সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: ছেলেধরা গুজবে রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই অশান্তির আবহ৷ রাজ্যবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আরজি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গুজব রুখতে নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে৷ বাড়ানো হয়েছে সচেতনতা প্রচার৷ তবে তাতেও আটকানো যাচ্ছে না স্রেফ সন্দেহের বশে মারধরের মতো নির্মম ঘটনা৷ এবার এই ঘটনার সাক্ষী পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির কেশুরকুন্দা বাজার৷
[সীমান্ত থেকে সাপের বিষ-সহ ধৃত নেপালের নাগরিক]
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় কেশুরকুন্দা বাজারের কালী মন্দিরের সামনে এক প্রৌঢ়কে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয়রা৷ মুখ চেনা না হওয়ায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়৷ তাঁকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ স্থানীয়দের দাবি, জেরায় নাকি সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি৷ তাই তাঁকে ছেলেধরা ভাবেন এলাকাবাসী৷ শুরু হয় গণধোলাই৷ বারবার কাকুতি মিনতি করলেও, তাতে কান দেননি কেউই৷ ইতিমধ্যেই এই খবর গিয়ে পৌঁছায় কাঁথি থানার পুলিশের কাছে৷ এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়৷ মারমুখী ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে ওই প্রৌঢ়কে উদ্ধার করেন পুলিশকর্মীরা৷ মারধরের জেরে শরীরের একাধিক জায়গায় চোট পেয়েছেন প্রৌঢ়৷ তাই প্রথমেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে৷ প্রাথমিক চিকিৎসাও করা হয় আক্রান্তের৷ পুলিশের দাবি, নিছক সন্দেহের বশেই মারধর করা হয়েছে ওই প্রৌঢ়৷ আদতে শিশু চুরির মতো কোনও ঘটনাতেই তাঁর যোগসাজশ নেই৷ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে৷ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ৷ তবে এখনও গ্রেপ্তার হয়নি কেউই৷
[চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, রোগীমৃত্যুতে কাঠগড়ায় কর্তব্যরত আয়া]
এদিকে, হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও উত্তপ্ত জগাছা৷ শিশুচোর সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাতে এক যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে৷ ওই যুবককে প্রাথমিক জেরা করে পুলিশ৷ তবে নিরপরাধ হওয়ায় রাতেই ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে৷ পুলিশের যুবককে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ স্থানীয়রা৷ অভিযোগ, কোণায় একটি আবাসনে গা ঢাকা দিয়েছে শিশুচোরেরা৷ এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কোণা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন তাঁরা৷ গুজবের জেরে গণপিটুনির ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যান রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ রায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পাশাপাশি নদিয়ার শান্তিপুরের শ্যামবাজারেও চোর সন্দেহে এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়৷ একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা যত ঘটছে, ততই সচেতনতামূলক প্রচারও বাড়ছে৷ তা সত্ত্বেও কেন এই ধরনের ঘটনায় লাগাম টানা যাচ্ছে না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন৷
সর্বশেষ খবর
-
ফের রক্তাক্ত নানুর! দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে চলল গুলি, মৃত ১, গ্রামে মোতায়েন পুলিশ
-
‘ভয়ংকর রকম কমে গিয়েছে’, ভারতের জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ মাস্কের
-
সিএবিতে ‘দাদাগিরি’, প্রভাব খাটিয়ে জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান! গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
-
এবার গরমের ছুটি! বর্ষার আগেই ঝেঁপে বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, কলকাতায় কালবৈশাখীর সতর্কতা
-
স্ট্যালিন আউট, বিজয় ইন! ইন্ডিয়া জোটে চমকের সম্ভাবনা, কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে পত্রবোমা সিপিএমের