দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: বছর তিনেক আগে হুগলির ব্যান্ডেলের রাজহাট এলাকা থেকে একটি ময়ূর অপহরণ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে যায় এক দুষ্কৃতী। কোনও ক্রমে বাঁশ ঝাড়ের মধ্যে ময়ূরটিকে ফেলে রেখে চম্পট দেয় সে। এরপর সেই মযূরটিকে আপন করে নেন গ্রামবাসীরা। পরিচর্যা করে সুস্থ করে তোলেন। সেই থেকেই গ্রামবাসীর সঙ্গে ময়ূরের সম্পর্কের সূচনা। তবে লকডাউনে ভালবাসার মানুষগুলোর মাঝে থেকেও অনিশ্চিত ময়ূরকূলের ভবিষ্যত। কারণ, খাদ্য সংকট। তাই ওদের বাঁচাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, গ্রামবাসীরা সকলে দিলেও মূলত কল্যা পরিবার নিয়ম করে ময়ূরদের খাবার দেয়। কিন্তু করোনার জেরে গোটা গ্রামে খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। নিজেদের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। মন্দিরা কল্যার কথায়,” সারাদিন আমাদের বাড়ির চারপাশ দিয়ে ঘুরে বেড়ায় ময়ূরগুলি, ছাদে উঠে নাচে। খাবারের জন্য বাড়ির বাচ্চারা যে রকম তার মায়ের পিছু পিছু ঘোরে, ঠিক তেমনই ওরাও পিছনে ছোটে। কিন্তু লকডাউনে ভাঁড়ার় শূন্য হতে বসেছে। তাই কতদিন খাবার জুটবে ময়ূরগুলির তা বলতে পারছি না।”
[আরও পড়ুন: ঘরে থাকলেই মিলবে শাড়ি! লকডাউনে মহিলাদের গৃহবন্দি করতে অভিনব পদক্ষেপ বনগাঁয়]

উপেন কল্যা বলেন, “এই ময়ূরেরা আমাদের পরিবারের সদস্য। কিন্তু আজ আমরা এতটাই অসহায় হয়ে গিয়েছি যে এদের কতদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারব তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় রয়েছি। আগে অনেকে রেশন থেকে গম তুলে আমাদের দিত। আমরা সেই গম ময়ূরকে খাওয়াতাম। কিন্তু এখন আর কেউ গম দিচ্ছে না। তাই যে কোনওদিন হুগলি থেকে অবলুপ্ত হয়ে যেতে পারে এই ময়ূর।” গ্রামবাসীদের আবেদন, প্রশাসনে তরফে এই ময়ূরদের বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হোক। নয়তো প্রকৃতির কোল থেকে হারিয়ে যাবে এই ময়ূরের দল।
[আরও পড়ুন: ‘মানুষ বোমা ফাটিয়ে যদি আনন্দ করে অন্যায়টা কী?’, সমালোচনায় পালটা প্রশ্ন দিলীপের]
সর্বশেষ খবর
-
মেট্রোপথে জুড়তে পারে কলকাতা স্টেশন, কবে মিলবে পরিষেবা?
-
আজ যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমাবেশ, সতর্ক প্রশাসন
-
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টস জিতল ভারত, অভিষেক তরুণ স্পিনারের, কেমন হল প্রথম একাদশ?
-
দিল্লিতে ‘শাহী’ সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, কী নিয়ে কথা হল দু’জনের?
-
১৩ কোটি টাকার দেনা! ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মহামেডানের নতুন সভাপতি হুমায়ুন কবির