদেবী মানসিক ভারসাম্যহীন। তাই মৃতদেহ সৎকার না করে বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলেন। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আলিপুরদুয়ার আট নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন বিতান এলাকায় মূলত সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাস। তার মধ্যে এই বাড়িটি ভুতুড়ে প্রকৃতির। শতাব্দী প্রাচীন কাঠের একটি ঘরে তিনটি রুম। পাঁচকাঠা জমির উপর এই বাড়ির চারিদিকে ঝোপ-জঙ্গলে ভর্তি। বাড়িতে দুই বোন ও মা থাকতেন। গতবছরে মারা গিয়েছেন মা মঞ্জু দে। তারপর থেকে দু’বোনই থাকতেন। এবার মৃত্যু হল মেজবোন লিপিকা দেবীর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লিপিকাদেবীর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু ডিভোর্স হয়ে যায় অনেকদিন আগেই। তারপর থেকে বাপের বাড়িতেই বোন ও মায়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। মা মঞ্জুদেবী পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। বাবা নৃপেন্দ্রনাথ দে সরকারি কর্মচারী ছিলেন। মঞ্জুদেবীও বিবাহবিচ্ছিন্না। তাই মেয়েদের নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকতেন তিনি। বড় বোন পুরুলিয়া জেলা হাসপাতালে নার্সের চাকরি করেন। নাম টুলটুল দে। তিনিই খবর পেয়ে কাউন্সিলরকে ফোনে বিষয়টি জানান।
এদিন পুরুলিয়া থেকে টেলিফোনে টুলটুল বলেন, “আমি আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক, পুলিস সুপার, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বার বার লিখিতভাবে আমার দুই বোনের মানসিক চিকিৎসা করানোর আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কেউ কোনও উদ্যোগ নেননি। আমার মেজবোন লিপিকা শেষদিকে অত্যন্ত মারমুখি হয়ে উঠেছিল। আমাকে বাড়িতে ঢুকতে দিত না বোনেরা।” এই প্রসঙ্গে জেলা শাসক দেবীপ্রসাদ কর্ণম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে তারপর মন্তব্য করতে পারব।”
[নিউ দিঘার হোটেলে উদ্ধার যুগলের ঝুলন্ত দেহ, গ্রেপ্তার প্রেমিকের বাবা]
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতা, হাওড়ায় পুরভোট নভেম্বরের শেষেই! ৬০টি ওয়ার্ডে ভাগ হবে হাওড়া
-
১৬০ কোটির সন্দেহজনক লেনদেন, তৃণমূলের টাকাতেই বিমান-হেলিকপ্টার কেনে সংস্থা! প্রকাশ্যে বিস্ফোরক তথ্য
-
দাঙ্গায় মদত, অপপ্রচার! বারুইপুর কাণ্ডে সুজন-সহ ৪ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
-
ফের জ্বলছে হরমুজ! ২৪ ঘণ্টায় তৃতীয় জাহাজে হামলা, বিশ বাঁও জলে শান্তিচুক্তি
-
গুরুতর অসুস্থ রাজেশ শর্মা! ভর্তি হাসপাতালে, কী হয়েছে অভিনেতার?